ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। ষষ্ঠ পর্ব - মতামত - Dainikshiksha

ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। ষষ্ঠ পর্ব

মাছুম বিল্লাহ |

চারটি দক্ষতা অর্জন করলে একটি ভাষা পরিপূর্ণভাবে আয়ত্ত করা যায়। আমরা প্রতিদিন মনের ভাব আদান-প্রদানের জন্য এবং আমাদের প্রতিদিনের যোগাযোগের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিমাণে যে দক্ষতাটি এবং মাধ্যমটি ব্যবহার করি সেটি হচ্ছে শ্রবণ। আমরা ৪০ শতাংশ যোগাযোগ শ্রবণের মাধ্যমে করি। দ্বিতীয় মাধ্যমটি হচ্ছে- কথা বলা বা স্পিকিং। আমরা প্রতিদিন যোগাযোগের ৩৫ শতাংশ করে থাকি স্পিকিংয়ের মাধ্যমে। পড়ার মাধ্যমে আমরা ১৬ শতাংশ এবং লেখার মাধ্যমে ৯ শতাংশ যোগাযোগ করে থাকি। অতএব দেখা যায় ভাব আদান-প্রদান ও যোগাযোগের জন্য শ্রবণের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তারপরেই আসে কথা বলা বা স্পিকিং।

 অথচ আমাদের পুরো পরীক্ষা পদ্ধতি, অ্যাসেসমেন্ট সবকিছুর ক্ষেত্রে ৯ শতাংশ অর্থাৎ শুধু রাইটিং স্কিল নিয়ে ব্যস্ত। এই ৯ শতাংশ ও রিডিং স্কিল ১৬ শতাংশ অর্থাৎ ২৫ শতাংশের ওপর নির্ভর করে পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেডিং, একজন শিক্ষার্থীর মেধা যাচাই সবকিছুই নির্ভর করছে। আমরা শিক্ষার্থীদের বলে দিচ্ছি, তুমি ইংরেজিতে এ প্লাস পেয়েছ অর্থাৎ ইংরেজিতে তুমি মাস্টার। যেখানে লিসেনিং ৪০ শতাংশ, স্পিকিং ৩৫ শতাংশ অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ আমরা পড়ানো বা মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে টাচই করছি না সেখানে কীভাবে আমরা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ণ করছি? বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখতে হবে। শ্রবণ অর্থাৎ লিসেনিং আমরা কেন বেশি করি? 

আরও পড়ুন: ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। পঞ্চম পর্ব

(১)আমরা সব সময় কথা বলার সুযোগ পাই না।
(২)সব সময় কথা বলি না বা লেখারও সুযোগ পাই না।
(৩)আবার আমরা যখন পড়ি তখন শ্রবণও করি, তাতে সাড়াও দেই।
(৪)আমরা যখন লিখি তখনও শ্রবণ করি।
(৫)আমরা চুপচাপ থাকলেও শ্রবণ করি।
(৬)অর্ধজাগ্রত থাকলেও আমরা শ্রবণ করি।

আরও পড়ুন:  ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। চতুর্থ পর্ব

দ্বিতীয়টি হচ্ছে স্পিকিং। কোনো পরিচিত কিংবা অপরিচিত যে কারো সাথেই হোক কথা বলে আমরা ভাব বিনিময় করি, পরিচিত হই, নিজেকে জানাতে চাই, অন্যের সম্পর্কে জানতে চাই। ভালো কথা বলে অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। কিন্তু আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বা ইংরেজি পড়ানোর ক্ষেত্রে এই স্কিলটি একবারেই অবহেলিত। শিক্ষক নিজেও প্র্যাকটিস করেন না, শিক্ষার্থীদেরকেও করান না। এই স্কিলটি প্র্যাকটিস করি না কিংবা করাই না কারণ

(১)পরীক্ষা পদ্ধতিতে লিসেনিং বা স্পিকিং নেই।
(২)শিক্ষার্থীরা স্পিকিং বা লিসেনিং এর জন্য কোনো ধরনের চাপের মধ্যে থাকে না, আবার কোনো উৎসাহব্যঞ্জক অবস্থা বা পরিবেশও দেখে না যে ইংরেজিতে কথা বললে তাকে পুরস্কৃত করা হবে। কোনো শিক্ষক কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোনো প্রশাসক শিক্ষার্থীদের বলছেন না, ‘তোমাদের এই ক্লাসে অবশ্যই ইংরেজিতে কথা বলতে হবে।’ কিংবা কেউ বলছেন না, ‘তোমাদের অজস্র ধন্যবাদ ইংরেজিতে কথা বলার জন্য।’

