একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদে ব্যাপক রদবদল - বিশ্ববিদ্যালয় - Dainikshiksha

একাডেমিক ও প্রশাসনিক পদে ব্যাপক রদবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক |

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল হাসান কলিমউল্লাহর দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মধ্যে প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিভিন্ন পদে ব্যাপক রদবদল ও নতুন করে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রক্টরিয়াল বডি, হল, বিভিন্ন দফতর এবং বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বেশকিছু শিক্ষককে।

সবশেষ, গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি প্রশাসনিক দফতরে শিক্ষকদের নতুন দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আগের উপাচার্যের আমলে ওই সব পদগুলো ছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের দখলে। এবার নীল দলের শিক্ষকদের হটিয়ে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ সমর্থিত শিক্ষকদের। সাধারণ শিক্ষকদের অভিযোগ আগের উপাচার্য নীল দল সমর্থিত শিক্ষকদের সব গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব প্রদান করে নজিরবিহীন দলীয়করণ করেছিলেন। ফলে অনেক যোগ্য শিক্ষক বঞ্চনার শিকার হয়।

এদিকে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইব্রাহীম কবীর স্বাক্ষরিত ভিন্ন ভিন্ন স্মারকে দেয়া চিঠির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান ড. আবু কালাম মো. ফরিদ উল ইসলামকে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. মোরশেদ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণকে লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টারের পরিচালক এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পরিচালকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান ড. মো. নজরুল ইসলামকে।

একই দফতরে সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরা তানজিয়া এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক জনাব জুবায়ের ইবনে তাহেরকে। গতকাল হতে এসব পদে শিক্ষকদের নিয়োগ কার্যকর হবে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। নিয়োগ প্রাপ্তদের বেশির ভাগই প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের বলে জানা গেছে। এছাড়াও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে এই হলের প্রভোস্ট পদে দায়িত্ব পালন করেন আগের উপাচার্য অধ্যাপক নুর উন নবীর অত্যন্ত আস্থাভাজন বলে পরিচিত বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। একই হলে সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তানিয়া তোফাজ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক আয়শা ছিদ্দিকা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাক ইসমিতা তাসনিম এবং উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক যারীন ইয়াছমিন চৈতী। এছাড়াও একই হলে সহকারী প্রভোস্ট হিসেবে পুনঃনিয়োগ পেয়েছেন উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক কুন্তলা চৌধুরী এদের বেশির ভাগ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠনের সদস্য।

এর আগেও বর্তমান উপাচার্য যোগদানের এক দিন পরেই গত ১৫ জুন প্রক্টরিয়াল বডিতে তিন জন সহকারী প্রক্টর নিযোগ দেন। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন সহকারী প্রক্টর মুহা. শামসুজ্জামান, ছদরুল ইসলাম সরকার, আতিউর রহমানও ছিলেন প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সদস্য। এছাড়াও জনসংযোগ দফতরে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নেতা অধ্যাপক শরীফা সলোয়া ডীনাকে প্রশাসক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাবিউর রহমানকে সহকারী প্রশাসক ইংরেজি বিভাগের আশিফ আল মতিনকে সহকারী প্রশাসক পদে নিয়োগ দেন বর্তমান উপাচার্য।

এছাড়াও ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নেতাদের প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এদিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান সহকারী প্রশাসক, তাবিউর রহমান এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রভোস্টসহ বিভিন্ন পদে রদ বদলের বিষয়ািট নিশ্চিত করেছেন। এদিকে নীলদল সমর্থিত শিক্ষকদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়ার ব্যাাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনের নেতারা। নীলদলের সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ জানান নীল দল মুক্তিযুদ্ধে চেতনায় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন লালনকারী সংগঠন। অথচ তাদের শিক্ষকদের বাদ দিয়ে ডান ও বাম ঘরনার শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়ার ঘটনা দুঃখজনক বলে জানান তিনি।

 

জারির অপেক্ষায় অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ যোগ্যতার সংশোধনী - dainik shiksha জারির অপেক্ষায় অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ নিয়োগ যোগ্যতার সংশোধনী প্রাথমিকে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রার্থীদের ২০ শতাংশ কোটা - dainik shiksha প্রাথমিকে সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ড প্রার্থীদের ২০ শতাংশ কোটা ১৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু - dainik shiksha ১৮২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও ৯২ প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় - dainik shiksha আরও ৯২ প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকতা ছেড়ে উপজেলা নির্বাচনে শিক্ষক - dainik shiksha শিক্ষকতা ছেড়ে উপজেলা নির্বাচনে শিক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয় - dainik shiksha প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয় প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ - dainik shiksha প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website