ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের টিউশন ফি ঠিক করবে কমিটি - ইংলিশ মিডিয়াম - Dainikshiksha

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের টিউশন ফি ঠিক করবে কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে টিউশন ফি প্রতি বছরে ১০ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারবে না। ভর্তি নবায়ন  বা পুনঃভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা যাবে না। তবে সহপাঠ কার্যক্রম বিশেষ সুবিধা এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারবে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা করতে হলে সরকারি অনুমোদন বাধ্যতামূলক। প্রাথমিকভাবে সাময়িক নিবন্ধন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই এসব স্কুল পরিচালনা করা যাবে না। বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি স্কুল ১১ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হবে। কমিটির মেয়াদ থাকবে দুই বছর। এই কমিটিই শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, সেশন চার্জ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করবে। উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১১ ই জুন জারি হওয়া ‘বিদেশী শিক্ষাক্রমের পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয় (ইংরেজি মাধ্যম স্কুল) নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৭’র গেজেটে এসব বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দেও বিধিমালা জারি করে কিন্তু অভিভাবকদের অভিযোগ মতে, ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মালিকপক্ষ প্রভাবশালী হওয়ায় কোনও বিধানেরই তোয়াক্কা করে না।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১৫০টি। এগুলোতে এক লাখ ৯৩ হাজার ২৭৪ জন শিক্ষার্থী আছে। তবে,  ব্যানবেইসের জরিপকারীদের তথ্য দেয়না অধিকাংশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল। তাই বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ও শিক্ষার্থী উভয়ই বেশি।

নতুন জারি করা বিধিমালায় বলা হয়েছে, বছরে ১০ শতাংশের বেশি টিউশন ফি কোনো অবস্থাতেই বাড়ানো যাবে না। এসব স্কুলে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও ২ শতাংশ প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রী ভর্তি করাতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয় ও স্বাধীনতাবিরোধী এমন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক অনুসরণ করা যাবে না। নীতিমালায় বলা হয়েছে, ম্যানেজিং কমিটিতে দুজন শিক্ষক প্রতিনিধি (একজন নারী), দুজন নির্বাচিত অভিভাবক প্রতিনিধি, উদ্যোক্তা বা প্রতিষ্ঠাদের মধ্য থেকে ছয়জন। এদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচিত হবেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদাধিকার বলে কমিটির সচিব হবেন। কমিটির মেয়াদ হবে দুই বছর। কমিটি শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানের সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

নতুন নীতিমালা টিউশন ফি’র ব্যাপারে বলা হয়েছে, শিক্ষার গুণগতমান এবং অবকাঠামো সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে ম্যানেজিং কমিটি শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণ করবে। তবে প্রতি বছরে ১০ শতাংশের বেশি বাড়াতে পারবে না। ভর্তি নবায়ন  বা পুনঃভর্তির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা যাবে না। তবে সহপাঠ কার্যক্রম বিশেষ সুবিধা এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতে পারবে। এজন্য ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক লিখিতভাবে অভিভাবকদের জানতে হবে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়- এমন পাঠ্যপুস্তক পড়ানো যাবে না বলে বলা হয়েছে নীতিমালায়। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বিশৃঙ্খলা রোধে একটি নীতিমালা করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন অভিভাবকরা। সর্বশেষ ২০১৩ সালে হাইকোর্ট নীতিমালার করার নির্দেশ দেন। এরপর শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কয়েক দফা বৈঠক করে এটি চূড়ান্ত করেছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জি এম নিজাম উদ্দিন বলেন, নীতিমালা হয়েছে এটা জেনে ভালো লাগছে। তবে কী আছে নীতিমালায় তা সব জানা সম্ভব হয়নি। নীতিমালা হাতে পেলে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারবো। তবে টিউশন ফি’র ব্যাপারে তিনি বলেন, যেটি বাস্তবসম্মত সেটিই করেছে বলে আমি মনে করি। কারণ, টিউশন ফি বেঁধে দিলে স্কুলগুলো মান রক্ষা করতে পারতো না। এটা বাস্তবসম্মত বলে আমি করি।

আর ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অভিভাবকদের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট আমিনা খাতুন রত্না বলেন, শেষ পর্যন্ত একটা নীতিমালা পেয়েছি- এটা খুশির খবর। কিন্তু টিউশন ফি’র বিষয়ে আমরা খুশি নই। কারণ, আমাদের মূল দাবিই ছিল এই টিউশন ফি নিয়ে। এ নীতিমালা শক্তভাবে মনিটরিং করার দাবি জানান তিনি। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকার কর্তৃক গঠিত নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ হতে নির্ধারিত ফি দিয়ে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে। প্রথমে তিন বছরের জন্য নিবন্ধন পাবে। নিবন্ধের শর্ত লঙ্ঘন করলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। তবে নতুন করে তারা আবার আবেদন করতে পারবে। তবে কারা নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ হবে তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি।

প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন ও প্রাথমিক স্কুলের ১৫ জন্য শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক, মাধ্যমিক ও সমমানের জন্য ২৫ জনে একজন শিক্ষক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের ৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি অর্থবছরের শেষে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ড দ্বারা হিসাব নিরীক্ষা করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক কার্যক্রম তদারকি, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য মাউশির অধীনের আঞ্চলিক উপপরিচালককের অধীন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাধ্যমে প্রত্যেকে ডিসেম্বর মাসে পরিবীক্ষণ করবে। ব্যানবেইস কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিবেদন ফরমে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে। এর অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও  নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবে। মেট্রোপলিটন এলাকার প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক স্কুলের জন্য শূন্য দশমিক ১৫ একর, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরের জন্য শূন্য দশমিক ৩৩ একর, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বা সমমানের মেট্রোপলিটন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য দশমিক ১৫ একর, পৌর এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৩০-একর ও পল্লী এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৫০ একর। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মেট্রেপলিটন এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ২৫ একর, পৌর এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৫০ একর ও পল্লী এলাকার জন্য শূন্য দশমিক ৭৫ একর জমি থাকতে হবে। তবে মেট্রোপলিটন এলাকায় নিজস্ব ভূমি বা ভবন না থাকলে অন্তত পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া চুক্তি থাকতে হবে। প্লে-গ্রুপ, নার্সারি, কিন্ডারগার্টেন বা প্রাথমিক স্কুলের জন্য চার হাজার বর্গ ফুট ভবন, নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক বা সমমানের জন্য পাঁচ হাজার বর্গ ফুট এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের জন্য ছয় হাজার বর্গ ফুট ভবন থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনির জন্য পাঁচ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য দুই শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করতে হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অথবা আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করতে হবে।

সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর - dainik shiksha সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু - dainik shiksha অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে - dainik shiksha ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ - dainik shiksha দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website