আরও পড়ুন: ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। তৃতীয় পর্ব

(৩)ইংরেজিতে কথা বলতে শিক্ষকও লজ্জা পান, শিক্ষার্থীরাও লজ্জা পায়।
(৪)পুরো পদ্ধতি ক্লাসের নীরবতাকে মূল্যায়ণ করে সফল ক্লাস হিসেবে। তাই সবাই ইংরেজি ক্লাসেও নীরব থাকে। স্কুল প্রশাসন নীরবতাকে চমৎকার ক্লাস বলে আখ্যায়িত করেন। তাই কিছু আধুনিক যুবক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক যদিও ইংরেজিতে কথা বলা এবং শিক্ষার্থীদেরকে বলানোর চেষ্ট করেন, প্রশাসনিক ও সহকর্মীদের সমালোচনার কারণে তারা আবার নীরবতা পালন করেন এবং বাংলাতেই চলে আসেন। অনেকেই মনে করেন যে, নীরব ক্লাসই স্বার্থক ক্লাস, যে ক্লাসে শিক্ষার্থীরা কথা বলে না, চুপচাপ থাকে, প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে না সেটিই হচ্ছে স্বার্থক ক্লাস।
(৫)আর একটি কারণ হচ্ছে ইংরেজিতে ক্লাস পরিচালনা করার জন্য একজন শিক্ষকের যে লেভেলে স্পিকিং দক্ষতা থাকার কথা, অনেক শিক্ষকের তা নেই। কারণ তিনিও তো এই পরিবেশ বা এই অবস্থার মধ্যেই ইংরেজি শিখেছেন। তবে, শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিস করালে নিজেরও অনেক উন্নতি হবে এ বিষয়টি যারা বুঝেন তারা এতসব বাঁধা সত্ত্বেও ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি প্র্যাকটিস করান। তাতে শিক্ষার্থীদেরও উপকার হয়, শিক্ষকের নিজেদের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। 

আরও পড়ুন: ইংরেজি কেন শিখব কীভাবে শিখব ।। দ্বিতীয় পর্ব

এসব কারণে ৪০ শতাংশ লিসেনিং, ৩৫ শতাংশ স্পিকিং হওয়া সত্ত্বেও  ১৬ শতাংশ রিডিং এবং ৯ শতাংশ রাইটিং অর্থাৎ ২৫ শতাংশ নিয়েই পুরো পরীক্ষা পদ্ধতি, ব্যক্তি, সমাজ, প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই ব্যস্ত-মহাব্যস্ত। আমাদের সকল কর্মকা-, পরীক্ষা, পড়াশুনা, মান যাচাই, ভাষা জানার মানদ- এবং ফলাফল সব কিছুই এই ২৫ শতাংশকে ঘিরে। ফলে যেসব গ্র্যাজুয়েট আমাদের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হন তারা স্পিকিং এ দুর্বল থাকেন।

রাষ্ট্র কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের আগে আমরা ব্যক্তি পর্যায়ে এ অবস্থার পরিবর্তন কি শুরু করতে পারি না? অর্থাৎ সর্বোচ্চ ব্যবহৃত স্কিল লিসেনিং উন্নত করার জন্য আমরা কিছু একটা কি করতে পারি না?শিক্ষার্থীদের লিসেনিং উন্নত করার জন্য সব সময়ই আমরা রেডিও টেলিভিশনে সংবাদ, ইংরেজি মুভি, বিবিসি, সিএনএন দেখা ও শোনার উপদেশ দিয়ে থাকি। শহর এলাকায় এবং কিছু কিছু গ্রাম এলাকায়ও ছাত্র-ছাত্রীরা বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে উপভোগ করে থাকে, তাদের লিসেনিং এবং স্পিকিং কিছুটা উন্নতও। তাদের রিসিপটিভ ক্যাপাসিটিও উন্নত। কিন্তু পাঠ্যবইয়ের সাথে, পরীক্ষা পদ্ধতির সাথে, ফলাফলের সাথে, এগুলো মিলাতে চায়।

