আলোকিত জীবনের উপকরণ বই - মতামত - Dainikshiksha

আলোকিত জীবনের উপকরণ বই

আবু সালেম হোসাইন |

অজানাকে জানা ও অচেনাকে চেনার যে চিরন্তন আগ্রহ, তা বই পড়ে মেটানো যায়। একটি ভালো বই-ই হচ্ছে মনের খোরাক যোগানোর অন্যতম উপায়। বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ায়। একটি ভালো বই ঘুমন্ত বিবেক জাগিয়ে তোলে। জীবনকে সুন্দরভাবে বিকশিত করতে হলে, সুবাসিত করতে হলে জ্ঞানার্জন করতে হবে। আর জ্ঞানার্জন করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নাই। পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞানের কথা যেন বইয়ের মাঝে লুকিয়ে আছে। তাই জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করতে হলে বই পড়তেই হবে। নিজেকে জানতে হলে, পৃথিবীকে জানতে হলে বই পড়তে হবে।

বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রমথ চৌধুরী বলেছিলেন, ‘সু শিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত’। সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে মানুষকে বই পড়তে হবে। একমাত্র বই পড়ার মাধ্যমেই মানুষ তার জ্ঞানের পরিধিকে বিস্তৃত করতে পারে। কারণ প্রকৃত শিক্ষা অর্জিত হয় বই পড়ার মাধ্যমে। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান আহরণের পাশাপাশি তার চিন্তাশক্তি, যুক্তি, বুদ্ধির জাগরণ ঘটে, যা একজন স্বশিক্ষিত মানুষের জন্য অপরিহার্য। বই পড়ার মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানের রাজ্যের সঙ্গে পরিচিত হয়। শিক্ষার সর্বপ্রধান অঙ্গ হলো সাহিত্যচর্চা। আর সাহিত্যচর্চা করতে হয় বই পড়ে। বই পড়া ছাড়া উপায় নেই। যথার্থ শিক্ষিত হতে হলে মনের প্রসারতা দরকার, যা বই পাঠের অভ্যাসের মাধ্যমেই কেবল সম্ভব।

বলতে হয় যে, আমাদের জীবসত্তা জাগ্রত থাকলেও মানবসত্তা জাগ্রত করার সিঁড়ি হচ্ছে বই। মানব সভ্যতার সূচনা থেকেই মানুষের পাঠ অভ্যাসের তথ্য পাওয়া যায়। মানুষ বই পড়ে মনের খোরাকের জন্য, অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এবং নিজেকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার জন্য। জ্ঞানের সূচনা বই থেকেই এবং সে জ্ঞানকে সামগ্রিকভাবে কাজে লাগানোর দক্ষতা মানুষ বই পড়ে পেয়ে থাকে।

মানুষের মননশীল, চিন্তাশীল, সৃষ্টিশীল চিন্তার যাবতীয় সূচনার বিস্ফোরণ একমাত্র বইয়ের মাধ্যমে হতে পারে। আমাদের পড়া উচিত সেই সমস্ত বই, যেসব বই ব্যক্তির মনের খোরাক জোগায়, মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটায়। এসব বইয়ে আছে জীবনকে সুন্দর করার ভাষা। বই মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু। ‘আত্মার ওষুধ’ এ কথাটি গ্রিসের থিবসের লাইব্রেরির দরজায় খোদাই করা আছে। তারা বিশ্বাস করে যে, বই হলো আত্মার চিকিত্সার প্রধান উপকরণ। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, ‘রুটি মদিরা ফুরিয়ে যাবে, কিন্তু বইখানি অনন্ত যৌবনা’।

জ্ঞান অর্জনের জন্য অবশ্যই বই পড়তে হবে। বই পড়ার মধ্য দিয়ে মানুষ বিশাল জ্ঞানরাজ্যে প্রবেশ করে এবং অনেক অজানা দিগন্ত উদ্ভাসিত হয়। আপনি যত পড়েন তত জানেন এবং জানার সঙ্গে বদলে যায় আপনার দেখার চোখ। বদলে যায় বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। একটি প্রবাদ আছে, একজন অশিক্ষিত মানুষ কাদাকে দেখে শুধু ভেজা মাটি হিসেবে। আর এক জোড়া শিক্ষিত চোখ সেই কাদার মাঝে খুঁজে পায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু-পরমাণু। সপ্তদশ দশকের দার্শনিক বারুখ স্পিনোজা বলেন, ‘ভালো খাদ্য বস্তু পেট ভরে কিন্তু ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে’। বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে, আর স্বপ্ন দেখার জন্য বই পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম।

কেননা বই পড়ার যে আনন্দ, তা এক কথায় অতুলনীয়। বইয়ের প্রতি সবাইকে আকৃষ্ট করে তুলতে হবে। বিশেষতঃ আমাদের শিশু-কিশোরদের মাঝে শৈশব থেকেই এ বোধ জাগিয়ে দিতে হবে। কারণ বিদ্যালয়ে যে পুঁথিগত জ্ঞান শিশু-কিশোররা লাভ করে তাতে মেধার তেমন বিকাশ ঘটে না। তাই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে তাকে বই পড়তে উত্সাহিত করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পাঠে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করে আমরা মানুষ হব। আর প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়লে জ্ঞানের দ্যুতি বাড়বে এবং আমরা আলোকিত হব।

তাই বইগুলো পড়া খুবই জরুরি। কারণ সফলতার ক্ষেত্রে বই পড়া একটি প্রধান চাবিকাঠি। বিল গেটস কিংবা এলোন মাস্ক- এর মতো বিশ্বসেরা ধনী এবং সফল মানুষেরা তাদের সময়ের একটি বিশাল অংশ বই পড়ার পেছনে ব্যয় করেছেন। গবেষণা প্রমাণ করেছে যে পড়ার অভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং দীর্ঘ ও স্বল্প মেয়াদি স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটায়। আলোকিত নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে বই পড়ার বিকল্প নেই। মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ তৈরিতে বইয়ের গুরুত্ব অপরিসীম।

লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: ইত্তেফাক

নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ - dainik shiksha নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস মূল্যায়নে কমিটি গঠন - dainik shiksha তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস মূল্যায়নে কমিটি গঠন ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না - dainik shiksha ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে - dainik shiksha দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য - dainik shiksha সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই - dainik shiksha প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website