উচ্চতর গ্রেড নিয়ে এখনও যত জটিলতা - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

উচ্চতর গ্রেড নিয়ে এখনও যত জটিলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক |

দুই দুইবার স্পষ্টীকরণ পাওয়ার পরেও স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড নিয়ে এখনো রয়েছে কিছু জটিলতা।  শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড অনুমোদন হলেও কবে নাগাদ তারা আর্থিক সুবিধা পাবেন তা নিয়েও আছে প্রশ্ন। মাদরাসা শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড নিয়ে অধিদপ্তরের পাঠানো স্পষ্টীকরণ নির্দেশনার এখনো কোনো জবাব দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাই, তাদের কাছ থেকে এখনও আবেদন নেয়াই শুরু হয়নি।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে টাইমস্কেল বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ নিয়মে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ‘টাইমস্কেলের’ পরিবর্তে ‘উচ্চতর গ্রেড’ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে বছরের ২৫ নভেম্বর এমপিও কমিটির সভায় সর্বসম্মতিতে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমপিও নীতিমালা ১০ বছর পূর্তি এবং ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার কথা ছিল। 

যত জটিলতা: 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহকারী প্রধানরা উচ্চতর স্কেলের জন্য বিবেচিত হবেন কিনা তা স্পষ্ট নয়। একজন প্রভাষক বা সহকারী শিক্ষক ৯ম গ্রেডের ৩য় ধাপে ২৪ হাজার ২৬০ টাকা বা ৪র্থ ধাপে ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা মূলবেতন পাওয়ার সময় উচ্চতর স্কেল বা পুনঃনিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে যখন ৮ম গ্রেডে উন্নীত হন তখন প্রচলিত নিয়মে ৮ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে তার মূল বেতন ২৩ হাজার  টাকা নির্ধারণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তার মূল বেতন হাস পায়। অপরদিকে ঐ শিক্ষক তার পূর্ববর্তী গ্রেডে বা পদের প্রাপ্ত ৩টি বা ৪টি ইনক্রিমেন্ট দাবি করে ৮ম গ্রেডে ২৬ হাজার ৬৩০ টাকা বা ২৭ হাজার ৯৭০ টাকা দাবি করছেন। অপরদিকে যখন একজন প্রভাষক বা সহকারী শিক্ষক ৯ম গ্রেডের ৩য় ধাপে ২৪ হাজার ২৬০ টাকা বা ৪র্থ ধাপে ২৫ হাজার ৪৮০ টাকা মূলবেতন আহরণকালীন উচ্চতর স্কেল বা পুনঃনিয়োগ পেয়ে ৮ম গ্রেডে উন্নীত হন তখন প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তিনি ৮ম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপে অর্থাৎ ২৩ হাজার টাকা মূল বেতন নির্ধারণ করা হলে তার বেতন কমে যাচ্ছে।

এছাড়া বিএড স্কেল প্রাপ্ত যেসব সহকারী শিক্ষকের চাকরি বিএড স্কেল প্রাপ্তির পর দশ বছর পূর্ণ হয়েছে এবং বর্তামনে ১০ম গ্রেডে ৩য় ধাপে ১৭ হাজার ৬৪০ টাকা অথবা ৪র্থ ধাপে ১৮ হাজার ৫৩০ টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন-তারা উচ্চতর গ্রেড পাবেন। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের ৯ম গ্রেডে মূল বেতন কত টাকা বা কোন ধাপে নির্ধারণ করতে হবে তা স্পষ্ট নয়। এছাড়া যেসব সহকারী গ্রন্থাগারিক শর্ত সাপেক্ষে প্রথম এমপিওভুক্তির সময় ১১তম গ্রেডে এমপিওভুক্ত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে শর্ত পূরণ করে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন তারা পরবর্তী উচ্চতর স্কেল কখন প্রাপ্ত হবে বা কত বছর পরে ৯ম গ্রেডে উন্নীত হবেন তা স্পষ্ট নয়। 