পরীক্ষা পদ্ধতিতে এগুলো নেই, দেখানোর কোনো ব্যবস্থাও নেই। তাহলে তারা কেন এটি প্র্যাকটিস করবে? এখানেই শিক্ষক হিসেবে আপনার দায়িত্ব। আপনি একদিকে শিক্ষার্থীদের লিসেনিং এবং স্পিকিং বাড়াবেন, সাথে সাথে তাদের সিলেবাসও প্রাকটিস করাবেন। কীভাবে এটি করাবেন।

পাঠ্যবই থেকে ভালো ভালো প্যাসেজগুলো আপনি সুন্দর করে ভালো উচ্চারণসহ পড়ে প্রস্ততি নিবেন। ক্লাসে সেগুলো  শিক্ষার্থীদের শোনাবেন। কয়েকটি ফোকাস প্রশ্ন বোর্ডে লিখবেন যাতে শ্রবণ করার সময় তারা প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজে, আরও বেশি বোঝার চেষ্টা করে। এতে ক্লাস এক ধরনের  আকর্ষণীয়  হবে, একঘেয়েমি কাটবে, উন্নত হবে আপনার ডেলিভারি ক্ষমতা, শিক্ষার্থীদের শ্রবণ শক্তি উন্নত হবে, ক্লাস অ্যাকটিভ হবে আর তার সাথে শেষ হবে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সিলেবাসও। 

সিলেবাসের পড়াই শুধু লিখতে না দিয়ে প্রশ্ন ছুড়ে দিন, তাদেরকে উত্তর দিতে উদ্বুদ্ধ করুন, না পারলে ইংরেজিতে বলে দিন। আপনার বলার দক্ষতা বাড়বে, ছাত্র-ছাত্রীরাও মজা পাবে, তাদের মুখস্থ করার প্রবণতা কমবে, কারণ তারা ক্লাসে বারবার নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার ফলে পাঠ্যবইয়ের ব্যাপারগুলো তাদের আয়ত্তে চলে আসবে। মনে থাকবে, ফ্রেশ থাকবে।

রিডিং স্কিল উন্নত করার জন্য পাঠ্যবইয়ের সাথে সাথে ইংরেজিতে আকর্ষণীয় আর্টিকেল বাছাই করে নিজে পড়–ন, ক্লাসে সেখান থেকে গ্রামারের বিভিন্ন আইটেম শেখান, দেখবেন তাদের ক্লাসের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে। লেখার ক্ষেত্রেও ক্রিয়েটিভ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। তাদের সম্মিলিত ধারণা একত্র করুন, সেই ধারণাগুলোকে ভাষা দেওয়ার জন্য তাদের উৎসাহিত করুন। 

চলবে......

লেখক: শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত 

প্রাথমিকে ৬১ হাজার শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হবে - dainik shiksha প্রাথমিকে ৬১ হাজার শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হবে দৈনিকশিক্ষার প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরকে ওএসডি - dainik shiksha দৈনিকশিক্ষার প্রতিবেদনে জাহাঙ্গীরকে ওএসডি প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার রুটিন - dainik shiksha প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার রুটিন ভিকারুননিসায় ৪৪৩ অতিরিক্ত ভর্তি, সাবেক অধ্যক্ষকে শোকজ - dainik shiksha ভিকারুননিসায় ৪৪৩ অতিরিক্ত ভর্তি, সাবেক অধ্যক্ষকে শোকজ তিন শর্তে অস্থায়ী এমপিও পাচ্ছে ১৭৬৩ প্রতিষ্ঠান, আলাদা পরিপত্র - dainik shiksha তিন শর্তে অস্থায়ী এমপিও পাচ্ছে ১৭৬৩ প্রতিষ্ঠান, আলাদা পরিপত্র প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি করতে হবে চর এলাকায়, আসছে চর ভাতা - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরি করতে হবে চর এলাকায়, আসছে চর ভাতা বিএড ৩য়-৫ম সেমিস্টারের ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৫ আগস্ট থেকে - dainik shiksha বিএড ৩য়-৫ম সেমিস্টারের ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৫ আগস্ট থেকে সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শুরু ১০ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ ভর্তির আবেদন শুরু ১০ সেপ্টেম্বর এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর - dainik shiksha এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা ৪ অক্টোবর কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে ঢাবিতে ১ম বর্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha ঢাবিতে ১ম বর্ষ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website