please click here to view dainikshiksha website

আয়-ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছে না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৫, ২০১৭ - ১২:৪২ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

আইনে বাধ্যবাধকতা থাকলেও সরকারের কাছে আয় ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছে না অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আবার যারা দিচ্ছে, তারাও দিচ্ছে অনিয়মিত। মাত্র ৮ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মিত আয় ব্যয়ের হিসাব মন্ত্রণালয় ও কমিশনে জমা দিচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, দেশে ৯৫ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৯ টি তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেনি। আর এক বছর পূর্ণ না হওয়ায় ৬ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় ব্যয় হিসাবের বাইরে থাকবে। এছাড়া ৮০টি বিশ্ববিদ্যালয় আয় ব্যয় এবং এ সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ও কমিশনে জমা দিতে বাধ্য থাকবে। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে আইন মানছে না।

ইউজিসি জানিয়েছে, এ ব্যাপারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষগুলোর কাছে বারবার তাগিদ দিলেও কাজ হচ্ছে না। এছাড়া যেসব প্রতিবেদন কমিশনে জমা হচ্ছে তাতেও প্রকৃত তথ্য উঠে আসছে না বলে শঙ্কা ইউজিসির।

সূত্র জানিয়েছে, বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে  ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা কোনো নীতিমালা না মেনে ইচ্ছেমতো অর্থ ব্যয় করে। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ আদায় করা টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা ইচ্ছেমত খরচ করে। এভাবে ব্যয়ের কারণে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষামানের উন্নয়নে কোনো অর্থ ব্যয় করা হয় না। এ কারণে আয় ব্যয়ের হিসাব এবং এ সংক্রান্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন মন্ত্রণালয় ও কমিশনে জমা দিতে অনাগ্রহ।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান গতকাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আইন মানতে বাধ্য। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে অডিট রিপোর্টের বিষয় সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। কমিশন এবং মন্ত্রণালয়ে এই রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তা মানছে না।

চট্টগ্রামের ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং ঢাকার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে। ইউজিসি বলছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত অর্থাত্ ২২ বছর কোনো আয় ব্যয়ের হিসাব দেয়নি তারা।

এছাড়া রাজধানীর সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে। এই বিদ্যালয় ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিলেও এর আগের ১৭ বছরের প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হয়নি।

একইভাবে আহসান উল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১১ বছর, দি পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১৪ বছর, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১২ বছর, সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ৯ বছর, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ৫ বছর, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি ১০ বছর, প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটি ১০ বছর, রয়েল ইউনিভার্সিটি ১২ বছর, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ৭ বছর, ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ১২ বছর, জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ১২ বছর অডিট রিপোর্ট কমিশনে জমা দেয়নি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন এর ৪৪ (৫) বলা হয়েছে, প্রত্যেক আর্থিক বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব এবং সংরক্ষিত তহবিল এবং সাধারণ তহবিলের হিসাব নিকাশ কমিশন এবং সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

আইনের হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা ধারায় বলা আছে,  ‘প্রত্যেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রত্যেক আর্থিক বছরে উহার আয় ও ব্যয়ের হিসাব কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করিবে।’ ‘প্রত্যেক হিসাব প্রত্যেক আর্থিক বছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত বহি:নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানসমূহের (সিএ ফার্ম) মধ্য হইতে সরকার কর্তৃক মনোনীত একটি ফার্ম দ্বারা নিরীক্ষা করাইতে হইবে এবং নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরবর্তী আর্থিক বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও কমিশনে প্রেরণ করিতে হইবে।’

আবার যেসব রিপোর্ট কমিশনে জমা হচ্ছে তাতেও প্রকৃত তথ্য উঠে আসছে না বলে শঙ্কা ইউজিসির।  ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত তিনটি  অডিট ফার্মের মধ্য থেকে সরকার একটি অডিট ফার্মকে মনোনয়ন দেন। অর্থাত্ বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দের তালিকা থেকে একটি ফার্মকে বাছাই করা হয়। এর ফলে প্রকৃত তথ্য পাওয়া কঠিন। তাই শিক্ষামন্ত্রণালয় কর্তৃক নিরপেক্ষ ফার্ম নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব নিরীক্ষা করান প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন