এমপিওভুক্তিতে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্নীতি : টিআইবি - বিবিধ - Dainikshiksha

এমপিওভুক্তিতে ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্নীতি : টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অনুযায়ী ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছে।   এরমধ্যে শিক্ষা খাতে সরকারি ও এমপিওভুক্তিতে  ৪২ দশমিক ৯ শতাংশ  সেবাগ্রহীতা ঘুষ বা নিয়ম-বহির্ভূত অর্থ দিতে বাধ্য হন। দেশের ৮৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ঘুষ না দিলে কোনো সেবা খাতেই সেবা মেলে না।

 দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) খানা জরিপ-২০১৭ তে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) জরিপটি প্রকাশ করে টিআইবি। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে টিআইবির কার্যালয়ে এ জরিপ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়ার তথ্য এবং ঘুষ ছাড়া সেবা না পাওয়ার তথ্যে বোঝা যায়, ঘুষ আদায় অনেকটাই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে।

টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতির সঙ্গে বসসবাস করার সংস্কৃতি আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। এটা জাতিগতভাবে অসম্মানজনক ও অমর্যাদাকর।

জরিপে বলা হয়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৬৮৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ এবং জাতীয় বাজেটের ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে ২০১৫ সালে টিআইবি সর্বশেষ খানা জরিপ করে। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের তুলনায় ২০১৭ তে ঘুষের পরিমাণ ২১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। 

২০১৭ খ্রিস্টাব্দের জরিপের তথ্য অনুসারে দেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এরপর রয়েছে যথাক্রমে পাসপোর্ট, বিআরটিএ, বিচারিক সেবা, ভূমি সেবা। টিআইবি মোট ১৫টি খাতকে এ জরিপে অন্তর্ভুক্ত করেছে। জরিপের খাতগুলো হচ্ছে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি সেবা, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা, বিচারিক সেবা, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, বিআরটিএ, কর ও শুল্ক, এনজিও, পাসপোর্ট, বিমা ও গ্যাস। এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আছে প্রশ্নপত্র, ওয়াসা, নির্বাচন কমিশন ও ডাক বিভাগ। সংস্থাটি বলছে, যেসব খাত সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আর্থিক নিরাপত্তা বিধানে অবদান রাখে, সেগুলোকেই জরিপে আনা হয়। 

সংস্থাটি বলেছে, এই জরিপে দুর্নীতিকে তারা সংজ্ঞায়িত করেছে সেবা খাতে ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতার অপব্যবহারকে। সার্বিকভাবে ৬৬ দশমিক ৫ শতাংশ খানা সেবা নিতে গিয়ে দুর্নীতির শিকার হয়েছে।

জরিপে বলা হয়, খাতওয়ারি জরিপের তথ্য অনুসারে গ্যাস, কৃষি ও বিচারিক খাতে উল্লেখযোগ্য হারে ঘুষ বেড়েছে। আর কমেছে শিক্ষা, পাসপোর্ট ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান খাতে। এ ছাড়া ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের তুলনায় সেবা খাতে ঘুষের শিকার খানার হার কমলেও ঘুষ আদায়ের পরিমাণ বেড়েছে। তথ্য অনুসারে ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে খানাপ্রতি সর্বোচ্চ ঘুষ আদায়কারী খাতগুলো হলো গ্যাস (৩৩ হাজার ৮০৫ টাকা), বিচারিক সেবা (১৬ হাজার ৩১৪ টাকা) ও বিমা খাত (১৪ হাজার ৮৬৫ টাকা)। ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার খানার মধ্যে নিম্ন আয়ের এবং গ্রাম অঞ্চলের মানুষের সংখ্যা বেশি। তাঁদের ব্যয়িত অর্থের পরিমাণও বেশি। চাকরিজীবী বা শিক্ষিত মানুষের তুলনায় কৃষক, শ্রমিক, জেলে, পরিবহন শ্রমিক বা সাধারণ পেশার মানুষেরাই বেশি দুর্নীতির শিকার হন।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের পাশাপাশি টিআইবি ১২ দফা সুপারিশও তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্নীতিতে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা ও শাস্তি দেওয়া; দুদকের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া; নৈতিক আচরণবিধি প্রণয়ণ; ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রণোদনার সৃষ্টি; সেবা প্রদান পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো; জনগণের সচেতনতা ও গণমাধ্যমের সক্রিয়তা বৃদ্ধি; তথ্য অধিকার আইন ও তথ্য প্রকাশকারীর সুরক্ষা আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন; তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডর চেয়ারপারসন সুলতানা কামাল বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি কমানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। যাঁরা সেবা দিচ্ছেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না। এটা দেশ পরিচালকদের ব্যর্থতা। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন যে আর্থসামাজিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে দুর্নীতিমুক্ত থাকা কঠিন হয়ে গেছে। ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। মানুষের আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লাগছে। দুর্নীতির কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ সময় বলেন, দুর্নীতির এই ব্যাপকতা উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, একসময় ধারণা করা হয়েছিল, বেতন-ভাতা বাড়লে দুর্নীতির প্রকোপ কমবে। কিন্তু তা দেখা যাচ্ছে না। যাঁরা ঘুষ আদায়ে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য বেতন-ভাতা কোনো উপকরণই নয়। জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলেন, তরুণেরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাঁদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দুর্নীতির এত ব্যাপকতার মধ্যে সম্প্রতি সরকারি চাকরি আইন ২০১৮ নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সে আইন পাস হলে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারে দুদকের ক্ষমতা কমে যাবে। এ ক্ষেত্রে কীভাবে দুর্নীতি দমন সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটা অসাংবিধানিক ও অগ্রহণযোগ্য। কোনো বিশেষ শ্রেণিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য আইন হওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, দুর্নীতির জন্য দুদক আইনে প্রধানমন্ত্রীসহ যেকোনো জনপ্রতিনিধিকে গ্রপ্তার করা গেলেও একজন সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করতে অনুমতি লাগবে—এটার কী যৌক্তিকতা? 

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনের চোখে সবার সমান হওয়া উচিত। আমাদের যা আইন আছে তা সময়োপযোগী এবং যথার্থ। তবে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রেই আমাদের যত ঘাপলা।

অনুষ্ঠানে টিআইবির ব্যবস্থাপনা পরিষদের উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম, একই বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ফারহানা রহমান ও ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোহাম্মদ নূরে আলম।

ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় ঠেকাতে ১০ কমিটি - dainik shiksha ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় ঠেকাতে ১০ কমিটি এমপিওভুক্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের ১১২৪ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের ১১২৪ শিক্ষক নভেম্বরের এমপিওতেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওতেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ - dainik shiksha মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর - dainik shiksha ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ এমপিওভুক্ত হচ্ছেন মাদরাসার ২০৭ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন মাদরাসার ২০৭ শিক্ষক বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ ২৮৮ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত - dainik shiksha ২৮৮ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website