please click here to view dainikshiksha website

ঘুষের হাট মাউশির আঞ্চলিক অফিস :ময়মনসিংহ

এমপিওভুক্তিতে ঘুষ লেনদেনে বিশ্বস্তদের পাশে রাখেন উপপরিচালক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি | আগস্ট ৯, ২০১৭ - ৮:৫০ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) ময়মনসিংহ অঞ্চলের কার্যালয়ে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘুষের টাকা লেনদেন করতে অতিবিশ্বস্ত হিসেবে শিক্ষক স্ত্রীকে নিজের অফিসে বদলি করে এনেছেন ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক এএসএম আবদুল খালেক। তার স্ত্রী এমপিওভুক্তির লেনদেন বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সরাসরি দেন-দরবার করেন। এছাড়া তার অনিয়মের বিশ্বস্ত সহযোগী এক কর্মচারী এক যুগ ধরে একই পদে কর্মরত আছেন। অপরদিকে, উপপরিচালকের নানা অনিয়মে সহযোগিতা না করায় ইতিমধ্যে দুই কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। এ কার্যালয়ে জাল সনদধারী শিক্ষককে এমপিওভুক্তিসহ নানা অনিয়ম নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবেজানা যায়, ডিজি অফিস ও মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের হাত করেই উপপরিচালক অনিয়ম করে যাচ্ছেন।

২০১৫ সালে মাউশি ময়মনসিংহ অঞ্চলের কার্যালয়ে শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির কাজ শুরু হয়। ২০১৬ সালের মে মাসে শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক এএসএম আবদুুল খালেক মাধ্যমিক উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার স্ত্রী রেজাই নাছরিনকে জেলা সদরের বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বদলি করিয়ে মাউশি কার্যালয়ে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে যোগদান করান। বর্তমানে আবদুুল খালেক উপপরিচালক (ডিডি) ও আইএস (ইন্সপেক্টর অব স্কুল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, আইএস হিসেবে তিনি এমপিওর আবেদন প্রথমে প্রত্যাখ্যান করেন; পরে আর্থিক সুবিধা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে এমপিও প্রদান করেন। এ ছাড়াও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জাল সনদধারীদের এমপিওর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বর্ষাগাতি বালিকা দাখিল মাদ্রাসার জুনিয়র শিক্ষক (বেতন কোড-১৫) মোরশেদ আলমের নিয়োগকালীন শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এইচএসসি। পরে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএ ডিগ্রি নেন এবং বর্তমান ডিডির মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক (বেতন কোড-১১) হিসেবে এমপিওভুক্ত হন। ২০১৩ সালে সংশোধিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী শুধু মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতায় উচ্চতর স্কেল প্রদান করা যাবে; মাদ্রাসার নয়। অভিযোগ করা হয়েছে, তার বিএ পাসের সনদ সঠিক নয় এবং ডিডি আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাকে এমপিওভুক্ত করেছেন। এ রকম জাল সার্টিফিকেট দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার কাগারচর এইচএমইউ বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) আবদুুল কুদ্দুস, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (শরীরচর্চা) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ আরও কয়েটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক অবৈধ সুবিধা নিয়েছেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ এএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত শাখার অনুমোদন নেই। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শাখা অনুমোদন ভুয়া প্রমাণ হলে এমপিও বাতিল করা হয়। বর্তমান ডিডি আর্থিক সুবিধা নিয়ে গত মে মাসের এমপিওতে অতিরিক্ত শাখার অনুমোদন দেন। শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কালিকাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও এরকম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

ময়মনসিংহ সদরের মাইজবাড়ি আবদুল খালেক উচ্চ বিদ্যালয়ে সায়মা নিলুফা ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পান এবং এমপিওভুক্তির জন্য মাউশির নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করেন। ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় নানা অজুহাতে এমপিও প্রদান না করে হয়রানি করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তবে একই যোগ্যতাসম্পন্ন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার নবারুণ বিদ্যানিকেতনের সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) সোমা দাশগুপ্ত এবং আরও একজন একই উপজেলায় গত মে মাসে এমপিও পেয়েছেন। উপপরিচালকের অনিয়মে সহায়তা না করায় ময়মনসিংহের মাউশির অফিস সহকারী রইস উদ্দিন শ্যামলকে কয়েক দিন আগে ফরিদপুরে এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আওলাদ হোসেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রেজাউল করিমকে জামালপুরে ও প্রোগ্রামার আক্তারুজ্জামানকে স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ দিয়ে সিলেটে বদলি করা হয়। অন্যদিকে, কার্যালয়ের সাঁটলিপিকার আবুল কালামকে ডিডি ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) করেছেন। আবুল কালাম ১২ বছরের বেশি সময় ধরে একই অফিসে কর্মরত। ডিডির আরেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী নৈশপ্রহরী নূর হোসেন। এই দুই কর্মচারীকে দিয়ে ডিডি সব আর্থিক লেনদেন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এএসএম আবদুুল খালেক কার্যালয়ে বদলি সম্পর্কে বলেন, ‘আমি কোনো বদলি করিনি। এসব বদলি ঢাকা থেকে হয়েছে।’ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম সম্পর্কে তিনি বলেন, জাল সনদের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দায়ী। অনলাইনে আবেদনের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সুপারিশের পর তা অনুমোদিত হয়। নিয়ম মেনেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তার অফিসের কোনো কর্মচারী অনিয়মে সম্পৃক্ত নয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৩০টি

