ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। পঞ্চম পর্ব - মতামত - Dainikshiksha

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। পঞ্চম পর্ব

মাছুম বিল্লাহ |

মাধ্যমিক পর্যায়ের ইংরেজি শিক্ষকদের মোটামুটি পর্যায়ের একটি প্রশিক্ষণ হয়ে গেছে। প্রায় সব শিক্ষকই এই প্রশিক্ষণের আওতায় এসেছেন। তারা টিকিউ আই, সেকায়েপ, ব্র্যাক ইত্যাদি প্রশিক্ষণ পেয়েছেন কীভাবে কমিউনিকেটিভ ইংরেজি পড়াতে হয়। একটি বিদ্যালয়ের সবাই প্রশিক্ষণ না পেলেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণ নতুন কিংবা অপ্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সাথে সিএলটি পড়ানোর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা এবং তাদের ক্লাস পর্যবেক্ষণের কথা বলতে পারেন। এভাবে প্রশিক্ষণের মূল বিষয়গুলো সম্পর্কে প্রায় সব শিক্ষকেরই জানার কথা। কিন্তু বাস্তবতা কী বলছে? 

আরও পড়ুন:  ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। চতুর্থ পর্ব

২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের মার্চের প্রথম সপ্তাহে নেত্রকোণার বেশ বড় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেলাম। অষ্টম শ্রেণিতে ঢুকলাম। ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা একশ’। আমি সবার উদ্দেশে  জিজ্ঞেস করলাম, ‘তোমাদের ক্লাসে কতজন ছাত্র-ছাত্রী আছে?’ তারা উত্তর দিল, ‘আমাদের ক্লাসে একশ’ ছাত্র-ছাত্রী আছে’। তারপরে বললাম, তোমরা এই বাক্যটি ইংরেজিতে বল। অনেক বলার পর, অনেক ক্লু দেয়ার পরও কেউই বলতে পারল না। ওই ক্লাসে ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। তিনি দেখলাম হেঁটে হেঁটে ক্লাসের শেষ পর্যন্ত চলে গেছেন। তারপর একটি ছেলে পেছন থেকে বলছে There are one hundred student (?) in our class। বহুবচনে বলতে পারেনি, আমি বোর্ডে বহুবচনসহ বাক্যটি লিখে দিলাম। 

আরও পড়ুন: ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। তৃতীয় পর্ব

এবার বললাম, বলতো  ‘আমাদের ক্লাসে পঞ্চাশ জন বালিকা আছে’। আবার কেউ পারছে না। অর্থাৎ পেছনের ছেলেটিকে শিক্ষক আস্তে আস্তে বলে দিয়েছিলেন, যার কারণে পরবর্তী বাক্যটি একই ধরনের হওয়ার পরেও তারা আর পারছে না। বোর্ডে লিখে দিলাম, কয়েক জনকে মুখে বলালাম। তারপর আবার বললাম যে, এবার বল, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৫০০ জন ছাত্র-ছাত্রী আছে’। এবারেও সেই অর্থে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেউই বলতে পারছে না। অনেকবার ‘কোরাল ড্রিল’ করানোর পর দেখা গেল মোটামুটি পেরেছে। শিক্ষার্থীদের এসব বেসিক বিষয়ে প্র্যাকটিসই করানো হয় না। কাজেই আমরা যারা ক্লাসে ইংরেজি পড়াচ্ছি; তাদের খেয়াল রাখতে হবে শিক্ষার্থীরা যাতে তাদের টেকস্ট বই ব্যবহার করেই বাস্তবজীবনের ইংরেজি শিখতে পারে। নতুন টেকস্ট বইগুলোতে এখন বাস্তবধর্মী অনেক লেসন থাকে; যেগুলোকে বেইজ ধরে সামনে আগানো যায়, তাতে শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে মজা পাবে ।

আরও পড়ুন: ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। দ্বিতীয় পর্ব

শিক্ষার্থীদের বলছি তোমাদের যদি খেলার জগৎ ভালো লাগে তাহলে নিশ্চয়ই তোমার প্রিয় কয়েকজন খেলোয়াড় আছেন। তাদের জীবন সম্পর্কে জানার ইচ্ছে থাকবে। না থাকলে ইচ্ছেটা জাগ্রত করবে। যেহেতু খেলোয়াড় তোমার পছন্দের ব্যক্তিত্ব, তাদের ব্যক্তিগত জীবন, তাদের পছন্দ-অপছন্দের বিষয়গুলো, তাদের একাডেমিক, খেলোয়াড় জীবন সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাংলা পত্রিকা কিংবা ম্যাগজিনে পড়ে থাকবে। এই বিষয়গুলোই আবার ইংরেজি পত্রিকায় ইংরেজিতে লেখা থাকে। সম্ভব হলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বা ইংরেজি পত্রিকা সংগ্রহ করে বিষয়গুলো জেনে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজে বার বার এমন ভাবে আলোচনা করবে যাতে তুমি আত্মবিশ্বাসের সাথে অন্য যে কারো সাথে ইংরেজিতে আলোচনা করতে পার। দেখবে তোমার বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতজনদের মাঝে তোমার একটি বিশেষ জায়গা সৃষ্টি হবে।

 

একইভাবে তোমার পছন্দের নায়ক নায়িকা সম্পর্কেও জানতে পার, আলোচনা করতে পার তাদের চিত্র জগতের কার্যাবলী, স্বার্থক ও অন্যান্য অভিনীত সিনেমাগুলো নিয়ে। এভাবে তোমার পছন্দের বিষয়গুলো ইংরেজিতে পড়ে পড়ে, বলে বলে একটা পর্যায় চলে আসবে তখন ইংরেজি তোমার নিকট পানির মতো সহজ মনে হবে।

চলবে............

আরও পড়ুন:  ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। প্রথম পর্ব

লেখক: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত 

একাদশে ভর্তি: ২য় দফার আবেদন শুরু - dainik shiksha একাদশে ভর্তি: ২য় দফার আবেদন শুরু বিসিএসেও তৃতীয় পরীক্ষক চালু - dainik shiksha বিসিএসেও তৃতীয় পরীক্ষক চালু ডিগ্রি ২য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো - dainik shiksha ডিগ্রি ২য় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়লো জিপিএ-৫ বিলুপ্তির পর যেভাবে হবে নতুন গ্রেড বিন্যাস - dainik shiksha জিপিএ-৫ বিলুপ্তির পর যেভাবে হবে নতুন গ্রেড বিন্যাস পাবলিক পরীক্ষার গ্রেড: যা আছে আর যা হবে - dainik shiksha পাবলিক পরীক্ষার গ্রেড: যা আছে আর যা হবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় কঠোর নজরদারির নির্দেশ গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর শিক্ষক নিবন্ধন: ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ের নতুন সিলেবাস দেখুন - dainik shiksha শিক্ষক নিবন্ধন: ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিষয়ের নতুন সিলেবাস দেখুন সার্টিফিকেট ছাপার আগেই ২ কোটি টাকা তুলে নিলেন ছায়েফ উল্যাহ - dainik shiksha সার্টিফিকেট ছাপার আগেই ২ কোটি টাকা তুলে নিলেন ছায়েফ উল্যাহ রাজধানীর সকল ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে: হাইকোর্ট - dainik shiksha রাজধানীর সকল ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে: হাইকোর্ট জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া  - dainik shiksha please click here to view dainikshiksha website