please click here to view dainikshiksha website

কথিত মাদ্রাসা যেন বন্দিশিবির শিশু কাওসারের মৃত্যু নির্যাতনে!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আগস্ট ৯, ২০১৭ - ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

রাজধানীর পল্লবীতে তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে চলছিল ‘মারকাযু তারতীলিল কুরআন’ নামের মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠানের বৈধ অনুমোদন নেই বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। সোমবার ভোরে সেখানে হাফিজুর রহমান কাওসার (৯) নামের একটি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে এখন তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে প্রিন্সিপাল জোনাইদ বিন ইসহাককে। শিক্ষার নামে এখানে শিশুদের বন্দি রেখে নির্যাতন চলত বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় কাওসারের মৃত্যু ঘটেছে বলে স্বজনরা দাবি করেছে।

পল্লবী থানার ওসি দাদন ফকির  বলেন, শিশু কাওসারের মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যাজনিত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল জোনাইদ বিন ইসহাককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

অনুমোদনহীন মাদ্রাসায় ১১টি শিশুকে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়েছিল বলে জানা যাচ্ছে। তাদের মারধর করা হতো, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না বলে অভিযোগ মিলেছে। সব কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কাওসারের বাবা দুলাল মিয়া জানান, পল্লবীর ১২ নম্বর সেকশনে অবস্থিত মাদ্রাসায় ২৩ দিন আগে ভর্তি করা হয় কাওসারকে। রবিবার তার মা দেখা করতে গেলে প্রিন্সিপাল অনুমতি দেননি। পরের সকালে কাওসারের মৃত্যু সংবাদ মিলেছে। তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে বলে ধারণা।

শিশু কাওসারের মৃত্যুর ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। তাতে আসামি করা হয়েছে প্রিন্সিপাল জোনাইদ বিন ইসহাক, তাঁর স্ত্রী ও দুই শিক্ষককে। সোমবার ফজরের নামাজের পর কাওসারের লাশ উদ্ধার হলে ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে দাবি করেন প্রিন্সিপাল জোনাইদ বিন ইসহাক। ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের শিক্ষক ডা. সোহেল কবির জানান, কাওসারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে শিশুকে বলাৎকারসহ নির্যাতন করা হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাড়া ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে ১১টি শিশুকে রেখে কোরআন শিক্ষা দেওয়া হচ্ছিল। পাশের একটি রুম অধ্যক্ষের বিশ্রামের জন্য। কথিত এ মাদ্রাসা প্রকৃতপক্ষে কী হতো সে ব্যাপারে মুখ খুলছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে উদ্ধার পাওয়া শিশুরা মারধরের কথা জানিয়েছে।

ভবনের দারোয়ান মিনহাজুল বলেন, ‘শিশুরা দিনের বেশির ভাগ সময় বাসার ভেতরেই থাকত। সোমবার সকালে মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনতলায় গিয়ে দেখা যায় লাশ পড়ে আছে। ’

ভবনের নিচতলায় অবস্থিত কসমো নামের স্কুলের প্রহরী রহমত উল্লাহ বলেন, ‘মাদ্রাসার ভেতরে কখনো কাউকে ঢুকতে দেওয়া হতো না। আর শিশুদের ভেতরে আটকে রাখা হতো। ’

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৪টি

  1. Abu Hasan says:

    Kuran shikshar nam beboher Kore asob ki j hosse buja muskil asob anumodon him protisthan bodhi kora uchid.

  2. মো:কামাল উদ্দিন সজীব। says:

    যত্র তত্র স্কুল,প্রাইভেট কলেজ,প্রাইভেট মাদ্রাসা কেন চলছে?দেশে তো সরকারী, এমপিওভুক্ত,এফিলিয়েটেড শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অভাব নাই।অভিভাবক তো সচেতন হওয়া জরুরী

  3. মোঃ সাইফুল আলম says:

    দেশের আনাচে কানাচে নাম ধারী মহিলা মাদরাসা ( কওমী) গুলোতে সরকারী নজরদারী দরকার। সেগুলোতে সরকারী কোন আইন কানুন নাই।

  4. অাব্দুল মজিদ says:

    সরকারের অনুমোদিত স্কুল, কলেজ, ও মাদরাসা গুলো ছেলেমেয়েদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাদান সহ সকল বিষয়ে সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে দায়বদ্ধ। বাকীগুলো বন্ধ করে দেয়া উচিত।

আপনার মন্তব্য দিন