  1. সুভাষ সরকার, বরিশাল। says:

    শর্ষের মধ্যে ভুত থাকলে অন্য কেউ ছাড়াতে পারে। ঘুষ ছাড়া কোথাও ফাইল নড়ে ?

  2. Shahida Khatun, Bhutia High School, Modhupur, Tangail says:

    Amar ei school ti Nine & Ten Shikrete Papto, Ntrca 09/10/2016 Amaka Newok Deyase. Ami MPO Pabo ki na.

  3. এম.সোলায়মান এম.এ says:

    এদের প্রতি নজর ও খবর দারি রাখা উচিত তার পরে হতেনাতে ধরে কঠোর শাস্তির লাইনে বিচার করা দরকার
    রাংগাবালী পটুয়াখালী

  4. Md. Abul Kalam Azad says:

    এর সঠিক বিচার হলে সবাই শিক্ষা নিবে ।

  5. Md.Jowel Rana says:

    স্বামী স্ত্রী দু জনকে বদলী করা হোক ।তাহলেই আরাম চলে যাবে ।

  6. মোঃ বাবুল গাজী সহকারি শিক্ষক(গণিত) গলাচিপা ,পটুযাখালী। says:

    সরকারের সঠিক বিচার করা উচিৎ।

  7. মুহা.সাইফুল্লহ বিন জাকারিয়া.পিরোজপুর, মঠবাড়ীয়া. মুঠোফোন-01719-482639 says:

    এমপিও ক্ষেত্রে এত দুর্নীতি. তাহলে আমরা কি বিষ খাব না কি.কোথায় যাব কি করবো. 4/5 বছর যাবৎ বৈধ ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে বতর্মানে যথোপযুক্ত বিষয় কম্পিউটার / আইসিটি শিক্ষকদের এমপিও নাই এই শিক্ষকতার চেয়ে সন্ত্রাসী, চাদাবাজী,দুর্নীতি কালো টাকার ব্যবসা করা ভালো.কারন তারা সর্বোত্র পার পেয়ে যাচ্ছে.

  8. ভূপাল প্রামানিক, প্র:শি: নামুজা উচ্চ বি: & সেক্রেটারি, বা: প্রধান শিক্ষক সমিতি, বগুড়া সদর। 01711 515468 says:

    বদলী সমাধান নয়

  9. At says:

    Ame baidho vaba niog payace ntrca.Mpo paye na kano.Barisal.

  10. মো: মহিউদ্দিন,সহকারী শিক্ষক বি,এ,কে,পি,কে,এম,এম স্কুল পাইকগাছা,খুলনা says:

    টাকা ছাড়া কাহারোর বেতন হয়েছে কি না আমার জানা নেই।

  11. মোস্তাফিজুর রহমান।সহ:শিক্ষক(গনিত)দূর্গাপুর হাজী মোবারক আলী দাখিল মাদরাসা।বরিশাল।01711857492 says:

    এটাই নিয়ম।এগুলোর মত চোর আর বেয়াদব কোথাও নাই।আমার বি এড স্কেলের সময় আমাকে সাত সমুদ্র পার করাইছে

  12. মোঃ আবুল কালাম আজাদ says:

    এই বেটা আগে থেকেই চোরের স্বাভাব । এদের উচিত শিক্ষা হওয়া দরকার ।

  13. Krshibid Shahinur Islam Sumon says:

    Punishment chi

  14. Masum says:

    Husband and wife’s are dishonest.

  15. md mizan hm says:

    todonto purbok comment kora dorker.

