please click here to view dainikshiksha website

এক যুগেও এমপিওভুক্ত হয়নি পাবনার ১০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আলাউল হোসেন, পাবনা প্রতিনিধি | ডিসেম্বর ২৮, ২০১৫ - ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

পাবনা পূর্বাঞ্চলের (বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলা) প্রায় ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় ১২ বছর ধরে বিনাবেতনে চাকুরি করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি কর্তৃক নিয়োগ পেলেও বেতন-ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বেড়া উপজেলার মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজে গত ২০০৪ সালে কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের অধীনে বিএম শাখা খোলা হয়। প্রতিষ্ঠার প্রথম বছর থেকেই কাম্য ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা, নিয়মিত ভাল ফলাফলের পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ ও মানোন্নয়ন নিশ্চিত করায় ইতোমধ্যে বেশ সুনাম অর্জন করেছে কলেজটির বিএম শাখা। এরই ধারাবাহিকতায় এ কলেজটিতে ২০০৯ সালে স্নাতক(পাস) কোর্স চালু করা হয়। উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত এমপিও ভুক্ত থাকলেও বিএম শাখা ও স্নাতক স্তর এমপিওভুক্ত না হওয়ায় এই কলেজের ১৫জন শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিনাবেতনে চাকরি করছেন। বেতন ভাতা না পেয়ে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করে আসছেন।

এদিকে এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় উপজেলার কাশীনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি স্তরের শিক্ষকরাও মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ২০১০ সালে স্থাপিত ধোবাকোলা করোনেশন স্কুল এন্ড কলেজ নামের অপর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখাটি অদ্যাবধি এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারি বিনাবেতনে চাকরি করছেন। এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় একই অবস্থা সুজানগর উপজেলার সৈয়দপুর স্কুল এন্ড কলেজটি। ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজের ১০ জন শিক্ষক-কর্মচারী প্রায় এক যুগেরও অধিক সময় ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই উপজেলার রাণীনগর স্কুল এন্ড কলেজটিও ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ভাতা পাচ্ছেন না। এ ছাড়াও উপজেলার চিনাখড়া বিএম কলেজ, সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজ এর ডিগ্রি স্তর, সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি স্তর ও মালিফা বিএম ও কৃষি কলেজটি প্রায় এক যুগ ধরে প্রতিষ্ঠিত হলেও বেতন পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা।

মাশুন্দিয়া ভবানীপুর কেজেবি ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক মামুনুর রশিদ বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণেই শিক্ষকতার মত মহান পেশায় যোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু এ পেশায় এসে প্রায় পাঁচ বছর ধরে বেতন-ভাতা ছাড়া চাকুরি করতে হবে এটা ভাবিনি। কাশীনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মাসুদ রানা বলেন, দুটি সন্তান নিয়ে খেয়ে না খেয়ে সংসার চালাচ্ছি। সন্তানদের ঠিকমত লেখা-পড়ার খরচ দিতে পারছি না। এভাবে আর কত বছর চলবে?

সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক এনামূল হোসেন বলেন, চাকরি করি, এ কথা এখন লজ্জায় কাউকে বলতেই পারি না। সৈয়দপুর স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক হাফিজুর রহমান বলেন, এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছি। মাস শেষে খালি হাতে বাড়ি ফিরছি।

কদিম মালঞ্চি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, একের পর এক শতভাগ পাশের রেকর্ড গড়েও মেলেনি মাধ্যমিক পর্যায়ের এমপিও ভুক্তি। আর এ কারণে আমার প্রতিষ্ঠানের ৫জন শিক্ষক কর্মচারী বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিম্ন মাধ্যমিকের শিক্ষক কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন ভাতা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও মাধ্যমিকের শিক্ষক-কর্মচারীদের খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। যা অত্যন্ত অমানবিক মনে হয়।

মাশুন্দিয়া ভবানীপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল গনি বলেন, মানসম্পন্ন শিক্ষার পরিবেশ ও ভাল ফলাফলের সুবাদে এলাকাজুড়ে এখন আমাদের কলেজের সুনাম। কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক স্তর এমপিও ভুক্ত হলেও বিএম শাখা ও ডিগ্রি স্তর এমপিও না পাওয়ার কারণে শিক্ষকরা কর্মচঞ্চলতা হারিয়ে ফেলতে বসেছে।

পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়া এলাকা) আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আজিজুল হক আরজু বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকাসহ সারাদেশেই হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। এমপিও’র দাবীতে আমি সংসদে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তৃতা দিয়েছি। আমার এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিও’র ব্যাপারে আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশপত্র পাঠাবো।


সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন