please click here to view dainikshiksha website

এমপিওভুক্ত কলেজে পদোন্নতি যেন সোনার হরিণ

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ | আগস্ট ১৪, ২০১৭ - ১:৪১ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

অভিন্ন সিলেবাসে পাঠদানকারী এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের সঙ্গে সরকারিদের পার্থক্য পর্বতপ্রমাণ। সরকারি কলেজে কর্মরতগণের পদোন্নতির ক্রমধারায় শিক্ষাপ্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে চরম শিখরে উত্তীর্ণ হওয়াসহ আমলাতন্ত্রের শীর্ষপদ (সচিব) অলংকৃত করবার উদাহরণ ও সুযোগ রয়েছে।

এমপিওভুক্ত কলেজের একজন প্রভাষক থেকে সহকারি অধ্যাপক পদায়নে অনুপাত নামক কালো আইনে অধিকাংশের পথচলা দূর্ভাগ্যের কাঁদায় আটকে আছে! কলেজে অধ্যাপনারতদেরকে সসম্মানে ‘অধ্যাপক’ বলা হলেও তাদের জন্য ‘সহকারী অধ্যাপক’ পর্যন্ত পদোন্নতির সামান্য সুযোগ থাকলেও নেই ‘সহযোগী’ বা ‘অধ্যাপক’ হওয়ার উপায়!

যে চাকরি বা প্রতিষ্ঠানে ‘সহ’ ‘উপ’ ‘যুগ্ম’ ‘সাব’ ‘জুনিয়র’ ইত্যাদি উপসর্গযুক্ত পদবি থাকে সেখানেই চূড়ান্তধাপে পূর্ণ-পদবিধারী থাকেন। পরিচালকের উর্ধ্বতন হিসেবে মহাপরিচালক, সচিবের উর্ধ্বতন হিসেবে থাকেন সিনিয়র সচিব। এমপিওভুক্ত কলেজে সহযোগি অধ্যাপক বা অধ্যাপকের পদ না থাকায় জিজ্ঞাসা, ‘সহকারী অধ্যাপকগণ’ কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহকারি? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকায় সহযোগি অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের শর্তসাপেক্ষ সীমিত সুযোগের কথা থাকলেও তাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে অর্থায়ণ করা হয় না।

কাজেই, অনুপাত প্রথায় আটকে যারা ‘প্রভাষক’ পদেই জীবন-যৌবন হারিয়ে, আর্থিকক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদেরকে জ্যেষ্ঠতাক্রমানুসারে ‘সহকারি অধ্যাপক’ ‘সহযোগি অধ্যাপক’ ‘অধ্যাপক’ হিসেবে ‘সম্মানসূচক’ পদোন্নতি দেওয়া হোক এবং অনতিবিলম্বে অমানবিক অনুপাত প্রথা বাতিল হোক এটাই সবার আকাঙ্খা।

এমপিওভুক্ত কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ হতে চাইলে প্রার্থীকে নতুন করে চাকরি খুঁজতে হয়। চাকরি পেলে আগের পদ ছাড়তে হয়। এখানেও পদোন্নতির মাধ্যমে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের পদ পূরণের লক্ষে এমপিওভুক্তদের জ্যেষ্ঠতাক্রমের একটি প্যানেল বা ‘ফিটলিস্ট’ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঐ পদগুলো পূরণ করা যায়। অথবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন বিভাগ, বিষয়ের চেয়ারম্যান, হল প্রভোষ্ট, ডিন যে প্রক্রিয়ায় মনোনীত হন ঐ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষের পদগুলো পর্যায়ক্রমিক পদায়নের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে। কেননা, ‘নিয়োগবানিজ্যে’র কালোছায়া থেকে নিঃষ্কৃতির জন্যই গঠিত হয়েছে এনটিআরসি’।

মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ: প্রভাষক, কাপাসিয়া, গাজীপুর।

[মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়]

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ১৬টি

  1. মণি রহমান says:

    তথাকথিত অনুপাত প্রথা একটি কালো প্রথা! পরিশ্রম সকলেই সমান করেন। অথচ মাত্র ক’জন পান সহকারি অধ্যাপকের পদোন্নতি! এ নিয়ে সারা দেশের কলেজগুলোতেই বছরের পর বছর কমিটি ও ন্যায্য প্রাপ্যদের দ্বন্ধ লেগেই থাকে! ঝুলে থাকে ফাইল মাউশিতে! তাই, দ্বন্ধের অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থেই মেয়াদ পূর্তিতে সবাইকেই এটা দেয়ার ব্যবস্থা করা অত্যাবশ্যক।

    • মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ says:

      যে চাকরি বা প্রতিষ্ঠানে ‘সহ’ ‘উপ’ ‘যুগ্ম’ ‘সাব’ ‘জুনিয়র’ ইত্যাদি উপসর্গযুক্ত পদবি থাকে সেখানেই চূড়ান্তধাপে পূর্ণ-পদবিধারী থাকেন। পরিচালকের উর্ধ্বতন হিসেবে মহাপরিচালক, সচিবের উর্ধ্বতন হিসেবে থাকেন সিনিয়র সচিব। এমপিওভুক্ত কলেজে সহযোগি অধ্যাপক বা অধ্যাপকের পদ না থাকায় জিজ্ঞাসা, ‘সহকারী অধ্যাপকগণ’ কোন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সহকারি?
      মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
      সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ
      কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর ১৭৩০

  2. Mamun Azhary, Dhaka says:

    অনুপাত প্রথায় আটকে যারা ‘প্রভাষক’ পদেই জীবন-যৌবন হারিয়ে, আর্থিকক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদেরকে জ্যেষ্ঠতাক্রমানুসারে ‘সহকারি অধ্যাপক’ ‘সহযোগি অধ্যাপক’ ‘অধ্যাপক’ হিসেবে ‘সম্মানসূচক’ পদোন্নতি দেওয়া হোক এবং অনতিবিলম্বে অমানবিক অনুপাত প্রথা বাতিল করা হোক ।

  3. মোঃ শহিদুল ইসলাম প্রভাষক, পরিসংখ্যাস বিভাগ, গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রী কলেজ, গোদাগাড়ী, রাজশাহী। says:

    আমার মনে হয় বেসরকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির ব্যাপারে সরকারের কোন রকম কৌতুহল নেই অথবা পদোন্নতির বিষয়টা জানার সদিচ্ছা নেই। তানা হলে একজন কোন প্রতিষ্ঠানে প্রভাষক পদে এমপিও পাওয়ার কত বছর পরে সহকারী অধ্যাপক হবে, (সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক তো দুরে থাক) তা যদি সরকার জানত, তাহলে হয়ত কোন একটা ব্যবস্থা হত। বর্তমান অনুপাত ( সাত জনে দুই জন) পদ্ধতি চালু থাকার একজন শিক্ষক প্রভাষক থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক হতে সে অবসরের দৌড় গোড়ায় পৌঁছে যায়। কাজেই অনুপাত পদ্ধতি বাদ দিয়ে শিক্ষকের এমপিওর ভিত্তিতে পদোন্নতি করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ রইল।

  4. AG says:

    সবই কপাল রে ভাই. কেন যে সরকারি কলেজে ঢুকলেন না. বিসিএস পাশ করে প্রাইমারী শিক্ষক, আর কোন পরিক্ষায় পাস না করে সরকারি কলেজের অধ্যাপক, শিক্ষা প্রশাসনের পরিচালক, মহাপরিচালক ইত্যাদি হওয়া, এটাও কপাল.

  5. Md. Mahfuzur Rahaman says:

    corai nashune dhormer kahiny .ashob dukkher katha ki tara shunte pabe ?

