করোনার দীক্ষা : ডিজিটাল শিক্ষা - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

করোনার দীক্ষা : ডিজিটাল শিক্ষা

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

গত ডিসেম্বর থেকে করোনা মহামারীর জন্য বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ক্রমান্বয়ে একটির পর একটি দেশ লকডাউন, কোয়ারান্টাইন, সান্ধ্য আইন, অন্তরীণ, সঙ্গনিরোধ, সাধারণ ছুটি ইত্যাদি কার্যক্রমের আওতায় প্রায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে। ৪ জুলাই ২০২০ পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৯ লক্ষ ২২ হাজার ৩২৪। সারা বিশ্বে সেদিন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৩২৬ জনের। বাংলাদেশে মোট রোগী ১ লাখ ৬২ হাজার ৪১৭ এবং করোনায় মারা গেছেন ২ হাজার ৫২ জন। আমাদের অভিজ্ঞতায় এমন মৃত্যুর মিছিল নেই-এমন ভয়ংকর সংক্রমণও আমরা দেখিনি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সারা বিশ্বই তার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা থেকে ৩৬০ ডিগ্রি সরে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত উপসম্পাদকীয়তে এ তথ্য জানা যায়। 

উপসম্পাদকীয়তে আরও জানা যায়, পবিত্র কাবা বা মসজিদে নববী বা ভ্যাটিকানের গীর্জাসহ মন্দির, মসজিদ, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে ছিল। বন্ধ রয়েছে বা দর্শকহীনভাবে চালু আছে ক্রীড়াঙ্গন। সম্মেলন, সমাবেশ ও বিয়েসহ সব ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠান হয় বন্ধ না হয় সীমিত। এবার হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে শুধু সৌদী আরবে থাকা হাজীদের নিয়ে। বাংলাদেশের অবস্থাও দুনিয়া থেকে আলাদা নয়। আমরাও এখন গৃহ অন্তরীণ জীবনযাপন করছি। সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত থেকে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম, শিল্প-কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য সেবা ইত্যাদি তো আছেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আরও কি ঘটবে সেটি আমরা এখনও জানি না। কতদিন এ অবস্থা থাকবে সেটাও জানি না। এজন্য সব কিছু নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে। তবে শিক্ষার বিষয়টি সম্ভবত উদ্বেগের অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছে। করোনা আমাদের এখন শিখতে বাধ্য করেছে যে স্কুল-ক্লাসরুম, শিক্ষক বা স্কুলব্যাগ নির্ভর শিক্ষার দিন শেষ। সম্ভবত বদলাতে হচ্ছে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার সংজ্ঞাও। 

খুব জোরেসোরে না হলেও বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থার রূপান্তর নিয়ে আলোচনা একেবারে ছিল না তেমন নয়। ৯৯ সালে আমি গাজীপুরে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল উদ্বোধন করাই। এরপর শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে লড়াই চলেই আসছে। এটি ২০০৮ সালে ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি বড় স্তম্ভ। ২০১৪ সালের ১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ছাত্রছাত্রীর হাতে ল্যাপটপ প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের সভায় তিনি শিক্ষার ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির নির্দেশনা প্রদান করেন। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও ষষ্ঠ শ্রেণীতে সব ছাত্রছাত্রীকে ট্যাব দেবার ঘোষণা প্রদান করেছিলেন। ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ স্কুলব্যাগবিহীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলন করার জন্য আমি যে প্রস্তাব করেছিলাম তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় শুধু শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর নয় এমনকি প্রাথমিক শ্রেণীতে প্রোগ্রামিংসহ তথ্যপ্রযুক্তি শেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে সেই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা আয়োজিতও হয়। এটুআইসহ সরকারের শিক্ষা ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ ডাক ও টেলি যোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিক্ষায় ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রচলনের ব্যাপক কাজ চলছে। শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব বা ডিজিটাল ক্লাসরুম গড়ে তোলার পাশাপাশি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কাজও চলে আসছে। এবার যখন করোনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয় তখন সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে ভিডিও ক্লাস নেবার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এই ক্লাসগুলো শুরু হবার পর অনেক অভিভাবকের কাছে এর প্রশংসাও শুনেছি। অনেকেই ক্লাশগুলোর মানেরও প্রশংসা করেছেন। সরকার সেরা শিক্ষকদের দিয়ে এই ক্লাসগুলো নেয়াচ্ছে বলে এর গুণগত মান অবশ্যই ভালো হতে বাধ্য। টিভিভিত্তিক ক্লাসের ধারনাটি বহুদিন যাবতই বাংলাদেশে কানাঘুষা হচ্ছিল। বহুদিন আগে থেকেই সংসদ টিভি যখন অলস থাকবে তখন এ চ্যানেলটিকে শিক্ষার জন্য ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করা হয়। কিন্তু সেটি হয়ে ওঠেনি। বরং টিভির বদলে অনলাইন শিক্ষার কিছুটা বিস্তৃতি ঘটতে থাকে। টেন মিনিটস স্কুল দেশে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্ববাপী খান একোডেমি একটি জনপ্রিয় অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। দেশব্যাপী বিজয় এর ডিজিটাল শিক্ষামূলক সফটওয়্যার দিয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়ে যাচ্ছে। বস্তুত আমাদের দেশে কনটেন্ট তৈরি ও ডিজিটাল ক্লাসরুম গড়ে তোলার চেষ্টা একদম কম করা হয়নি। স্কুল ব্যাগ ছেড়ে ডিজিটাল ডিভাইসে শিক্ষা দেবার আবেদন আমাদের বহু দিনের। তবে করোনার জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যখন স্থবির হয়ে পড়ে তখন আমাদের আবার স্টুডিও খুঁজতে হয়েছে-শিক্ষক খুঁজে বের করতে হয়েছে এবং রেকর্ডিং ও সম্পাদনা করে সেই ক্লাসগুলো সম্প্রচার করতে হচ্ছে।

