please click here to view dainikshiksha website

উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে অতিরিক্ত বেতন প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ১০, ২০১৬ - ৫:২৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

Taka-240রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার শিক্ষার্থীদের বর্ধিত মাসিক বেতন প্রত্যাহারে কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন আন্দোলনরত অভিভাবকরা।

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ অভিভাবক ফোরামের’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি আদায়ে শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি প্রদান এবং লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়।

পাশাপাশি অধ্যক্ষ নিয়োগ, গভর্নিং বডির নির্বাচন, শিক্ষক নিয়োগ এবং কলেজের বিভিন্ন অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দুই মাসের সময় দিয়েছেন অভিভাবকরা।

মাসিক বেতন বাড়ানোর প্রতিবাদে গত ৩ জানুয়ারি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা স্কুলের বাইরে কাকরাইল এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

ওই দিন স্কুলের ইংরেজি মাধ্যমের ভারপ্রাপ্ত প্রধান এ এস এম মাসুদ জানিয়েছিলেন, স্কুলের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেতন বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিভাবক শামিমা সুলতানা বলেন, “আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে বর্ধিত ফি প্রত্যাহারসহ তিনটি দাবি আদায় না হলে ১৩ জানুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ১৭ জানুয়ারি স্কুল প্রাঙ্গণে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।”

অভিভাবকদের অন্য দাবি দুটি হল- আইডিয়াল ও ভিকারুন নিসা নূন স্কুলের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের টিউশন ও অন্যান্য ফি সমন্বয় করা এবং স্পেশাল ক্লাসের নামে ‘মাত্রাতিরিক্ত’ বেতন আদায় বন্ধ করা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারিভাবে কোচিং নিষিদ্ধ করা হলেও স্পেশাল বা বিশেষ ক্লাসের নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক বেতনের সমপরিমাণ টাকা আদায় করা হয়।

বেতনের বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে ৩০০ থেকে ১৮০০ টাকা ‘আইটি চার্জ’ নেওয়া হলেও আদতে শিক্ষার্থীরা আইটি সুবিধা পায় না বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে ৬০ জন শিক্ষক এবং ১০০ কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ করেছে অভিভাবক ফোরাম।

স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী হুমায়রা জান্নাত আনিকার বাবা হারুনুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি বেতন স্কেলের পর মেয়ের বেতন হঠাৎ করে ১৩০০ টাকা থেকে ২১০০ টাকা হয়ে গেল, প্রায় দ্বিগুণ। অথচ আইডিয়াল কিংবা ভিকারুন নিসা স্কুলে বেড়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা।

“বেতন বাড়বে বাড়ুক। আমরা চাই অন্য স্কুলের সঙ্গে সমন্বয় করা হোক।”

বাংলা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন এক ধাপে ৬০০ থেকে বেড়ে ১১০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ১৯০০ থেকে ২৭৫০ টাকা হয়েছে বলে জানান এই অভিভাবক।

এদিকে বর্ধিত বেতন কমানো হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে বেতন বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় দিয়ে ৩৯৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন দিতে হয়। পে-স্কেলে অন্যদের বেতন বেড়েছে। এখন আমাদের এখানেও বেতন বাড়াতে হবে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাড়ানো হয়েছে।

“সেটা না বাড়ালে এদের বেতন-ভাতা কীভাবে দিব? অন্যদিকে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তো পে-স্কেল দেওয়ার দাবিতে কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছেন।”

কয়েকটি ধাপে গড়ে ৪৯ শতাংশ বেতন বেড়েছে উল্লেখ করে আবুল হোসেন বলেন, “কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটু বেশি বেড়েছে। বাড়ানোর এই হার ভিকারুন নিসা, আইডিয়াল স্কুলের কাছাকাছি।”

শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি অধ্যক্ষের।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন