করোনায় বেশি বিপদগ্রস্ত হবে বস্তিবাসী? - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

করোনায় বেশি বিপদগ্রস্ত হবে বস্তিবাসী?

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

টিনের ছাউনি বা বাঁশের বেড়ার কাঁচা ঘর। আয়তনও খুব বেশি নয়। সেই ছোট আয়তনের ঘরেই বসবাস করছে তিন থেকে পাঁচজন করে। ঢাকাসহ সারা দেশের বস্তিগুলোতেই এভাবেই জীবনযাপন বস্তিবাসীর। পরিবহন, বাসাবাড়ি বা দিনমজুরের কাজ করে দিনাতিপাত করা এসব মানুষের আয়ও সীমিত। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে হোম কোয়ারেন্টিনসহ যেসব পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবতার কারণেই এর অনেক কিছু মেনে চলা সম্ভব নয় তাদের। অথচ জীবন-জীবিকার তাড়নায় বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংস্পর্শে আসতে হচ্ছে তাদেরই সবচেয়ে বেশি। শুক্রবার (২০ মার্চ) বণিক বার্তা পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন সাইদ শাহীন।

করোনা ঝুঁকিতে বস্তিবাসীর পরিসংখ্যান | ছবি : বণিক বার্তা

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ বস্তিশুমারি ও ভাসমান লোকগণনা তথ্যমতে, দেশে এখন বস্তির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৫। বস্তিবাসী ও ভাসমান খানা রয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬১টি। এর মধ্যে সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৫৬টি। পৌরসভা এলাকায় আছে ১ লাখ ৩০ হাজার ১৪৫টি। ৩২ হাজার ৯৬০টি রয়েছে অন্যান্য শহর এলাকায়।

বিবিএসের পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, এসব বস্তিবাসী ও ভাসমান খানাগুলোর গড় সদস্য সংখ্যা ৩ দশমিক ৭৫ জন করে। এসব বস্তির বাসিন্দা ও ভাসমান মানুষগুলোর অনেকেরই কভিড-১৯ সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা না থাকলেও এ নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে ঠিকই। তারা জানেও না, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে। যেখানে ছোট আয়তনের ঘিঞ্জি ঘরগুলোয় গাদাগাদি করে বসবাস করছে কয়েকজন মানুষ, হোম কোয়ারেন্টিন প্রয়োগের আলাপ সেখানে বাতুলতা মাত্র। ফলে এসব বস্তি এলাকায় কেউ আক্রান্ত হলে নিঃসন্দেহেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়বে করোনা।

এছাড়া উপযুক্ত শিক্ষার অভাবে হাতুড়ে ও প্রতারকদের ধোঁকায় পড়ার ঝুঁকিও তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। অর্থনীতিতে বিপর্যয়ের মাত্রা বাড়লে এর প্রথম শিকারও হবে তারা। ফলে কভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাব ছাড়াও তাদের জীবনে আরও নানাভাবে নানা সংকট নিয়ে আসতে পারে নভেল করোনা ভাইরাস।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, সাধারণ মানুষের চেয়ে ছিন্নমূল ও বস্তিবাসীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে। যদিও তারা এটার জন্য কোনোভাবেই দায়ী নয়। এ অবস্থায় আগে থেকেই তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো আরো শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন ছিল। সুরক্ষা উপকরণগুলো আরো দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। আবার বিদেশফেরতরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। দরিদ্র মানুষগুলোকে তাদের সংস্পর্শে আসাটা রোধ করতে হবে। বিদেশফেরতরা হোম কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো না মানায় এখন উদ্বেগের অনেক কারণ রয়েছে। এটিকে যদি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক ভালো থাকতে পারবে। তবে শুধু ছিন্নমূল নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষদের এসব ঝুঁকি সিটি করপোরেশনগুলোর চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিচ্ছে। কারণ দেশের বস্তি ও ভাসমান স্থাপনাগুলোর মধ্যে ৯ হাজার ১১৩টি বা প্রায় ৬৫ দশমিক ৪০ শতাংশ রয়েছে সিটি করপোরেশন এলাকায়। এসব বস্তিবাসীর করোনা সংক্রমণ শনাক্ত করা এ মুহূর্তে বেশ মুশকিল। এছাড়া দেশে করোনা শনাক্তে ব্যবহৃত কিটের সংখ্যাও অপ্রতুল। সব মিলিয়ে বস্তিবাসীদের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, বস্তি ও ভাসমান এলাকায় বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে করোনা সচেতনতা বাড়ানো কিংবা এ-সংক্রান্ত পদক্ষেপ অন্যদের তুলনায় বেশ আলাদাভাবেই নিতে হবে। কারণ স্বল্প আয় ও এক ব্যক্তির আয়ের ওপর পরিবারের নির্ভরশীলতা বেশি হওয়ায় এমন কেউ আক্রান্ত হলেও সেটা সহজে স্বীকার করতে চাইবে না। এক্ষেত্রে যেকোনো উপায়ে কোয়ারেন্টিন করা সম্ভব হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের জীবিকা বন্ধের উপক্রম হবে। সামষ্টিকভাবেই এ সংকট মোকাবেলা করতে হবে বলে মনে করছেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্।