  16. Md. Manjurul Haque, Head Teacher, Shampur High School, ISlampur, jamalpur says:

    Dainik shikka busnes

  17. আখতারু আলম সহকারী গ্রন্থাগারিক ককক্সবাজার ইসলামীয়া মহিলা কামিল মাদরাসা কক্সবাজার। says:

    ঘোষ খোর অধ্যক্ষ ও এডিডি জসিমের ঘোষের বলি আমার পরিবার চার বৎসর ধরে আমার এমপি ও ঠেকায় রেখেছে এদের কোন দয়া নেয়। ঘোষ এর নেশায় এরা জানোয়ার এর চাইতেও নিকৃষ্ট হয়ে গেছে। কক্সবাজার সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার জনাব সেলিম স্যার নিজ. খরচে আমার ফাইল চট্টগ্রাম পৌছয়ে দায়িত্ব শেষ করেনি বরং রাত 10টা.11টায় মোবাইল করে খবরাখবর নিয়েছেন। বাংলার প্রত্যেক অফিসে এরকম স্যার চাই।

  18. আখতারু আলম সহকারী গ্রন্থাগারিক ককক্সবাজার ইসলামীয়া মহিলা কামিল মাদরাসা কক্সবাজার। says:

    এই সকল জানোয়ার দের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। এর বুঝতে পারে না জীবন যন্ত্রনা কি? এদের উপর যদি আমাদের মত যন্ত্রনায় ফেলা হয় তখন বুঝতে পারবে।

  19. মো:সাইফুল ইসলাম,অধ্যক্ষ কোহিনৃর হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ,তরগাও,কাপাসিয়া,গাজীপুর। says:

    সাজা হওয়া উচিৎ।

  20. Milon Kymar Roy says:

    rajnity nakore sokol sikhok ke beton die ar gus thakbena, promanito hole chirakhanai newa uchit, shikkar name gush mene newa jaina

  21. মোজাহারুল ইসলাম says:

    স্থানীয় নেতারা এটাকে সাপোট করলেএইরুপ ভোগান্তি হয়। তারা কি দেখেও দেখেনা।

  22. Karttic chandra chakra barty. says:

    আপনার মন্তব্য লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয়ার ফলে আজ বাংলাদেশে অধিকাংশ শিক্ষকদেরই জাল সনদে চাকুরী হয়েছে।তদন্ত করে দেখুন, সত্যটা বেরিয়ে আসবে।

  23. জাহিদুল ইসলাম says:

    শাখা শিক্ষকদের এম পি ও চাই

  24. এম.সোলয়মান এম.এ says:

    কম্পিউটারের রেজাল্ট কবে প্রকাশ করবে দৈনিক শিক্ষার মাধ্যমে জানতে চাই

  25. Eunus Khan says:

    এই সব জানোয়ারগুলো আমাদেরকে শেষ করে দিয়েছে,এগুলোকে জুতাপেটা করে অফিস থেকে বের করা দরকার

  26. মোঃ আমিনুল ইসলাম says:

    এই বেটাকে খাগড়াছরি বদলি করা হোক।

  27. shafiqul islam, ahm fulkocha high school says:

    Step should be taken after proper investigation.

  28. মোঃ নজরুল ইসলাম, সহঃ শিক্ষক। says:

    ওকে স্বেচ্চায় চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো উচিত। নতুন আরেক জন সৎ ডিডি হলে শিক্ষক সমাজ উপকৃত হতো।

  29. Md. Shahjahan Shaju,(Lecturer Sociology )R A Goni School and college,Sundiapur , Sadullapur ,Gaibandha. says:

    মাননীয় প্রধান মন্ত্রী , শিক্ষা মন্ত্রী ,অর্থ মন্ত্রী ও অন্নান্ন মন্ত্রী মহাদয় এর নিকট আমার আকুল আবেদন আমাদের বেবস্তা করে দেবেন ,আমরা আপনার সন্থান। অনেক কষ্টে আসি পরিবার নিয়ে।শিক্ষা প্রতিষ্টান এম পি ও Please please please ..আমরা আপনার সন্থান .

  30. Md. Shahjahan Shaju,(Lecturer Sociology )R A Goni School and college,Sundiapur , Sadullapur ,Gaibandha. says:

    আপনার কাছে সব সম্ভব এমনি একজন সরকার। মানুষ দরদী সরকার আপনি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নিকট আমার আকুল আবেদন আমাদের বেবস্তা করে দেবেন ,আমরা আপনার সন্থান। অনেক কষ্টে আসি পরিবার নিয়ে। শিক্ষা প্রতিষ্টান এম পি ও ,

আপনার মন্তব্য দিন