এছাড়া একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ১৬তম গ্রেডের ৩য় ধাপে বর্তমানে ১০ হাজার ২৬০ টাকা বা চতুর্থ ধাপে ১০ হাজার ৭৮০ টাকা মূল বেতন প্রাপ্ত অবস্থায় উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হলে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ১৫তম গ্রেডে প্রারম্ভিক ধাপে তার মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তার মূল বেতন কমে যাচ্ছে। আবার একজন ৪র্থ শেণির কর্মচারী ২০তম গ্রেডের ৩য় ধাপে বর্তমানে ৯ হাজার ১১০ টাকা বা ৪র্থ ধাপে ৯ হাজার ৫৭০ টাকা মূল বেতন প্রাপ্ত অবস্থায় উচ্চতর স্কেল প্রাপ্ত হলে তিনি ১৯তম গ্রেডে তার মূল বেতন কত টাকা নির্ধারণ করতে হবে তাও স্পষ্ট নয়।

এদিকে মাদরাসা শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কাছে স্পষ্টিকরণ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল ১৮ জুন। সে নির্দেশনা এখনও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পৌঁছায়নি। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাদরাসার এমপিও কমিটির সভায় শিক্ষক কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড এর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে, মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টিকরণ ছাড়া মাদরাসা শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেডের আবেদন নেয়া হচ্ছে না দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানিয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র।

শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড নিয়ে ইতোমধ্যে দুই দফা স্পষ্টীকরণ জারি করা হয়েছে। বিএড স্কেল পাওয়ার ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। আর বিএড স্কেল শিক্ষাগত ডিগ্রির জন্য অর্জিত হলেও উচ্চতর গ্রেড হিসেবে গণ্য হবে। তবে, শিক্ষকরা চাকরিতে দুইটির বেশি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। এসব তথ্য জানিয়ে গত ১২ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে স্পষ্টীকরণ চেয়ে চিঠির জবাব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। যা গত ২১ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

এরআগে গত মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্টীকরণ ব্যাখ্যা চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত ৩১ মে বিষয়টি স্পষ্ট করে চিঠি পাঠায় অর্থ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে জানানো হয়, চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে শিক্ষকরা পদোন্নতি বা টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল না পেয়ে থাকলে জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী উচ্চতর স্কেল পাবেন। তবে, চাকরি ১৬ বছর পূর্তিতে শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। তাই এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

বার্ষিক পরীক্ষা হবে না প্রমোশন পাবে সব শিক্ষার্থী - dainik shiksha বার্ষিক পরীক্ষা হবে না প্রমোশন পাবে সব শিক্ষার্থী ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অনুদানের চেক ছাড় - dainik shiksha ইবতেদায়ি শিক্ষকদের অনুদানের চেক ছাড় বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে মন্ত্রণালয় - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে মন্ত্রণালয় টিউশন ফি আদায়ে স্কুল-কলেজগুলোকে নির্দেশনা দেবে অধিদপ্তর - dainik shiksha টিউশন ফি আদায়ে স্কুল-কলেজগুলোকে নির্দেশনা দেবে অধিদপ্তর জেএসসি পরীক্ষা না হলেও সনদ পাবে পরীক্ষার্থীরা - dainik shiksha জেএসসি পরীক্ষা না হলেও সনদ পাবে পরীক্ষার্থীরা প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করবেন যেভাবে অনার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া ডিগ্রি দেয়া ঠিক হবেনা : শিক্ষামন্ত্রী - dainik shiksha অনার্সের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ছাড়া ডিগ্রি দেয়া ঠিক হবেনা : শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত ভুয়া অভিভাবকরা - dainik shiksha শিক্ষক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত ভুয়া অভিভাবকরা বদরুন্নেছা কলেজে চাাঁদাবাজি: করোনাকালে সব ছাত্রীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ - dainik shiksha বদরুন্নেছা কলেজে চাাঁদাবাজি: করোনাকালে সব ছাত্রীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ please click here to view dainikshiksha website