এবার তৈরি করা হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার - বিবিধ - Dainikshiksha

এবার তৈরি করা হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

সব ধরনের শিক্ষার মূলভিত্তি ধরা হয় প্রাথমিক শিক্ষাকে। প্রাথমিক শিক্ষার দিকে দৃষ্টি দিয়ে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক ২ কোটি ৮৭ লাখ শিক্ষার্থীর প্রোফাইল তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নামে পরিচিতি (আইডি) নম্বর প্রদান করা হবে। আর আইডি নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা প্রদান করা হবে। সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকসের (সিআরভিএস) মাধ্যমে দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে একই ফ্রেমে নেয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যেই ১৬৪ কোটি ৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্পেরও অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। আজ বুধবার (১৩ মার্চ) দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন ওয়াজেদ হীরা।  

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্র জানায়, ১৫ বছরের উর্ধ্বে সাড়ে ১০ কোটি নাগরিকের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ আরেকটি ডাটাবেজের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ১০ কোটি নাগরিকের জন্য সময়ভিত্তিক স্বাস্থ্য শুমারি পরিচালনা করছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোতে ১৬ কোটি মানুষের দারিদ্র্যসূচক প্রস্তুতের অংশ হিসেবে একটা ডাটাবেজ তৈরি করছে।

তবে এসব ডাটাবেজে প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কোনো তথ্য না থাকায় প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর জন্য তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নাম, বাবা-মায়ের নাম একেক জায়গায় একেক ধরনের থাকে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এমনকি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক ধরনের তথ্য থাকে। তথ্যের গরমিলে শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের বিড়ম্বনায় পড়ছে। পরবর্তীতে সংশোধন করতে গেলে শিক্ষার্থীদের নানা বিড়ম্বনায়ও পড়তে হয়। এসব সমস্যা নিরসনে সহায়ক হবে ইউনিক আইডি। এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কোনো তথ্য আমাদের হাতে নেই। আমরা সব প্রাথমিক শিক্ষার্থীর হাতে ইউনিক আইডি তুলে দিতে একটি প্রকল্প পেয়েছি। এবার একটা ডাটাবেজ তৈরি হবে। ইউনিক আইডির মাধ্যমে এক ক্লিকেই শিক্ষার্থীর সব ধরনের তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী উপবৃত্তি ও বই ঠিকমতো পেল কিনা এসব তথ্যও জানা যাবে সহজে।

চলতি মাসের ৫ তারিখে এ বিষয়ে প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক সভা। জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ থেকে শুরু করে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর। প্রকল্পের অনুমোদন নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, প্রাথমিকের বাচ্চাদের জন্য একটি স্পেশালাইজড প্রোফাইল তৈরি করা হবে। তাদের গতিবিধি, জন্ম তারিখ এ রকম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এতে সংযুক্ত থাকবে। একটা কার্ড থাকবে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা এই কার্ড কন্টিনিউ (চলমান থাকবে) করবে। উপবৃত্তি পেল কি না-পেল, কত টাকা পেল- এগুলো এখানে থাকবে।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির দুই কোটি ১৭ লাখ শিক্ষার্থী এবং প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে নতুন ভর্তি হওয়া প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী মোট ২ কোটি ৮৭ লাখ প্রোফাইল তৈরি করা হবে। তাছাড়া প্রতিবছর এ প্রকল্পের আওতার প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এবতেদায়ি মাদরাসায় নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একক পরিচিতি (আইডি) নম্বর প্রদান করা এবং আইডির মাধ্যমে বই সরবরাহ, ভর্তি, উপবৃত্তিসহ অন্যান্য শিক্ষা সেবা প্রদান করা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা কর্তৃক ইলেক্ট্রনিক ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে বা তৈরির কাজ চলমান আছে। কিন্তু এসব ডাটাবেজ পারস্পরিক সমন্বয়যোগ্য না হওয়াতে এসব থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ডাটাবেজে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। আর এ ধরনের সমন্বয়যোগ্য ডাটাবেজের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে কয়েক বছর আগে সরকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একক সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিক্স তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ আগস্ট শিক্ষা সচিবের সভাপতিত্বে একটি অনানুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে সিআরভিএস ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের প্রাথমিক শিক্ষা সংক্রান্ত কম্পোনেন্ট তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়। মন্ত্রিসভা বিভাগ থেকে গত ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সিআরভিএস কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রস্তুত করা এবং শিক্ষার্থীদের তথ্য ভাণ্ডার গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাইয়ে এই প্রকল্পটি সিআরভিএস বাস্তবায়ন সম্পর্কিত সভায় উপস্থাপন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ বিষয়টি একনেকের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়া হয়।

প্রকল্পের মূল কাজ হলো, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির দুই কোটি ১৭ লাখ (বেইসলাইন) ও প্রকল্পের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছরে নতুন ভর্তিকৃত ৭০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার্থী প্রোফাইল প্রস্তুত করা, প্রতিবছর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদরাসায় নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল প্রস্তুত করা। প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একক পরিচিতি (আইডি) নম্বর প্রদান। আইডি নম্বরের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য সেবা প্রদান করা হবে। সেবার মধ্যে রয়েছে বই বিতরণ, ভর্তি, উপবৃত্তি, স্কুল ফিডিং ইত্যাদি। তিন বছর মেয়াদে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এই প্রকল্পের জন্য যে ব্যয় ধরা হয়েছে তার পুরোটাই সরকারি খাত থেকে ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পের সম্প্রসারিত পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করার নিমিত্তে প্রাথমিকোত্তর শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজের সঙ্গে প্রাথমিক স্তরের ডাটাবেজ সমন্বয়যোগ্য করা, এনআইডির ডাটাবেজ থেকে শিক্ষার্থীদের বাবা-মা বা অভিভাবকের এনআইডি যাচাই করার জন্য এনআইডি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা। এছাড়া প্রতি বছর নতুন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরে ভতি হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রাথমিক স্তরে প্রতিবছর তথ্য সংগ্রহ এবং তথ্য এন্ট্রি করার ব্যবস্থা রাখা, ইবতেদায়ি পর্যায়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল বা ডাটাবেজ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক করা, এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ও ইবতেদায়ি মাদরাসা অন্তর্ভুক্ত করা, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রোফাইল বা ডাটাবেজ ব্যানবেজ কর্তৃক করা। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এই ডাটাবেজ করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ দেয়ায় সরকারের জন্য সহজ হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ করাও সম্ভব হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় দেশের শতভাগ শিশুকে নিয়ে আসার সরকারী পদক্ষেপের ফলে প্রতিটি শিশুর জন্য একটি একক আইডি প্রদান করা হলে শুরু থেকেই একজন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য ধারণ এবং ব্যবহার করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে স্কুল থেকে ঝরে পড়াও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি ৩০ আগস্ট - dainik shiksha ১৬তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি ৩০ আগস্ট স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মে মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে - dainik shiksha স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের মে মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিতর্ক - dainik shiksha ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সংসদীয় কমিটিতে বিতর্ক প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ৫ দিন আগে অ্যাডমিট না পেলে যা করবেন - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ: ৫ দিন আগে অ্যাডমিট না পেলে যা করবেন নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha নতুন সূচিতে কোন জেলায় কবে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং নিয়ে যা বললেন ড. জাফর ইকবাল - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয় র‍্যাংকিং নিয়ে যা বললেন ড. জাফর ইকবাল সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website