আগামী বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা - ভর্তি - দৈনিকশিক্ষা

আগামী বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা' চালুর বিষয়ে একমত হয়েছেন উপাচার্যরা। এজন্য নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করবেন তারা। এ পদ্ধতি চালু হলে শিক্ষার্থীদের একটিমাত্র ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পৃথক পৃথক পরীক্ষায় আর অংশ নিতে হবে না। এতে তাদের ভোগান্তি কমবে এবং অর্থ সাশ্রয় হবে। এবছর শুধু দেশের সাতটি কৃষি-সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে একক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন 'বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদে'র স্ট্যান্ডিং কমিটির ২৬০তম সভায় সমন্বিত পরীক্ষা নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কামাল উদ্দিন আহম্মেদ। 

ভর্তিচ্ছুদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা চালু করার। এ বিষয়ে এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সব বিশ্ববিদ্যালয়কে গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহার কারণে তা চালু করা যাচ্ছিল না। বিশেষ করে ভর্তি পরীক্ষার ফরম বিক্রি বাবদ কোটি কোটি টাকার আয় ছাড়তে নারাজ ছিল বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়। 

সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, শিক্ষার্থী ভর্তিতে আগামী বছর থেকে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গুচ্ছ পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হবে। গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। সমস্যা হচ্ছে কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয় তারা নিজেরা নিজেদের পরীক্ষা নিতে চায়। তবে উপাচার্যদের একটি পরিষদ আছে, তারা আলাপ-আলোচনা করছেন, আশা করছি এ বছরের মধ্যে ইতিবাচক ফল পাব। আগামী বছর থেকে আমরা একেবারে সব বিশ্ববিদ্যালয় না হলেও অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এই ব্যবস্থাটি চালু করতে পারব বলে আশা করছি।

বর্তমান ব্যবস্থায় ভর্তির প্রক্রিয়ার সমস্যার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে নানা ধরনের সমস্যায় পড়ে। আমরা শুনেছি ছাত্ররা রাতে থাকার জায়গা না পেয়ে মসজিদে অবস্থান করে। আর মেয়েরাতো তাও পারে না। সরকারী-বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজে একটি পরীক্ষার মাধ্যমেই সবার ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্তত গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হওয়া প্রয়োজন বলে আমরা আশা করছি। এ নিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাব।

গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি চালুর বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লাভ-লোকসানের বিষয় আছে সেটা আমাদের কাছে মুখ্য নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়াটি সহজ করা। একজন শিক্ষার্থী পাঁচটি বা সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে সারাদেশে ছুটে বেড়াচ্ছে। এটা কঠিন। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের তো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম তুলে সারাদেশে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা দেয়া কঠিন। এসব শিক্ষার্থী সঙ্কটের মধ্যে পড়ে যাবে সেটা কাম্য নয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কথা বলে আগে জানা গেছে, মূলত বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আপত্তির কারণে গেল বছরের মতো এবারও ভেস্তে গেছে এ প্রক্রিয়া।

গতকাল ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল কাশেম  সাংবাদিকদের বলেন, প্রস্তাব ছিল 'গুচ্ছভিত্তিক' ভর্তি পরীক্ষা চালুর। তবে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, গুচ্ছভিত্তিক নয়, আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য 'অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষা' চালু করা হবে। এতে তিনটি মাত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের জন্য তিনটি পৃথক পরীক্ষা তিন দিনে অনুষ্ঠিত হবে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের বাড়ির নিকটবর্তী যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেই ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবেন। 

গুচ্ছভিত্তিক পরীক্ষা হলে সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি, সব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি, সমমানের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। তবে উপাচার্যরা অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষার বিষয়েই একমত হয়েছেন। 

জানা গেছে, পাঁচটি কৃষি এবং দুটি কৃষি-সংশ্নিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এ বছর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের ব্যাপারে পরিষদের সভায় একমত পোষণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হচ্ছে- ঢাকার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গুচ্ছে আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তারা দ্বিমত প্রকাশ করে বেরিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

সভা সূত্র জানায়, এ বছর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতির এই প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দেবে। পর্যায়ক্রমে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লিখিত বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৭টি বিভাগ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলোতে মেধা ও পছন্দভিত্তিক শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। ভর্তিচ্ছু একজন শিক্ষার্থী কোন কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দেবে, তাও তাদের পছন্দের ভিত্তিতে ঠিক করা হবে। এখন কোন প্রক্রিয়ায় ভর্তির আবেদন নেওয়া হবে, ফি কত টাকা হবে ইত্যাদি বিষয়ে উপাচার্যদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আগামী ২৯ জুলাই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ সূত্র জানিয়েছে, গত বছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি গুচ্ছভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে বিস্তারিত প্রতিবেদন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পেশ করেছে। তাতে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব আছে। ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে যেসব গুচ্ছবদ্ধ করার কথা আছে সেগুলো হচ্ছে- কৃষি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে পরিষদের সভায় গতকাল আরও অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহাম্মেদসহ ২৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা।

এদিকে শাবি প্রতিনিধি জানান, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) প্রথম বর্ষ স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার একাডেমিক কাউন্সিলের ১৫৬তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা অতিরিক্ত কর্তন : কথা রাখেননি সিনিয়র সচিব (ভিডিও) - dainik shiksha অতিরিক্ত কর্তন : কথা রাখেননি সিনিয়র সচিব (ভিডিও) প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল ২০ ডিসেম্বর মধ্যে - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল ২০ ডিসেম্বর মধ্যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালুর দাবি জানালেন নিবন্ধনের প্রার্থীরা (ভিডিও) - dainik shiksha এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি চালুর দাবি জানালেন নিবন্ধনের প্রার্থীরা (ভিডিও) আত্তীকরণে গড়িমসি, শিক্ষামন্ত্রীকে গোঁজামিল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা কর্মকর্তাদের - dainik shiksha আত্তীকরণে গড়িমসি, শিক্ষামন্ত্রীকে গোঁজামিল দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা কর্মকর্তাদের এমপিও নীতিমালা সংশোধন সংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাব - dainik shiksha এমপিও নীতিমালা সংশোধন সংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাব দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় - dainik shiksha দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website