আফগানদের বিপক্ষে টাইগারদের দাপুটে জয় - খেলাধুলা - Dainikshiksha

আফগানদের বিপক্ষে টাইগারদের দাপুটে জয়

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

সহ-অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের অসাধারণ নৈপুণ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে ৬২ রানের ব্যবধানে। 

আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় ২৬২ রানের লড়াকু পুঁজি। সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২০০ রানে। টাইগাররা জয় পায় ৬২ রানের ব্যবধানে।

লক্ষ্য ২৬৩ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে'র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।

পরের ১০ ওভারে ৩০ রানের জুটি হাসমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদিন নাইবের। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলা হাসমতউল্লাহ শহীদি ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান। তবে মোসাদ্দেকের ওভারের পঞ্চম বলেই পড়েন স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে। পা-টা একটু বেরিয়ে এসেছিল শহীদির। মুশফিক চোখের পলকে স্ট্যাম্পিং করে দেন। ৩১ বল খেলে শহীদি তখন ১১ রানে।

নেতৃত্বের ঝলক দেখালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওপেনিংয়ে নেমে গুলবাদিন নাইব যেন মাটি কামড়ে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিকে আটকা পড়ে গেলেন আফগান অধিনায়ক।

শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। চোখের পলকে সেই ক্যাচটি নিয়ে নেন লিটন। আফগান অধিনায়ক ৭৫ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এক বুক হতাশা নিয়ে।

ওই ওভারেই শূন্য রানে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করেন সাকিব। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের করা আর্মার ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি নবী। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গোলে তা সরাসরি আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান নবী।

অনেকক্ষণ ধরে উইকেটে থিতু হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। রানরেটের চাপটাও টের পাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তাই তো ইনিংসের ৩৩তম সাকিবের বলকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে বসেন তিনি।

ফল হয় যা হওয়ার তাই। জায়গামতো দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত হন আসগর। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন তিনি। এরপর সরাসরি থ্রোতে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটন দাস।

তবে সপ্তম উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধের আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ফেলেন ৫৬ রানের জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে ফের বল হাতে হাজির হন সাকিব।

ইনিংসের ৪৩তম ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নাজিবউল্লাহ। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক বল গ্লাভসে জমিয়ে উইকেট ভাঙতে সময় নেননি একদমই।

এ উইকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। তার আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব দেখান যুবরাজ সিং।

সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়। মাঝে রশিদ খানকে মাশরাফির হাতে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। সাকিবের স্পেল শেষ হবার পর দাওলাত জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার।

ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আফগানরা। তবু একা খানিক লড়াই করেন শিনওয়ারি। কিন্তু অপরপ্রান্তে মুজি উর রহমান আউট হয়ে গেলে তিনি অপরাজিত থেকে যান ৪৯ রানে। ইনিংসের ৩ ওভার বাই থাকতেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা। 

এর আগে ৭ উইকেটে ২৬২ রানের পুঁজি গড়তে পারে বাংলাদেশ। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় টাইগাররা। ইনিংসের ৪ ওভার পেরোতেই আউট লিটন দাস। দলের রান তখন মাত্র ২৩। যদিও ক্যাচটা বিতর্কিত ছিল।

বলটা মনে হচ্ছিল, মাটিতে লেগেছে। টিভি আম্পায়ার আলিম দার কয়েকবার রিপ্লে টেনে টেনে দেখলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আউটের সিদ্ধান্তই দিলেন। মুজিব উর রহমানের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন।

শর্ট কভারে হাসমতউল্লাহ শহীদি ক্যাচটা নেয়ার পরও লিটন ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আলিম দারও নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ক্যাচটা আসলে মাটিতে লেগেছে কিনা। একবার মনে হচ্ছিল, বলের নিচে আঙুল আছে। আরেক দিক থেকে মনে হচ্ছিল, মাটিতে বলের ছোঁয়া লেগেছে। ভাগ্যটা লিটনের বিপক্ষেই গেছে।

অথচ লিটনের শুরুটা হয়েছিল বেশ ভালোই। মূলত ওপেনিং জুটিতে তিনিই ভালো খেলছিলেন। ১৭ বলে ২ বাউন্ডারিতে ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান করেন ১৬ রান। ২৩ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ৬১ বলে ৫১ রানের জুটি তামিম ইকবাল আর সাকিব আল হাসানের।

