কতদিন চলবে করোনা মহামারি, জানুন গাণিতিক পরিসংখ্যান - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

কতদিন চলবে করোনা মহামারি, জানুন গাণিতিক পরিসংখ্যান

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটি ইতোমধ্যে ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আক্রান্ত হয়েছে সোয়া ৭ লাখেরও বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়ে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের।

গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহান শহর থেকে উৎপত্তি প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে। তিন মাসের মধ্যে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। চীনে মহামারী রূপ নেওয়ার পর ভাইরাসটি তাণ্ডব চালাতে শুরু করে ইউরোপজুড়ে।

এরই মধ্যে এই ভাইরাস ইউরোপের ইতালি ও স্পেনকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। দেশ দুটিতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে যথাক্রমে সাড়ে ১০ হাজার ও সাড়ে ৬ হাজার মানুষ। এছাড়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে আরও ৮ হাজার মানুষ।

তবে এরই মধ্যে আশার বাণী শুনিয়েছেন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়োলজির প্রফেসর এবং ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পাওয়া মাইকেল লেভিট।

তিনি বলেন, মানবসভ্যতাকে আতঙ্কে ফেলে দেয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসছে। দ্রুত এই মহামারি সমাপ্তির সন্নিকটে পৌঁছাচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে হিসাবনিকাশ করে বলেছেন, যদিও কয়েক মাস বা বছরে ভাইরাসটি শেষ হয়ে যাবে এমন নয়, তবে এটি লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ হবে না। চীনে যখন করোনা ভয়াবহ আকারে ছড়ানো শুরু করে, তখন বিষয়টি নিয়ে ভাবা শুরু করেন লেভিট। ভয়াবহতা বেশি হলেও তিনি হতাশ হতে চাননি।

লেভিট বলেন, চীনের হুবেই প্রদেশে যখন দিনে ৩০ ভাগ মানুষ আক্রান্ত হওয়া শুরু করল, তখন অবশ্যই সেটি আতঙ্কজনক পরিসংখ্যান ছিল। যদি আক্রান্তের হার এভাবেই বাড়ত, তবে ৯০ দিনে পুরো পৃথিবীর মানুষ এতে আক্রান্ত হতো। যদিও আমি ইনফ্লুয়েঞ্জা বিশেষজ্ঞ নই, তবু আক্রান্তের সংখ্যা ও তার বৃদ্ধি বিশ্লেষণ করে পরবর্তী সম্ভাবনার কথা বলতে পারি।

ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে লেভিট খেয়াল করেন, চীনে নতুন রোগীর সংখ্যা ১৮০০, ষষ্ঠ দিনে ৪৭০০। আবার ৭ ফেব্রুয়ারি এ সংখ্যা ক্রমাগত কমে আসে এবং হ্রাস অব্যাহত থাকে। ঠিক এক সপ্তাহ পর, মৃতের সংখ্যাও কমতে থাকে। আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়ার এ পরিসংখ্যান থেকে ধারণা করা যায়, মহামারী খুব দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে। চীনে শুরুর দিকে প্রত্যেক কভিড-১৯ রোগী দিনে দুই দশমিক দুজন ব্যক্তিকে আক্রান্ত করেছে। এই উচ্চমাত্রার সংক্রমণের কারণে বিপর্যয় হতে পারত আরও বেশি। কিন্তু আক্রান্তের হার কমতে কমতে বর্তমান সংখ্যা প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।

ব্যাখ্যাটি সহজে বোঝানোর জন্য লেভিট একটি গাণিতিক পরিসংখ্যান দেখিয়েছেন।

তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি ব্যাংকে অর্থ জমা রেখেছেন। যদি সে অর্থের বিপরীতে প্রথম দিন তিনি ৩০ শতাংশ সুদ পান এবং দ্বিতীয় দিন পান ২৯ শতাংশ, তাহলেই বোঝা যায়, তিনি শেষ পর্যন্ত খুব বেশি সুদ পাবেন না। সুদ কমলেও টাকা উপার্জন অব্যাহত থাকবে। যে আসল জমা ছিল তা কিন্তু কমবে না। এতে সুদের জোগান যুক্ত হবে খুব ধীরে। রোগের ক্ষেত্রে যদি পরিসংখ্যান দাঁড় করানো যায়, তখনো এ কথা বলা যায়। আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসা মানে এর বিস্তৃতি এক দিন নাই হয়ে যাবে।

কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়া নিয়ে লেভিট বলেন, ক্রমবর্ধমান মডেল অনুযায়ী আপনি ভাবতে পারেন, রোজ নতুন মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে প্রতিদিনই নতুন কেউ আক্রান্ত হবে। কিন্তু নিজের সামাজিক পরিসর চিন্তা করলে দেখবেন, ঘুরেফিরে প্রতিদিন একই মানুষের সঙ্গে দেখা হচ্ছে আপনার। নতুন কারও সঙ্গে দেখা হতে পারে গণপরিবহনে। যদি বাসেও আক্রান্তের সংখ্যা হিসাব করি, তাহলে হয় সবাই আক্রান্ত হবে অথবা সবাই নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সেরে উঠবে। তার মতে, সামাজিক দূরত্বও এই রোগ ছড়াতে বাধা দিচ্ছে। কারণ আপনি সব সময় সবাইকে জড়িয়ে ধরেন না। আপনার আশপাশে যার ঠাণ্ডা লেগেছে, তাকে আপনি এড়িয়েই চলবেন। যত অসুস্থতা বাড়বে, তত সংক্রমণ ঠেকাতে আপনি সচেতন হবেন। এভাবে প্রতি তিন দিনে একজন ব্যক্তি দেড়জনকে আক্রান্ত করতে পারবে, যা ক্রমে আরও কমে আসবে।

ইতালিতে কভিড-১৯-এর দ্রুত ছড়ানো বিষয়ে লেভিট দেশটির সামাজিক ব্যবস্থাকে দায়ী করেন। ইতালিয়ানরা খুবই সমৃদ্ধ জীবনযাপন করেন। যার কারণে একে অন্যের সংস্পর্শে আসায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়েছে। সুস্থ থাকতে হলে অসুস্থ ব্যক্তির সাহচর্য থেকে দূরে থাকা জরুরি। তবে ইতালি ছেড়ে লেভিট ভাবছেন আমেরিকাকে নিয়ে। তারা যদি এখনই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে প্রতি মুহূর্তে ২০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়া কোনো বিষয় নয়। আর এ অবস্থা চললে হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দ্রুত ধস নামবে। ভাইরাসটি ছড়ানো বন্ধে বিচ্ছিন্নতা সাহায্য করলেও লেভিট বিশ্বাস করেন বেশির ভাগ মানুষ সেরে উঠছে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতির জন্যই। রোগের প্রকোপ বন্ধ করতে চীনকে সম্পূর্ণ লকডাউন করে দেয়া হয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনা ছাড়া বাইরে যাওয়ারও অনুমতি ছিল না কারও।

হুবেই রাজ্যের উহানে যেখানে সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে আশঙ্কা ছিল সবার আক্রান্ত হওয়ার। অথচ মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে। এমনকি ডায়মন্ড প্রিন্সেস জাহাজেও ২০ শতাংশের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়নি। আক্রান্তের এমন সংখ্যা নিয়ে তাই আশাবাদী লেভিট। বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত ছিল বলে তিনি বিশ্বাস করেন। লেভিটের ধারণা যদি সত্যি হয়, তাহলে হয়তো কয়েক মাস বা বছরখানেকের মধ্যেই করোনা ভাইরাস নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছে।

সূত্র: ওয়ার্ল্ডওমিটার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট.কো.ইউকে, নিউইয়র্ক পোস্ট

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ মে - dainik shiksha এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩১ মে করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১ হাজার ৫৩২ - dainik shiksha করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১ হাজার ৫৩২ এসএসসির ফল প্রকাশের দিন স্কুলে জমায়েত করা যাবে না - dainik shiksha এসএসসির ফল প্রকাশের দিন স্কুলে জমায়েত করা যাবে না দাখিলের ফল পেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন যেভাবে - dainik shiksha দাখিলের ফল পেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন যেভাবে এসএসসির ফল পেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন শুরু - dainik shiksha এসএসসির ফল পেতে প্রি-রেজিস্ট্রেশন শুরু দ্বিতীয়বার হয় না করোনা : গবেষণা - dainik shiksha দ্বিতীয়বার হয় না করোনা : গবেষণা বাদপড়া শিক্ষকদের এমপিওর আবেদন শুরু ২২ মে - dainik shiksha বাদপড়া শিক্ষকদের এমপিওর আবেদন শুরু ২২ মে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি প্রকাশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন যেভাবে জাকাতের হিসাব করবেন - dainik shiksha যেভাবে জাকাতের হিসাব করবেন please click here to view dainikshiksha website