  6. Kabir says:

    এক সাথে কলেজ এ প্রভাষক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার পর ৮ বছর পর ৪ জন সহকারী অধ্যাপক হলেন,বাকিরা গত ১৫বছর যাবত প্রভাষক হিসাবে কর্মরত, এই বৈষম্য এর কারণে সমভাবে পাঠদান করা সম্ভব!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! হায়রে শিক্ষা ব্যবস্থা?????????? লজ্জা নেই দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের! “!!!!!!! আসলে তারা দেশের উন্নয়ন চায় না। তারা চায় ক্ষমতা!!!!

  7. Kabir bin belyat says:

    Non govt teachers are deprived in historically. It should be stop now .every teacher have the right
    .

  8. মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ । প্রভাষক (আরবী) । মাঝের চর ফাজিল মাদ্রাসা, চরফ্যাশ, ভোলা, বরিশাল । says:

    অনতিবিলম্বে অমানবিক অনুপাত প্রথা বাতিল করা হোক ।

  9. মোঃ জিয়াউর রহমান says:

    অনুপাত প্রথায় আটকে যারা ‘প্রভাষক’ পদেই জীবন-যৌবন হারিয়ে, আর্থিকক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদেরকে জ্যেষ্ঠতাক্রমানুসারে ‘সহকারি অধ্যাপক’ ‘সহযোগি অধ্যাপক’ ‘অধ্যাপক’ হিসেবে ‘সম্মানসূচক’ পদোন্নতি দেওয়া হোক অন্যথায় মৃত্যু প্রথা চালু করে হলেও সহকারি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করুন। কেমন ?

    • মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ says:

      বরং অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষের পদ পূরণের লক্ষে এমপিওভুক্তদের জ্যেষ্ঠতাক্রমের একটি প্যানেল বা ‘ফিটলিস্ট’ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ঐ পদগুলো পূরণ করা যায়। অথবা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন বিভাগ, বিষয়ের চেয়ারম্যান, হল প্রভোষ্ট, ডিন যে প্রক্রিয়ায় মনোনীত হন ঐ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অধ্যক্ষ উপাধ্যক্ষের পদগুলো পর্যায়ক্রমিক পদায়নের মাধ্যমে পূরণ করা যেতে পারে।
      মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ
      সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ
      কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ, কাপাসিয়া, গাজীপুর ১৭৩০

  10. মোঃ ইউসুফ আলী says:

    আপনার মন্তব্যঅনুপাত প্রথায় আটকে যারা ‘প্রভাষক’ পদেই জীবন-যৌবন হারিয়ে, আর্থিকক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদেরকে জ্যেষ্ঠতাক্রমানুসারে ‘সহকারি অধ্যাপক’ ‘সহযোগি অধ্যাপক’ ‘অধ্যাপক’ হিসেবে ‘সম্মানসূচক’ পদোন্নতি দেওয়া হোক এবং অনতিবিলম্বে অমানবিক অনুপাত প্রথা বাতিল করা হোক ।

  11. মো: মানির হোসেন says:

    শিক্ষা জাতীর মেরুদন্ড,- মেরুদন্ড যদি দুর্বল হয় তবে জাতী সামনে আগাবে কি ভাবে? মেরুদন্ড আগে ঠিক করা দরকার ।

  12. Kabir says:

    বৈষম্য বৈষম্য বৈষম্য!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!! বৈষম্য!!!! দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কেউ ভাবে না ! একেই বলে শিক্ষা পরিবার?????????

  13. Shahjahan says:

    এ কোন দেশে আছি আমরা। শুধু ঝুলুম,ঝুলুম!!!!!!!! ৪/৫ জন সহকারী অধ্যাপক হলেন, বাকি ১০/১২ জন আজীবন প্রভাষক হিসাবে থাকতে হবে। এতে কি সমভাবে কাজ করা সম্ভব।

আপনার মন্তব্য দিন