তীব্র নদী ভাঙন, হুমকিতে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান - বিবিধ - Dainikshiksha

তীব্র নদী ভাঙন, হুমকিতে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

রংপুর প্রতিনিধি |

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সৃষ্ট বন্যার কিছুটা উন্নতি হলেও তিস্তার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েক দিনে দুই ইউনিয়নে একটি মসজিদ ও অন্তত ৩০ পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীনসহ রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অব্যাহত নদীভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। 

সরেজমিনে গতকাল সোমবার গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অব্যাহত ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যা হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। আগের দিন রবিবার রাত থেকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

কয়েক দিনে তিস্তার অব্যাহত ভাঙনে ৩০ পরিবারের ঘরবাড়ি এবং লক্ষ্মীটারী ইউনয়নের শংকরদহ এলাকায় একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে থাকা অন্য পরিবারগুলো ভাঙনের ভয়ে তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

পানির তোড়ে বিভিন্ন এলাকার রাস্তা ও ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে কোলকোন্দ ইউনিয়নের সাউদপাড়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন পরিচালিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল আনন্দলোক বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীটারী ইউনয়নের শংকরদহ (পুরনো) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

সাউদপাড়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় আসতে গতকাল বাঁশের ওপর দিয়ে কোনো রকমে পার হচ্ছিল শিক্ষার্থীরা। মাদরাসার অধ্যক্ষ রোকনউজ্জামান জানান, পানির তোড়ে সংযোগ সড়ক ভেঙে যাওয়ায় কয়েক দিন ধরে মাদরাসায় আসা-যাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষসহ এলাকাবাসীর উদ্যোগে গত রবিবার ভাঙা সড়কে বাঁশ টাঙিয়ে কোনো রকমে চলাচল করতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উল্লেখ করে অধ্যক্ষ জানান, অব্যাহত তিস্তার ভাঙনে বৃহৎ এই মাদরাসাটিও হুমকির মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতলবিশিষ্ট শংকরদহ (পুরনো) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ভাঙন থেকে স্কুল রক্ষায় স্থানীয়ভাবে বাঁশের পাইলিং ও বালুর বস্তা ডাম্পিং করা হচ্ছে। তার পরও দ্বিতল ভবনের এই বিদ্যালয়টি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় আছে এলাকাবাসীসহ কর্তৃপক্ষ।

এলাকাবাসী জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে তিস্তার পানি বাড়ার কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় শংকরদহ (পুরনো) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়ে। প্রতিদিন ভাঙন এসে লাগছে স্কুলের দিকে। সেই সঙ্গে তিস্তার ভাঙন থেকে স্কুলের দূরুত্ব কমে আসছে। আর মাত্র ২০ ফুট অংশ ভাঙলেই তিস্তায় বিলীন হবে স্কুলটি। বর্তমানে এ স্কুলে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যা ২০১৩-১৪ অর্থবছরে নির্মাণ করা হয়।

এ ছাড়া বন্যায় আনন্দোলোক বিদ্যালয় সংযোগ সড়ক, শংকরদহ চরের সংযোগ সড়কে জোড়া ব্রিজ, মহিপুর-কাকিনা সড়কের শংকরদহ স্কুলের পাশে ব্রিজের সংযোগ সড়ক পানির তোড়ে ভেঙে গেছে। এতে বিশেষ করে চরাঞ্চলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ - dainik shiksha আসছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন কাল - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন কাল মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা - dainik shiksha মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের মানববন্ধন - dainik shiksha এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের মানববন্ধন ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল আজ - dainik shiksha ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল আজ শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website