উচ্চতর গ্রেড নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার দাবি - এমপিও - দৈনিকশিক্ষা

উচ্চতর গ্রেড নিয়ে শিক্ষকদের ক্ষোভ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রত্যাহার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

বিএড স্কেল পাওয়ার ১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। আর বিএড স্কেল শিক্ষাগত ডিগ্রির জন্য অর্জিত হলেও উচ্চতর গ্রেড হিসেবে গণ্য হবে। তবে, শিক্ষকরা চাকরিতে দুইটির বেশি উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। এসব তথ্য জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো স্পষ্টীকরণ চিঠির জবাব দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তাই, এমপিও নীতিমালায় শিক্ষকদের দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার কথা বলা হলেও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে গত ২১ জুলাই স্পষ্টীকরণ চিঠিটি অগ্রায়ন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এরপরই দৈনিক শিক্ষার ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে, দৈনিক শিক্ষার প্রতিবেদনে কমেন্ট করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি বাতিল করার দাবি জানিয়েছে শিক্ষক সংগঠনের সাথে পরামর্শক্রমে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

দৈনিক শিক্ষার সম্পাদক ও এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান খানের সঞ্চালনায় ফেসবুক লাইভে বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল বাশার হাওলাদার বলেন, বিএড স্কেল অর্জন থেকে নয় এমপিওভুক্তির তারিখ থেকে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেওয়া হলে শিক্ষকরা বেশি লাভবান হবেন। এদিকে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া স্পষ্টীকরণ এ বলা হয়েছে বিএড ডিগ্রি একটি উচ্চতর গ্রেড হিসেবে গণ্য হবে। এটি শিক্ষকদের জন্য চরম বঞ্চনার। আর এমপিও নীতিমালায় বলা হয়েছে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত উচ্চতর গ্রেড পাবেন। এ স্পষ্টীকরণ সে বিধানের সাথেও সাংঘর্ষিক। এ  স্পষ্টীকরণ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তাই তা প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

ফেসবুক লাইভে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, বিএড স্কেল শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রেক্ষিতে অর্জিত হয়। এটিকে উচ্চতর গ্রেড হিসেবে বিবেচনা করা হলে শিক্ষকরা দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন না। যা মেনে নেয়া যায় না। আগে বিএড স্কেল পাওয়া শিক্ষকরা টাইম স্কেল পেয়েছেন। আমরা এ স্পষ্টীকরণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

দৈনিক শিক্ষায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের নীচে করা কমেন্টে আবুল বাসার রনি জানান, আর বিএড করতে হবে না কারণ শিক্ষকরা মাত্র দুইটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

দৈনিক শিক্ষার প্রতিবেদনের নিচে করা কমেন্টে শিক্ষক রতন কুমার সরকার বলেন, বেসরকারি শিক্ষক সমাজকে এই দেশ আর কত অপদস্ত করবে। এতে শুধু শিক্ষক সমাজকে অবহেলাই করা হয় না, সংবিধানকেও অপমান করা হয়। বিএড ডিগ্রি পড়াশোনা করে শিক্ষার মান উন্নত করার জন্যই অর্জন করা হয়। আর আজ নতুন করে জানলাম এটা উচ্চতর গ্রেড। তাহলে সরকারিদের বেলায় কেন আরেক বিধান?

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো স্পষ্টীকরণ চিঠির প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিএড ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষকরা যুগ যুগ ধরে একাডেমিক যোগ্যতা হিসেবে বিএড স্কেল পেয়ে আসছেন। নিকট অতীতে টাইম স্কেল চালু হবার পরও শিক্ষকরা টাইম স্কেলের পাশাপাশি বিএড স্কেল পেতেন। বিএড স্কেলকে উচ্চতর স্কেল হিসেবে গণ্য করা হলে একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সমযোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হবে। এমনকি এমপিওভুক্তির পর শিক্ষকরা বিএড ডিগ্রি অর্জনে আগ্রহ হারাবেন। কারণ বিএড ডিগ্রি অর্জন করলেও সমগ্র চাকরি জীবনে ২টি, ডিগ্রি অর্জন না করলেও ২টি উচ্চতর স্কেল পাবেন। ফলে অদূর ভবিষ্যতে বিএড কলেজগুলো বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া এমপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১১ (৫) নং অনুচ্ছেদের কোথাও বিএড ডিগ্রি অর্জনের জন্য প্রাপ্ত স্কেলকে উচ্চতর স্কেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি ঐ অনুচ্ছেদে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য অর্থাৎ কর্মচারী থেকে শুরু করে প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষদের জন্য বলা হয়েছে, তাদের এমপিওভুক্তির তারিখ হতে ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হলে পরবর্তী উচ্চতর বেতন গ্রেড এবং পরবর্তী ৬ বছর পর একইভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবেন এবং সমগ্র চাকরি দুটি উচ্চতর গ্রেড পাবেন।

অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন গত ২১ জুলাই বিকেলে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে সে চিঠির জবাব এসেছে। স্পষ্টীকরণ চিঠিটি অগ্রায়ন করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

গত ১২ জুলাই অর্থ বিভাগের উপসচিব আছমা আরা বেগম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষকরা বিএড ডিগ্রি অর্জন সাপেক্ষে ১০ম গ্রেড প্রাপ্ত হওয়ার তারিখ থেকে গণনা করে এমপিও নীতিমালা অনুসারে ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরির পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত প্রাপ্য হবেন। তবে তারা সমগ্র চাকরি জীবনে দুইটির বেশি উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্ত হবেন না। বিএড ডিগ্রি প্রাপ্তি জনিত এক্ষেত্রে একটি উচ্চতর স্কেল হিসেবে বিবেচিত হবে

জানা গেছে, ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে টাইমস্কেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়মে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক লাখ এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী। তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের ‘টাইমস্কেলের’ পরিবর্তে ‘উচ্চতর গ্রেড’ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার ঘোষণা দেয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। সে বছরের ২৫ নভেম্বর এমপিও কমিটির সভায় সর্বসম্মতিতে শিক্ষকদের উচ্চতর গ্রেড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এমপিও নীতিমালা ১০ বছর পূর্তি এবং ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেয়ার কথা ছিল। তবে বিষয়টি নিয়ে কিছুটা কনফিউশন থাকায় গত মার্চ মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বিষয়টির স্পষ্টীকরণ ব্যাখ্যা চায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

গত ৩১ মে বিষয়টি স্পষ্ট করে পাঠানো চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে শিক্ষকরা পদোন্নতি বা টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল না পেয়ে থাকলে জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী উচ্চতর স্কেল পাবেন। তবে, চাকরি ১৬ বছর পূর্তিতে শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির নিয়ে আদালতে একটি মামলা চলমান আছে। তাই এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই।

শিক্ষার সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক শিক্ষার চ্যানেলের সাথেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে সয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক শিক্ষাডটকমের ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram - dainik shiksha Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website