please click here to view dainikshiksha website

এমপিও শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেল

অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী | মে ১৪, ২০১৭ - ১:০০ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print
‘রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি’-সে এক পুরনো প্রবাদ । যুগ যুগান্তরে তা ঘটে আসছে । স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে এটি এক গুরুত্বপুর্ণ ভাব সম্প্রসারণমূলক পাঠ । আমাদের সমাজে নিত্য এর  অপচর্চা । এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীর জীবনে এর বাস্তব অনুশীলন ।
 দেশে যে কোন কাজে সবার আগে ডাক পড়ে বেসরকারি শিক্ষকদের । কিন্তু, দেবার বেলা তাদের ভাগটা সবার পরে । এ যেন একটা কালচার হয়ে গেছে । নিজেদের নানা অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত । তদুপরি তাদের ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেল কেড়ে নিয়ে তাদের নিঃস্ব করে রাখা হয়েছে । সুচনার প্রবাদ বাক্য ও ভাবসম্প্রসারণমূলক পাঠের সর্বশেষ প্রয়োগ এমপিও শিক্ষকদের ৫% ইনক্রিমেন্ট না দিয়ে টাইমস্কেলের নির্লজ্জ হরণ ।
অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের  যেটুকু না দেয়া হয়েছে , তারচে’ বেশী কেড়ে নেয়া হয়েছে । এ ক্ষেত্রে তারা চরম প্রতারণার শিকার ।
 পাঁচ লক্ষ শিক্ষক-কর্মচারীর দুর্ভাগ্য যে , তাদের নতুন করে ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেলের জন্য দেন দরবার করতে হচ্ছে । অনেকে ভাবতে পারেন- তারা বোধ হয় বাড়তি সুবিধা হিসেবে ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেল দাবি করছেন । কিন্তু, এ দু’টো বিষয় কেবল তাদের প্রাপ্য নয় -এগুলো তাদের পুর্ব পাওনা ও ন্যায্য অধিকার । তাদের নিজস্ব একটা অদ্ভুত (!) ইনক্রিমেন্ট আর সারা জীবনের হলে ও একটি টাইম স্কেল ছিল । অবশ্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারি সুপার এবং অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের অদ্ভুত রকমের ইনক্রিমেন্টটি থাকলে ও সারা জীবনের  টাইম স্কেলটি তাদের নছিবে কখনো জোটেনি । তাদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল সহকর্মীদের মতো সারা  জীবনে হলে ও একটি টাইমস্কেল পাওয়া ।
এলো অষ্টম জাতীয় বেতনস্কেল ।  যে করে হউক অনেক দেন দরবার করে স্কেলটি তারা পেলেন । এর বদৌলতে  তাদের ইনক্রিমেন্ট বিলুপ্ত হলো । সবার জন্য প্রযোজ্য ৫% ইনক্রিমেন্ট সকলকে দেয়া হলো । কিন্তু তাদের জন্য আজো সেটি অপ্রযোজ্য থেকে গেলো ।
এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীগণের বঞ্চনার ইতিহাস পাকিস্তানী আমলে পূর্ব পাকিস্তানের বঞ্চনার ইতিহাসকে ও হার মানিয়ে যায় ।
স্বাধীন বাংলাদেশে পাঁচ লক্ষ এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী যেন কোন পরাধীন দেশের নাগরিক । অথবা তারা যেন কোন বিচ্ছিন্ন জনপদের বাসিন্দা ।
অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হতে না হতেই তাদের ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেল অদৃশ্য হলো , কিন্তু আজ পর্যন্ত ৫% ইনক্রিমেন্ট তাদের ভাগ্যে জুটলো না । এ কেমন অনিয়ম ?  এ কেমন অনাচার ?  শিক্ষকদের এ কেমন অপমান ?
অনেকের অভিজ্ঞতা দশ বছর পেরিয়ে গেছে । কর্মের ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি নেই তাদের । তাদের ও জীবন আছে । পেট- পিঠ উভয় আছে । স্ত্রী-সন্তানাদি আছে । বৃদ্ধ বাবা-মা আছেন । অাছে ভাই-বোন ও আত্মীয়-স্বজন । তাদের ও ঈদ ,পুজো, নববর্ষ- সবই আছে । তদুপরি জাতি গঠনের মতো মহান গুরু দায়িত্ব তাদের ঘাড়ে ।
না চাইতেই শিক্ষকদের সময়মত যা দেবার তা দিয়ে দেবার কথা ।শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান দেখিয়ে নিজেদের সম্মানিত করার সুযোগটি যারা কাজে লাগায় না, তারা দেশ ও জাতির পরম শত্রু ।
এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫% ইনক্রিমেন্ট অবিলম্বে প্রদান করুন। এছাড়া আজোবধি যে সব শিক্ষক ও কর্মচারী টাইমস্কেল প্রাপ্য হয়ে ও পান নাই , তাদের টাইমস্কেল সত্ত্বর দিয়ে দিন । পাওনাদারের প্রাপ্য মিটিয়ে দেবার ধর্মীয় অনুশাসন প্রতিপালন করা সকলের দায়িত্ব । শিক্ষকদের সম্মান প্রদর্শন করে জাতিকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা অপরিহার্য কাজ ।
অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের কপাল পুড়েছে । তাদের ইনক্রিমেন্ট ও টাইমস্কেল দু’টোই হরণ করেছে । যারা টাইমস্কেল প্রাপ্য হয়েছেন, তাদেরটা আগে প্রদান করে অনতিবিলম্বে সকলের জন্য প্রযোজ্য ৫% ইনক্রিমেন্টটি কার্যকর করার উদাত্ত আহ্বান সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ।

 

অধ্যক্ষ মুজম্মিল আলী: চরিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় কলেজ, কানাইঘাট, সিলেট  দৈনিকশিক্ষার নিজস্ব সংবাদ বিশ্লেষক।
সংবাদটি শেয়ার করুন: