এমপিও বঞ্চিত শিক্ষকদের মর্মবেদনা এবং প্রাসঙ্গিক কথা - মতামত - Dainikshiksha

এমপিও বঞ্চিত শিক্ষকদের মর্মবেদনা এবং প্রাসঙ্গিক কথা

আকমল হোসেন |

‘কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনী যারে’ যার পেটে ক্ষুধা, ক্ষুধার জ্বালা তো তারই। যে কোন দিন অভুক্ত থাকেনি, তার তো ক্ষুধার জ্বালা বোঝার কথা নয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীর পেশা ও স্বার্থগত বিষয়ে দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, কেউই বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিনিধি নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ আর ডিজিটাল শব্দের সৃষ্টিকারী শাসক মহলের ক্ষমতার বছরেও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের মর্মবেদনা কমেনি বরং বেড়েছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রাম, মুক্তি সংগ্রামের প্রস্তুতি সর্বশেষ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম ৩০ লাখ মানুষের জীবন দান এবং ২ লক্ষাধিক মা-বোনের আত্মদানে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ।

দেশ পরিচালনার নীতি, জনগণের স্বার্থের বাস্তবায়নে সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৭২ সালের সংবিধানের। সংবিধানের ১৫ ধারায় জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসার নিশ্চয়তা বিধানের অঙ্গীকার করেছিল রাষ্ট্র। সংবিধানের ১৭ ধারায় সবার জন্য একই ধরনের অসাম্প্রদায়িক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছিল। জনগণের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য সম্পদের সুষম বা সাম্য বণ্টনের জন্য সমাজতন্ত্রকে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির একটি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-ই খুদা শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিলেন। সুপারিশ করেছিলেন জাতিসংঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কোকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি জিডিপির ৭ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের। ঐ সময়ের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে খুদা কমিশন জিডিপির ৫ শতাংশ আপাতত বরাদ্দের কথা বলেছিলেন।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরে ঐ নির্দেশনার অর্ধেকও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় ৩৬ হাজার ১০০ বেসরকারি প্রাইমারি স্কুল জাতীয়করণ করা হয়েছিল। কিন্তু মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা তখন পুরোপুরি ব্যক্তি ও সমাজ নির্ভর ছিল। ১৯৮২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিও এর আওতাভুক্ত হন এবং চিকিৎসা ভাতা প্রবৃদ্ধি এমনকি কোন বাড়ি ভাড়া তখনো প্রদান শুরু হয়নি। দুঃখজনক হলেও সত্য, শিক্ষাকে সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হিসেবে ঘোষণা করলেও সরকার বেসরকারি শিক্ষায় সেইভাবে অর্থায়ন ১৯৮১ সালের পূর্বে করেনি। লোক সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রাথমিক স্তরের সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকার বেশি প্রতিষ্ঠান গড়ে না তোলায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষা কার্যক্রমের প্রধান মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়। ফলে ৯০-এর দশক থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিস্তৃতি লাভ করে। প্রয়োজনীয়তাও ছিল, গড়ে উঠেছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই রকম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে বড় ধরনের নিয়োগ বাণিজ্য শুরু হয়। ব্যক্তির নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে ডোনেশন প্রথা, নিয়োগের ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পরিষদের কর্তৃত্ব প্রদান সেই সঙ্গে এটাকে দলীয়করণ করায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বাণিজ্য ক্যানসারের রূপ ধারণ করেছে যেটা বর্তমানে চলছে।

বর্তমানে ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্ত। সাড়ে সাত হাজার প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি ছিল যারা এমপিও পাওয়ার যোগ্য, এদের মধ্যে থেকে সরকার ১৬৬২টি প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করেছে। এই সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করলেও ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর ১৪৪১ জন শিক্ষক-কর্মচারী ১০-১৫ বছর পূর্বে গভর্নিং বডি কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত। নিয়োগের ত্রুটির কথা বলে এদের এমপিও বন্ধ রাখা হয়েছে। বেতন ভাতার দাবিতে এই সব শিক্ষক-কর্মচারী তিন দফা ডিজি মাউশির সামনে অনশন করেছেন, কর্তৃপক্ষের আহ্বানের প্রেক্ষিতে তারা অনশন প্রত্যাহার করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য কর্তা ব্যক্তির প্রতিশ্রুতি আলোর মুখ দেখেনি, শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তিরও অবসান হয়নি। কথা হচ্ছে এই ভোগান্তির জন্য দায়ী কে? বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষকদের কোন ভূমিকা নেই। নিয়োগ কমিটিতে সরকারি প্রতিনিধি থাকেন। স্কুল পর্যায়ে সরকারি স্কুলের শিক্ষক গভর্নিং বডির সভাপতি সেখানে মূল ভূমিকা পালন করেন। ডিগ্রি কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অনুমোদন নিয়ে শিক্ষা দীর্ঘদিন কার্যক্রম পরিচালনা করে এলেও ডিগ্রি কোডভুক্ত না হওয়ায় এ স্তরের শিক্ষকরা বেতনভাতা পাচ্ছেন না ১৫ থেকে ২০ বছর যাবৎ, সম্প্রতি ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ডিগ্রি কোডভুক্ত হওয়ায় সেই সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা না পাওয়ার বঞ্চনা দূর হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদেরও এ বঞ্চনা দূর হওয়া প্রয়োজন।

কলেজ পর্যায়ে গভর্নিং বডির সভাপতি ডিজি মাউশির প্রতিনিধি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা মূল ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিত পন্থা অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তটা শুধু বাস্তবায়ন করেন। এক্ষেত্রে নিয়োগ ত্রুটি থাকলেও তার জন্য প্রার্থী কতটুকু দায়ী! প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে একাডেমিক স্বীকৃতির পর থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসে, সেখানে বাৎসরিক কোম্পানি অডিট (শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত এবং তাদের নির্দেশিত) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক অডিট হয়। ১০-১৫ বছর নিয়োগে ত্রুটি না ধরে বেতন ছাড় করার সময় দ্রুটি ধরে এমপিও না করা অমানবিক। নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথ বিবেচনার পরই বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বীকৃতি এবং সাবজেক্ট খোলার অনুমোদন দিয়ে থাকে। একাডেমিক স্বীকৃতি দেয়ার সময় যে সব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে ত্রুটির বিষয়টি আমলে নেয়া হলো না অথচ এমপিও করার সময় বিষয়টি আমলে নেয়ার কারণ কি? বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেখা শোনার দায়িত্ব সরকারি লোকজন দিয়ে করার ক্ষেত্রে মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি বিরূপ প্রভাব ফেলে কিনা সেটা ভেবে দেখার সময় এসেছে। কারণ আজ থেকে ১০-১৫ বছর পূর্বে যে শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি ঐ দলের লোকের সুপারিশ নিয়োগ পেয়েছেন ১৫ বছর পরে এসে নিয়োগ প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথা তাদের শোনার কথা নয়।

ত্রুটিযুক্ত যদি হয়েও ?াকে তার জন্য ঐ শিক্ষক-কর্মচারী কতটুকু দায়ী সেটা মানবিকতা সেই সঙ্গে আইনের আলোকে দেখতে হবে। অপরাধ হলে সেটা প্রাথমিক পদক্ষেপে সুরাহা হওয়া উচিৎ। ভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধকে জিইয়ে রেখে সেখান থেকে বারবার আয়ের ক্ষেত্র সৃষ্টি করে রাখা যুক্তিসংগত নয়। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও এ প্রতিষ্ঠান তদারকির জন্য ডেপুটেশনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের লোকজনকে। দেশে এখনও ৮০ ভাগ শিক্ষা পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান দ্বারা। অথচ শিক্ষা প্রশাসনে এদের কাউকে ডেপুটেশনে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষক-সংগঠনের দাবি শিক্ষা প্রশাসনে আনুপাতিক হারে তাদেরও নিয়োগ দিতে তিন বছর মেয়াদ শেষের পথে। বেসরকারি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি সম্পর্কে এখন সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। ১৬৬২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করলেও ওই সব প্রতিষ্ঠানের ১৪৪১ জন শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও করেনি। এদের এমপিও করলে বছরে ২০ কোটি টাকা লাগতো।

সাড়ে সাত হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একাডেমিক অবস্থা বিবেচনা এমপিও হওয়ার যোগ্য। এটা করতে সরকারের বছরে ৪০০ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে। আর্থিক সংকটের কথা বলে সরকার সেটা থেকে বিরত রয়েছে। চাকরি ক্ষেত্রে মামলা জনিত সমস্যা ছাড়া সামগ্রিকভাবে সবার জন্য পদোন্নতি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড বন্ধ থাকার কথা নয়, অথচ বেসরকারির ফলেই শিক্ষকদের ৮ বছরের টাইম স্কেল/সিলেকশন গ্রেড দীর্ঘ ৮ বছর বন্ধ রাখা হয়েছিল। ৬২ জন শিক্ষকদের পক্ষে থেকে হাইকোর্টে রিট করলে আদালত শিক্ষকদের পক্ষে রায় দেন। ফলে ২০১০ সালে ঐ শিক্ষকদের সঙ্গে ১৮৫০০ শিক্ষকের ৮ বছরের টাইম স্কেলটি প্রদান করা হয়। গড়ে সবার মাসিক ৩০০০ টাকা করে বেতন বাড়লেও সরকারের ঐ অর্থবছরের ৮ মাসের জন্য ব্যয় হতো ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য সরকার ২ মাস দেয়ার পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকার অজুহাতে সবার টাইম স্কেল স্থগিত করে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও স্থগিত টাইম স্কেল শিক্ষকরা এখনও পাননি। অথচ প্রতি বছর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত অবস্থায় যে টাকা পড়ে থাকে সেটা দ্বারাই এই সমস্যার সমাধান করা যেত।