সেজন্যই অপ্রিয় হলেও সত্য, করোনা আসার পরই অতি সামান্য ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বা সাবেক শিক্ষামন্ত্রীর কিংবা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার ঘোষণার বাস্তবায়ন হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার কথা যতটা গুরুত্ব এর প্রাপ্য, ততটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবি নাই। কিছু সংখ্যক মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম, কিছু কম্পিউটার ল্যাব বা কিছু শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের দ্বারা তৈরি করা কিছু পাওয়ার পয়েন্ট কনটেন্ট তৈরির মাঝেই শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর সীমিত হয়ে আছে। ফলে বাংলাদেশের শিশুরা নিজের শরীরের চাইতে বেশি ওজনের ব্যাগ কাধে করে নিয়ে শিল্পযুগের প্রাথমিক স্তরের অচল শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে।

শিল্পযুগের চতুর্থ স্তর তো দূরের কথা দ্বিতীয় স্তর যা বিদ্যুৎভিত্তিক এবং তৃতীয় স্তর যা কম্পিউটারভিত্তিক শিল্প যুগের শিক্ষাও তারা গ্রহণ করছে না। সেই যে কবে শিক্ষার্থীর কাঁধে ব্যাগের বোঝা চেপেছিল সেটি দিনে দিনে বড় হয়েছে। স্কুল ব্যাগের বোঝা শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি এমনকি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। এদেশে স্কুল ব্যাগ বহন করতে গিয়ে কারও মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও আমাদের পাশের দেশ ভারতে এমন ঘটনা ঘটেছে। এখন যখন স্কুলে ব্যাগে করে বই নিয়ে যাবার সুযোগ নেই তখন আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি যে শিক্ষাকে আজকে মুখ থুবড়ে পড়তে হতো না যদি আমাদের শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরের কাজটি পরিকল্পিত উপায়ে আগে থেকেই এগিয়ে যেতো। এখন যখন আমরা ঘরে বসে আছি তখন ঠাণ্ডা মাথায় আমাদের ভাবতে হচ্ছে যে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সচল হলে আবারও সেই স্কুল ব্যাগটাই তাদের কাঁধে তুলে দেব আমরা? স্কুল ব্যাগ যে আমাদের শিশুদের জন্য কতোটা বিপজ্জনক তার খবরগুলো নিয়ে আমি এর আগেও কলম ধরেছি। ভারতের একটি পুরোনো খবর এখানে তুলে ধরতে পারি।

