অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিচার চাইলেন শিক্ষকরা - বিবিধ - Dainikshiksha

অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিচার চাইলেন শিক্ষকরা

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি |

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে বিচার চেয়েছেন ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ। অধ্যক্ষের অনিয়মের প্রতিকার ও এর বিচারের দাবিতে আজ শুক্রবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১ টায় মহানগরীর বিজিবি সীমান্ত অবকাশ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে গোদাগাড়ী কলেজের সমাজ কল্যাণ বিভাগের প্রভাষক মোঃ হান্নান বলেন, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান তার শ্যালক মোঃ সেলিম হাসান কে গোদাগাড়ী কলেজে মনোবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়েছে। সেলিম হাসান ২০১৫ সালের ১৯ মার্চ গোদাগাড়ী কলেজে যোগদান করেন। তৎপরবর্তী ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের ২৭ জুন তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম বাগডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এরুপ অবস্থায় অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান তার শ্যালককে গোদাগাড়ী কলেজ থেকে পদত্যাগ না করিয়ে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে জাতীয়করণ প্রক্রিয়ায় সেলিম হাসানের নাম ও কাগজপত্র মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করেন। এছাড়াও সম্প্রতি ডিজি থেকে ৩য় শিক্ষকের নাম চাওয়া হলে সেখানেও সেলিম হাসানের নাম পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান কলেজের বহুটাকা আত্মসাৎ করেছেন। কলেজে কোন বেঞ্চ না বানিয়ে তিনি ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে ২লক্ষ ৪৬৫ টাকা অত্মসাৎ করেন।  এভাবে তিনি লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।এছাড়াও অভ্যন্তরীন বিভিন্ন পরীক্ষা  অসময়ে গ্রহ করে থাকেন। ফলে পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম হয় কিন্তু ফরম পুরনের সময় তাদের পরীক্ষার ফি আদায় করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলন থেকে আরও জানা যায়,  শিক্ষার্থীদের পোষাক প্রদানের নামে অধ্যক্ষ প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। গভর্নিং বডির  অনুমোদন না থাকলেও তিনি এই অপকর্মটি দীর্ঘ দিন থেকে করে আসছেন । উপবৃত্তি প্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে কোন বেতন না নেওয়ার বিধান থাকলেও তিনি তাদের বেতন নিয়ে থাকেন। এবং বিভিন্ন বিল ভাউচার দেখিয়ে বেতনের টাকা আত্মসাৎ করেন। 

অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক তারেক আজিজের প্রতিমাসের বেতনের ১০ হাজার টাকা নিজে উত্তোলন করে ১০ মাসের বেতন ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অধ্যক্ষকে গভর্নিং বডি থেকে কারণ দর্শানো নোটিসে কেন তিনি তারেক আজিজের টাকা উত্তোলন করে ভোগ করেন জানতে চাওয়া হলে অধ্যক্ষ তড়িঘড়ি  করে গত ১৪ আগস্ট ২০১৮ তারিখে একুইটেন্স বহিতে তারেক আজিজের স্বাক্ষর নিয়ে সত্যকে ধামাচাপা দেয়ার অপপ্রয়াস চালান। এই অপকর্মের দায়িত্ব সকল শিক্ষক ও কর্মচারীর সামনে তিনি স্বীকার করেছেন তিনি।

 এছাড়াও ২২ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা করে নিয়েছেন প্রত্যেকের কাছ থেকে। এসব টাকার কোনো হিসাব নেই কলেজের ফান্ডে। 

এদিকে অধ্যক্ষ আবদুর রহমানের দাবি, তিনি শিক্ষক নিয়োগ করে কোনো টাকা নেননি। অনুদান হিসেবে যে টাকা নিয়েছেন, তা যথাযথভাবে কলেজের উন্নয়নে খরচ করা হয়েছে। শিক্ষকদের একটি পক্ষ তাকে ফাঁসাতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছে।  

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, গোদাগাড়ী সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ উমরুল হক, বাংলা বিভাগের সহাকারি অধ্যাপক মোঃ মুজ্ঞুর রহমান, দর্শণ বিভাগের প্রভাষক মোঃ মাইনুল ইসলাম, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবিএম কামারুজ্জামান, বিএম শাখার প্রভাষক মোঃ মাঝহারুল ইসলাম, মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রদর্শক মোঃ ফারুক হোসেনসহ অনেক শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ। 

 

এমপিওভুক্তিতে প্রতারণা: মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে প্রতারণা: মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি অক্টোবরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha অক্টোবরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নতুন এমপিওভুক্তি: প্রতিষ্ঠান সরেজমিন যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha নতুন এমপিওভুক্তি: প্রতিষ্ঠান সরেজমিন যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পদোন্নতি পেলেন ৪২০ সহকারী শিক্ষক - dainik shiksha পদোন্নতি পেলেন ৪২০ সহকারী শিক্ষক ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ - dainik shiksha ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website