১ উইকেটে ৭৪ রানে পৌঁছে যাওয়া টাইগাররা ১৫তম ওভারের শেষ বলে এসে তামিমকে হারিয়ে বসে। মোহাম্মদ নবীর বলটি ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন টাইগার ওপেনার, ৫৩ বলে ৪ বাউন্ডারিতে তামিম করেন ৩৬ রান।

পরের ওভারে রশিদ খানের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আবারও আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। এবার সাকিব রিভিউ নিয়ে জিতে যান। বল দেখা যায় স্ট্যাম্পের উপর দিয়ে চলে যেত।

তৃতীয় উইকেটে ৬১ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন সাকিব-মুশফিক। সাকিব একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও ৩০তম ওভারে এসে বাঁচতে পারেননি। মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন তিনি। ৬৯ বলে গড়া সাকিবের ৫১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংসটিতে ছিল মাত্র একটি বাউন্ডারির মার।

মুজিবের পরের ওভারে আবারও ঝলক। এবার তিনি ফিরিয়ে দেন ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডারে আসা সৌম্য সরকারকে। এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সৌম্য করেন মাত্র ৩ রান। ১৫১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন ফের বিপদে বাংলাদেশ।

এরই মধ্যে পায়ের কাফে টান পড়ে নতুন ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহর। তিনি তখন মাত্র ৩ রানে। টাইগার সমর্থকরা ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন। তবে মাহমুদউল্লাহ ওই ব্যথা নিয়েই ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন।

পঞ্চম উইকেটে মুশফিক আর মাহমুদউল্লাহ যোগ করেন ৫৬ রান। ৩৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ গুলবাদিন নাইবের শিকার হন।

এমন উত্থান পতনের মধ্যে একটা প্রান্ত ধরে দলকে টেনে নিয়ে গেছেন মুশফিক। ষষ্ঠ উইকেটে মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে ৩৩ বলে ৪৪ রানের জুটি তার। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু ইনিংসের ৪৯তম ওভারে এসে দৌলত জাদরানের বলে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে যান মুশফিক। ৮৭ বলে ৪ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় তখন তিনি ৮৩ রানে।

এরপর মোসাদ্দেক শেষের কাজটা করে দিয়েছেন। ২৪ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে একদম শেষ বলে আউট হয়েছেন ডান হাতি এই ব্যাটসম্যান।

আফগানিস্তানের পক্ষে মুজিব উর রহমান ৩টি আর গুলবাদিন নাইব নিয়েছেন ২টি উইকেট।

কারিগরি শিক্ষায় আরো অর্থ বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha কারিগরি শিক্ষায় আরো অর্থ বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিবছরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha প্রতিবছরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে : শিক্ষামন্ত্রী সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: ভিপি নুর - dainik shiksha সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন: ভিপি নুর বিসিএসে সুযোগ ৩২ বছর পর্যন্ত কেন নয় : হাইকোর্ট - dainik shiksha বিসিএসে সুযোগ ৩২ বছর পর্যন্ত কেন নয় : হাইকোর্ট শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ভবিষ্যতে : প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড ভবিষ্যতে : প্রতিমন্ত্রী শিক্ষা আইনের খসড়া : শিক্ষকদের কোচিং-টিউশন বন্ধ হলেও চলবে বাণিজ্যিক কোচিং - dainik shiksha শিক্ষা আইনের খসড়া : শিক্ষকদের কোচিং-টিউশন বন্ধ হলেও চলবে বাণিজ্যিক কোচিং ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসবে প্রায় ১২ লাখ - dainik shiksha ১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বসবে প্রায় ১২ লাখ ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন - dainik shiksha ঢাকা-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বৃত্তিপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ - dainik shiksha বৃত্তিপ্রাপ্ত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ সরকারিকরণ : ১৬ কলেজের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা - dainik shiksha সরকারিকরণ : ১৬ কলেজের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা যেভাবে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা - dainik shiksha যেভাবে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচবেন যেভাবে - dainik shiksha করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচবেন যেভাবে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের কলেজের সংশোধিত ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের কলেজের সংশোধিত ছুটির তালিকা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা ২০২০ খ্র্রিষ্টাব্দে মাদরাসার ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্র্রিষ্টাব্দে মাদরাসার ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন please click here to view dainikshiksha website