অধ্যক্ষের নির্দেশেই নুসরাতকে পোড়ানোর মিশনে অংশ নেয় চারজন: পিবিআই - বিবিধ - Dainikshiksha

অধ্যক্ষের নির্দেশেই নুসরাতকে পোড়ানোর মিশনে অংশ নেয় চারজন: পিবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ফেনীর সোনাগাজীতে হত্যার শিকার মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় শাহাদত হোসেন শামীম। শামীম সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ছাত্রলীগের সভাপতি। সে ছাড়াও ঘটনার সময় মাদরাসা সংলগ্ন সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে উপস্থিত ছিলো আরো তিনজন। এর বাইরেও একজন ছাত্রী নুসরাতকে পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে ছাদে ডেকে আনে। তবে ওই ছাত্রীর উপস্থিতি ছাদে ছিলো কি না সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

পিবিআইয়ের ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ছাদে চারজন ছিলেন। এদের মধ্যে একজনের নাম শম্পা অথবা চম্পা হতে পারে। বাকি দুইজনও বোরখা পরিহিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই দুইজন পুরুষ।

ঘটনার ধারা বিবরণী দিয়ে ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার জানান, এর আগে গত ৪ এপ্রিল কারাগারে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সঙ্গে দেখা করেন নুর উদ্দিন। কথোপকথনে সিরাজ নুর উদ্দিনকে বলেন, তোরা আমার জন্য কি করলি? মূলত এরপরেই ৫ এপ্রিল মাদরাসার পশ্চিম হোস্টেলে একটি পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পাঁচজন উপস্থিত ছিলো। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নুসরাতকে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়। সেই অনুযায়ী তিনটি বোরখা ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেয়া হয় এক ছাত্রীকে। কেরোসিন আনার দায়িত্ব দেয়া হয় আরেকজনকে। এ কাজে ওই মাদরাসার তিনজন ছাত্র ও দুইজন ছাত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়।

পরে ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা শুরুর আগ দিয়ে কেরোসিন ও বোরখা নিয়ে সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে নিয়ে যায় এক ছাত্রী। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে নুসরাত পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করলে আরেক ছাত্রী ক্লাস রুমে নুসরাতকে জানায় যে, তার বান্ধবী নিশাতকে কারা যেন ছাদে মারছে। এই কথা শুনে নুসরাত সাইক্লোন সেন্টারের ছাদে যায়। আগেই এক ছাত্রীসহ চারজন বোরখা পড়ে সাইক্লোন সেন্টারের টয়লেটে লুকিয়ে ছিলো। নুসরাত ছাদে যাওয়ার পর তারা টয়লেট থেকে বের হয়ে নুসরাতকে জাপটে ধরে। এরমধ্যে শাহাদত হোসেন শামীম ওড়না দিয়ে নুসরাতের হাত বেঁধে ফেলে। তারপর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেয়ার পর তারা পালিয়ে যায়।

ডিআইজি বলেন, সাইক্লোন সেন্টারের ছাদ চারিদিকে ৫ ফিট ১০ ইঞ্চি দেয়াল দিয়ে ঘেরা। ফলে শরীরে আগুন লাগার পরও নুসরাতের লাফিয়ে পড়ার সুযোগ ছিলো না। নুসরাত সিঁড়ি বেয়ে চিত্কার করতে করতে নিচে নেমে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, যারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে তারা মাদরাসাতেই আত্মগোপন করে। এরপর লোকজন ভিড় করলে তারা পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় শাহাদহ হোসেন শামীমকে আমরা এখনো গ্রেফতার দেখাইনি। অন্যান্য আসামিদেরও ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, জোবায়ের আহমেদ, জাভেদ হোসেন ও মাদরাসার প্রভাষক আফসার উদ্দিন। শাহাদত হোসেন শামীমকে গ্রেফতার দেখানো হলে মোট গ্রেফতারকৃত আসামির সংখ্যা হবে সাতজন। এজহার নামীয় একজন আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। তার নাম আবদুল কাদের। এই ঘটনায় আমরা একজন ছাত্রীকেও আটক করেছি।

ঘটনার পেছনের সূত্রের বর্ণনা দিয়ে ডিআইজি বলেন, নুর উদ্দিন মাদরাসায় অধ্যক্ষের বিশ্বস্ত সহযোগী এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি। সে নিজেও নুসরাতের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু ব্যর্থ হয়। এই ঘটনার জের ধরে কিছুদিন আগে নুসরাতকে চুনকালি দেয়া হয়। ওই ঘটনায় নুসরাত অসুস্থ হয়ে পাহাড়তলী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলো। শাহাদত হোসেন শামীমও বহুবার নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে এবং বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ক্ষুব্ধ হয়ে শামীম বিষয়টি নিয়ে নুর উদ্দিনের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে। এরই মধ্যে গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতের শ্লীতাহানী করে। এই ঘটনায় অধ্যক্ষ গ্রেফতার হলে মাদরাসায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে দুটি পক্ষের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে শামীম ৫ এপ্রিল একটি পরিকল্পনা বৈঠক করে।

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর হচ্ছে নীতিমালা - dainik shiksha শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর হচ্ছে নীতিমালা প্রাথমিকে ৬১ হাজার শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হবে - dainik shiksha প্রাথমিকে ৬১ হাজার শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হবে দৈনিকশিক্ষার প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরকে ওএসডি - dainik shiksha দৈনিকশিক্ষার প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরকে ওএসডি প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার রুটিন - dainik shiksha প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার রুটিন ভিকারুননিসায় ৪৪৩ অতিরিক্ত ভর্তি, সাবেক অধ্যক্ষকে শোকজ - dainik shiksha ভিকারুননিসায় ৪৪৩ অতিরিক্ত ভর্তি, সাবেক অধ্যক্ষকে শোকজ তিন শর্তে অস্থায়ী এমপিও পাচ্ছে ১৭৬৩ প্রতিষ্ঠান, আলাদা পরিপত্র - dainik shiksha তিন শর্তে অস্থায়ী এমপিও পাচ্ছে ১৭৬৩ প্রতিষ্ঠান, আলাদা পরিপত্র প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি করতে হবে চর এলাকায়, আসছে চর ভাতা - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি করতে হবে চর এলাকায়, আসছে চর ভাতা বিএড ৩য়-৫ম সেমিস্টারের ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৫ আগস্ট থেকে - dainik shiksha বিএড ৩য়-৫ম সেমিস্টারের ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৫ আগস্ট থেকে সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শুরু ১০ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শুরু ১০ সেপ্টেম্বর এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর - dainik shiksha এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে ঢাবিতে ১ম বর্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha ঢাবিতে ১ম বর্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website