২০০৭-০৮, ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য যথাক্রমে ১০০০.৭ কোটি, ১০০০, ৫৪ কোটি ও ১৪৩০.৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, এর মধ্যে অব্যবহৃত ছিল ৬%, ৫%, ৫% টাকা। অর্থ সংকটে শিক্ষকদের টাইম স্কেল দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর চেয়ে বেশি সত্য কথা সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ঘাটতি। শিক্ষকদের জন্য অবমাননাকর মাসিক ১০০ টাকার বাড়ি ভাড়া, ১৫০ টাকা চিকিৎসা ভাতা, সারা চাকরি জীবনে একটি প্রবৃদ্ধি, মূল বেতনের ২৫ শতাংশ উৎসব বোনাস, বাংলাদেশে ছাড়া হয়তো পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাবিষয়ক সংসদীয় কমিটি শিক্ষকদের এহেন দাবির সঙ্গে অসংখ্য বার সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তবে তিন বছরে তাদের ঐ সহমর্মিতার কোন বাস্তব প্রতিফলন ঘটেনি। ১০০ টাকার বাড়ি ভাড়া ৫ গুণ বাড়িয়ে ৫০০ টাকা সর্বশেষ আবার দ্বিগুণ করে ১০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা করা হয়েছে। ১৬ বার সংবিধান পরিবর্তন হলেও মৌলিক অধিকার থেকে রাষ্ট্র সরে আসেনি। প্রজাতন্ত্রের সরাসরি কর্মচারী নয় তবে প্রজাতন্ত্রের কাজেই রত রয়েছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীরা।

সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা একই ধরনের কাজ করার পরেও নিয়োগ প্রক্রিয়া আলাদার অজুহাতে আর্থিক এই বৈষম্য কোনভাবে সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। সরকারের নীতি-নির্ধারকদের বিষয়টি ভাবতে হবে। কথা বলা হয়, কিন্তু মাসিক লক্ষাধিক টাকার সুবিধা পাওয়া সংসদের অনুপস্থিতির জন্য এই সরকারের আমলে ২০০৯ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস সময়ে সংসদে কোরাম সংকটে ৫ কোটি টাকা অপচয় হয়েছে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করলেও চেয়ারম্যানদের ক্ষমতাহীন করে রাখা হয়েছে। সেই চেয়াম্যানদের গাড়ি ক্রয় করতে ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে যা জাতীয় পত্রিকায় ঘোষিত হয়েছিল। বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন কাজে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। চালের দামের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ২১ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনাও সবার জানা।

এ রকম আরও অসংখ্য ঘটনা আছে যা প্রমাণ করে সরকারের অর্থ সংকট নয় আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ঘাটতিই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রেখেছে। এমপিও বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া যেমন মর্মবেদনার কারণ সেই সঙ্গে বেতন পাওয়ার পূর্বেই চাকরি এমপিওভুক্ত হতে দেশসেবক এক শ্রেণীর রাজনীতিকদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে হয়েছে। চাকরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পূর্বেই সেখানে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। কোনটা থেকেই যখন, সে কোন রিকোভারি পাচ্ছে না তখন মর্মবেদনা বাড়া ছাড়া কমার সুযোগ নেই। আমাদের ক্ষমতাসীন রাজনীতির সেবকরা বিষয়টি অনুধাবন করেন কি-না সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

[লেখক : কলেজ অধ্যক্ষ, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস) কেন্দ্র কমিটি]

 

‘শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণ সুবিধার তহবিল বন্ধ করে পেনশন চালু করতে হবে’ - dainik shiksha ‘শিক্ষকদের অবসর-কল্যাণ সুবিধার তহবিল বন্ধ করে পেনশন চালু করতে হবে’ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা ১০ মে - dainik shiksha প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রথম ধাপের পরীক্ষা ১০ মে এসএসসির ফল ৫ বা ৬ মে - dainik shiksha এসএসসির ফল ৫ বা ৬ মে চাঁদা বৃদ্ধির পরও ২১৬ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি : শরীফ সাদী - dainik shiksha চাঁদা বৃদ্ধির পরও ২১৬ কোটি টাকা বার্ষিক ঘাটতি : শরীফ সাদী একাদশে ভর্তির নীতিমালা জারি, আবেদন শুরু ১২ মে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির নীতিমালা জারি, আবেদন শুরু ১২ মে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website