খবরটি বাংলাদেশের অনেকগুলো পত্রিকা এবং নিউজ পোর্টালেও প্রকাশিত হয়েছে। ছোট এই খবরটি একটি পোর্টাল থেকে তুলে ধরছি। ৬ এপ্রিল ২০১৬ তারিখের বাংলা মেইল২৪ডটকম পোর্টালের খবর হচ্ছে-‘পিঠে ভারী স্কুলব্যাগ নিয়ে নিচে তাকাতে গিয়ে পাঁচতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে চার বছরের এক শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম সারিকা সিং। ভারতের মহারাষ্ট্রের নালাসোপারা ইস্টের অলকাপুরী এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশু সারিকা সিং স্কুল থেকে ফিরে নিজের ফ্ল্যাটে যাচ্ছিল। সে সময় কেউ তার নাম ধরে ডাক দেয়। তারপরই সারিকা ব্যালকনি থেকে নিচের দিকে তাকায়। কিন্তু ভারী স্কুলব্যাগের ওজনে তাল সামলাতে না পেরে সে পাঁচতলা থেকে পড়ে যায়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখানেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে পুলিশের ধারণা, ভারী ব্যাগের জন্যই ঝুঁকতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শিশুটি পড়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিন্তু চার বছরের শিশুর পিঠে কি এতো বইয়ের বোঝা চাপানো উচিত? দুর্ঘটনার পর এই প্রশ্ন আরো একবার সবার মুখে মুখে।’

দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনা এমন হতেই পারে। কিন্তু এই ঘটনাটির মর্মার্থ একটু ভিন্নভাবে তাকিয়ে দেখা যায়। অনুভব করা যায় যে, কোনভাবেই শিশুকে তার বিশাল ওজনের ব্যাগটা থেকে মুক্তি দেয়া যায় কিনা।

বাংলাদেশের পোর্টালে প্রকাশিত এই খবরটির উৎস খুঁজতে আমরা গুগল থেকে “ইন্ডিয়াটিভি নিউজ” খুঁজে পাই যেখানে বলা হয় যে, সারিকা পাচ তলায় অবস্থিত তাদের বাসায় যাবার আগে চারতলায় তার প্রতিবেশীর তলায় থামে। পরে যখন সে তার নিজের বাসায় উঠতে যায় তখন সে সিঁড়ির ফাঁক দিয়ে নিচে কারা আছে তা দেখার জন্য তাকালে সে তার শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এই ভারসাম্য হারানোর প্রধানতম কারণ হচ্ছে তার ভারী স্কুলব্যাগটি। ফলে সে সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে যায়। এর পরপরই আতঙ্কিত বাসিন্দারা তাকে প্রথম অ্যালিয়েন্স হাসপাতালে ও পরে ককিলাবেন আম্বানি হাসপাতালে নিয়ে যান যেখানে সে তার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। সারিকার বাবা দারাসিং রাজরিয়া তখন বাসায় ছিলেন না। তিনি কর্মক্ষেত্রে ছিলেন। তুলিঞ্জ পুলিশ স্টেশনের সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টর সুদর্শন পোদ্দার জানান যে, সারিকার দুটি বড় বোন ও একটি বড় ভাই রয়েছে। তাদের ফ্লাট নাম্বার হচ্ছে ৪০৫। এলাকার বাসিন্দারা সারিকার মৃত্যুতে শোকার্ত। কারণ সে সবারই আদরের ছিল।

http://www.indiatvnews.com/news/india-four-year-old-girl-in-mumbai-falls-to-death-from-4th-floor-due-to-heavy-school-bag-322368

সেখানেই মেয়েটির ছবিও পাওয়া যায়। বাংলাদেশে অনেকেই তাদের খবরের সঙ্গে নিজেদের ছবি-বা শুধু স্কুলব্যাগের ছবি প্রকাশ করেছেন। চার বছরের ইনোসেন্ট এই মেয়েটি বস্তুত আমাদের এ অঞ্চলের শিক্ষাব্যবস্থার দিকেই আঙুল তুলেছে। এই অঞ্চলে শিশুশ্রেণী থেকে উপরের দিকে পড়তে যাওয়া সব শিশুর জন্যই বই ভর্তি এমন ভারী স্কুল ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। শিশুর শারীরিক ওজন যাই হোক না কেন তাকে কখনও কখনও তার নিজের শরীরের ওজনের তুলনায় বেশি ওজনের ব্যাগ বহন করতে হয়।

বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুল ব্যাগ ব্যবহার করে বিশেষ করে শিশুদের যেভাবে নিপীড়ন করা হয় তার বিপরীতে কিভাবে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা এর বিকল্প হতে পারে সেই বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এর আগে বিষয়টি নিয়ে আমি অনেক আলোচনাও করেছি। বাংলাদেশে শিক্ষাকে ডিজিটাল করার ক্ষেত্রে কি ধরনের দুর্বলতা বিরাজ করে সেটিও ব্যাপকভাবেই আলোচনা করেছি। স্কুল ব্যাগের ওজন ও সেটি বহন করার বিষয়ে বাংলাদেশে প্রকাশিত একটি খবরকে কেন্দ্র করে আমার আলোচনাটি ছিল এর বিদ্যমান অবস্থা এবং আমাদের সরকারি প্রয়াস নিয়ে। আমরা প্রসঙ্গত একটু পেছনের দিকেও তাকাতে পারি।

“২০১৪ সালের নভেম্বরে ঢাকার জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় একটি শীর্ষ সংবাদ পরিবেশন করা হয়, যাতে বলা হয় যে, আমাদের শিশুদের স্কুলব্যাগটা বড্ড ভারী। তারা জরিপ করে দেখিয়েছে যে, ১৫-২০ কেজি ওজনের শিশুকে ৬ থেকে ৮ কেজি ওজনের স্কুল ব্যাগ বহন করতে হয়। তারাই ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়ে বলেছে যে, শিশুর মোট ওজনের শতকরা দশ ভাগের বেশি ওজনের ব্যাগ তার কাঁধে দেয়া উচিত নয়। এর ফলে শিশু শারীরিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হতে পারে।”

আমরা এখন জানি যে, স্কুল ব্যাগের ওজন শুধু সাধারণ শারীরিক সমস্যা তৈরি করে না। ভারতের শিশু সারিকার মৃত্যু শারীরিক সমস্যার বাইরে জীবন সমাপ্ত হবার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

খবরটিতে বিশেষজ্ঞরা নানা পরামর্শ দিয়ে বলেছে যে, শিশুর বই কমিয়ে, স্কুলে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করে-বই খাতার সংখ্যা কমিয়ে দিয়ে ব্যাগের ওজন কমানো যায়। প্রচলিত শিক্ষাদান পদ্ধতিতে এইসব চিন্তা ভাবনা নিয়ে সামনে আগানো যেতে পারেই। কিন্তু কার্যত শিশুদের বইয়ের ওজন, খাতার ওজন বা পানির বোতল কোনটাই কমবে না। বরং যদি ব্যাগটার ওজন আরও বাড়ে তবে তাতে আমাদের অবাক হবার কিছু থাকবে না। ফলে ব্যাগের ওজন বাড়ার এই সমস্যার সমাধানও তাই পাঠক্রম কমানোতে বা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করার পথে হবে না। আসুন অন্য কিছু ভাবি। এর বিকল্প কি হতে পারে সেটি নিয়ে চিন্তা করি। এই ভাবনাটি অবশ্য আমার জন্য একেবারেই নতুন নয়।

আমি স্মরণ করতে পারি, নব্বই দশকেও আমার সম্পাদিত নিপুণ পত্রিকায় শিশুদের ওজনদার স্কুল ব্যাগের প্রসঙ্গ আলোচনা করেছিলাম। আমার তখনকার শিশুকন্যা সুনন্দা শারমিন তন্বীর পিঠের ব্যাগটাকে প্রচ্ছদের ছবি বানিয়ে তার ওপরই প্রচ্ছদ কাহিনী করেছিলাম। তখনই প্রস্তাব করেছিলাম-শিশুদের যেন তথাকথিত বিদ্যার ওজনে পিষ্ট না করা হয়। তখনও দুনিয়া জুড়ে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার তেমনভাবে শুরুই হয়নি। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ক্লাসরুমে কম্পিউটার প্রচলনের সূচনা হয়েছিল। আমরা ঢাকায় তখনও ভাবতেই পারিনি যে বই-এর কোন বিকল্প হতে পারে। সেজন্য তখন আমি বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু এবার আমি প্রত্যাশা করি যে আমাদের নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবক-অভিভাবিকা-শিক্ষক শিক্ষয়িত্রীর উপলব্ধিতে আসবে যে আর বোধহয় দেরি করা উচিত নয়। স্কুল ব্যাগের যুগ থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত।

ঢাকা, ৭ জুলাই ২০২০

[লেখক : মোস্তাফা জব্বার,  তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাসের চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জনক]

Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram - dainik shiksha Admission going on at Navy Anchorage School and College Chattogram একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website