অদ্বৈতকে ঢুকতে দেয়া হবে না রাজেন্দ্র কলেজে - বিবিধ - Dainikshiksha

জিপিএ ফাইভ বিক্রেতাঅদ্বৈতকে ঢুকতে দেয়া হবে না রাজেন্দ্র কলেজে

রুম্মান তূর্য |
জিপিএ ফাইভ বিক্রি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তা অদ্বৈত কুমার রায়কে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজে বদলি করা হয়েছে, এমন খবরে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী।  দুর্নীতিগ্রস্ত কোনো কর্মকর্তাকে কলেজের শিক্ষক হিসেবে মেনে নিতে পারবেন না বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তারা। ঐতিহ্যবাহী রাজেন্দ্র কলেজের ফেসবুক পেইজ “শতবর্ষী রাজেন্দ্র কলেজ: আমার ভালোবাসা” নামের ফেসবুক পেইজে আব্দুল্লাহ বিপ্লব লিখেছেন, জিপিএ-৫ মহাজন অদ্বৈত বাবু নাকি প্রাণের রাজেন্দ্র কলেজে যোগ দিচ্ছেন। এতো মনিষীর মাঝে এমন একটা পচা মালের নাম থাকবে! প্রতিবাদ হোক, যাতে কলঙ্কিত না হয় আমাদের প্রাণের কলেজ।’
 এরপরই পেজটিতে প্রতিবাদের ঝড় বইতে থাকে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ নানা মন্তব্য করছেন।
 
সোহেল মাহবুব নামের রাজেন্দ্র কলেজের প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘আমরা কি ডাস্টবিন নাকি? আমাদের কেন পচা মাল গছিয়ে দেয়া হবে?’
সুলতানা মনিরা লিখেছেন, ‘চাই না এমন অসৎ লোক।’
 
রাজেন্দ্র কলেজের আর এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম তার মন্তব্যে বলেন, ‘জুতার মালা দিয়ে শুরু করা হোক।’ 
 
অদ্বৈত কুমার রায়কে শিক্ষা ‘দৈত্য’ আখ্যা দিয়ে হাজী আবুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ এবং  ঢাকা মাধ্যমিক  ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক ফয়সাল ইবনে মোস্তফা বলেন, ‘অদ্বৈতকে পদ্মা পাড়ি দিতে দিবো না।’ 
 
আইয়ুব আলী নামের এক ব্যক্তি তার মন্তব্যে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর কি কোন প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই? প্রমাণ স্বরুপ এত বড় দুর্নীতির পরেও তার চাকরি থাকে কিভাবে?
 
ইমরান হোসেন নামের এক শিক্ষক তার মন্তব্যে বলেন, ইনি ফরিদপুরে অসলে শিক্ষার বারোটা বাজিয়ে দিবেন। ইনাকে ফরিদপুরে ঢুকতে না দেয়াটাই শ্রেয়।’
 
তাহনিম মাহমুদ লিখেছেন, ‘এই নোংরা আবর্জনার কোনো বিচার কি হবে না? কী অদ্ভুত আমাদের দেশ। এত বড় একটা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরেও বিচার না হয়ে ঐতিহ্যবাহী কলেজে পোস্টিং। ও কী শেখাবে ছাত্রদের? ওর নিজেরই তো কোন নৈতিকতা নাই। ওকে নতুন করে পাঠশালায় ভর্তি করাতে হবে।’
 
শিব শংকর মণ্ডল মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের প্রাণের কলেজে এমন অসৎ চরিত্রের শিক্ষক চাই না- এই পদায়নের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি ‘
 
সুধাংশু বিশ্বাস লিখেছেন, কুলাঙ্গার শিক্ষককে পূর্বে এ কলেজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার রেকর্ড আছে। তাই তীব্র প্রতিবাদের পক্ষে বলছি, কলেজ প্রশাসন সব জেনেও ওনাকে যেন কলেজের গেট মাড়াতে না দেয়। জেনে শুনে তো আর বিষপান করা যায় না।‘
তারিকুল হিমেল লিখেছেন, কোনভাবেই ওকে মেনে নেবে না ফরিদপুর বাসি ও ছাত্রছাত্রীরা। এটা আমার বিশ্বাস। পরিচ্ছন্ন এই ফরিদপুর এ কোন চোরের জায়গা নাই।’
 
তাহমিনা আক্তার মন্তব্য করেছেন, এতো জেলা থাকতে প্রশাসনকে এই অসভ্যটাকে কিনা ফরিদপুর দিতে হলো? ওএসডি করে রাখলেই পারত। পরিবেশ নষ্ট।’
 
শাহিদ হাসান লিখেছেন, এই জিপিএ- ৫ বি‌ক্রেতা য‌দি আমা‌দের হৃদয়ের স্পন্দন রা‌জেন্দ্র বি ক‌লে‌জে যোগদান ক‌রে বাংলা‌দে‌শের ১৬ কো‌টি মানুষ আঙুল তুল‌বে। এত বড় সুপার স্টার ব্য‌ক্তি‌কে কোন বি‌দেশী মিশ‌নে পা‌ঠি‌য়ে দেওয়া হোক যা‌তে বি‌দেশ থে‌কে ভুয়া ও জাল ভিসা পাঠা‌তে পা‌রে । তাই এই জা‌লিয়াত যা‌তে ফ‌রিদপুর ঢুক‌তে না পা‌রে।
 
উল্লেখ্য, দৈনিকশিক্ষা ডটকম এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে গত ৯ জুন  ‘বিক্রি হচ্ছে জিপিএ ফাইভ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার হয়। ওই প্রতিবেদনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকার একজন উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত কুমার রায় এবং বোর্ডের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তাসহ উত্তরা এলাকার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-প্রধান জিপিএ ফাইভ বিক্রির সাথে জড়িত মর্মে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে টাকার বিনিময়ে জিপিএ ফাইভ বিক্রির অভিযোগের খবরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অদ্বৈত কুমার রায়কে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার পর এবার তার দুই সহযোগীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ জুন) ঢাকা বোর্ডের সেকশন অফিসার কামরুল ইসলাম এবং উচ্চমান সহকারী আব্দুল মমিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
 
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সোমবার (১১ জুন) চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহামুদ-উল-হক কমিটির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করবেন। 

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব আহমদ শামীম- আল রাজী এবং উপসচিব আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন। জিপিএ ফাইভ বিক্রি অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড রোববার (১০ জুন) পৃথক একটি তদন্ত কমিটি করে।

 

স্কুল-কলেজে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর - dainik shiksha স্কুল-কলেজে চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩৫ বছর এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি - dainik shiksha এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি চতুর্দশ শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা ২৪ জুন - dainik shiksha চতুর্দশ শিক্ষক নিবন্ধনের মৌখিক পরীক্ষা ২৪ জুন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তথ্য চেয়ে গণবিজ্ঞপ্তি দাখিল-২০২০ পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশ - dainik shiksha দাখিল-২০২০ পরীক্ষার মানবণ্টন প্রকাশ ইবতেদায়ি সমাপনীর মানবণ্টন প্রকাশ - dainik shiksha ইবতেদায়ি সমাপনীর মানবণ্টন প্রকাশ জেএসসির চূড়ান্ত সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ - dainik shiksha জেএসসির চূড়ান্ত সিলেবাস ও মানবণ্টন প্রকাশ জেএসসির বাংলা নমুনা প্রশ্ন প্রকাশ - dainik shiksha জেএসসির বাংলা নমুনা প্রশ্ন প্রকাশ একাদশে ভর্তির আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ও ফল প্রকাশের সময়সূচি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website