তিনি বলেন, একদিকে আর্থিক অসংগতি, অন্যদিকে বসতবাড়িতে আবাসন সংকট—এ দুটোর প্রভাবে বস্তিবাসীরা উচ্চ ঝুঁকির মধ্যেই রয়েছে। তবে শুধু সতর্কতামূলক কার্যক্রমে কতটুকু কাজ হবে, সে বিষয়ে আমি বেশ সন্দিহান। তাই এ শ্রেণির মানুষকে সচেতন করতে হলে সবার আগে কমিউনিটিভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। আবার একটা নির্দিষ্ট সীমার পর বল প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। তবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্র্যাক এরই মধ্যে রাজধানীর ৩০০টি বস্তিতে কার্যক্রম শুরু করেছে। তাদের যেমন সচেতন করছে, তেমনি আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও নিম্ন আয়ের কারণে নানা ধরনের অসুখ ও পুষ্টিহীনতার নানা চিত্র রয়েছে বস্তিবাসীদের মধ্যে। আবার শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতিও বেশ খারাপ। ফলে করোনার প্রভাব নতুন করে তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

করোনায় আরও ৫৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৭৩৮ - dainik shiksha করোনায় আরও ৫৫ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২ হাজার ৭৩৮ সৌদি আরবে থেকেও নিয়মিত হাজিরা, এমপিওভুক্তি! - dainik shiksha সৌদি আরবে থেকেও নিয়মিত হাজিরা, এমপিওভুক্তি! শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান - dainik shiksha শিক্ষায় বঙ্গবন্ধুর অবদান নিয়ে লেখা আহ্বান শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে টেসলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ - dainik shiksha শিক্ষক প্রশিক্ষণের নামে টেসলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সরকারি স্কুল-কলেজের কর্মচারীদের অনলাইনে পিডিএস পূরণ শুরু ৭ জুলাই - dainik shiksha সরকারি স্কুল-কলেজের কর্মচারীদের অনলাইনে পিডিএস পূরণ শুরু ৭ জুলাই অটোপাস দিতে পারবে স্কুল-কলেজগুলো - dainik shiksha অটোপাস দিতে পারবে স্কুল-কলেজগুলো গতবছরের উপবৃত্তি : সেকায়েপভুক্ত ৩৬ উপজেলার শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে হবে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে - dainik shiksha গতবছরের উপবৃত্তি : সেকায়েপভুক্ত ৩৬ উপজেলার শিক্ষার্থীদের তথ্য পাঠাতে হবে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে পলিটেকনিকে ভর্তিতে বয়সসীমা: মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার তীব্র বিরোধীতায় আইডিইবি - dainik shiksha পলিটেকনিকে ভর্তিতে বয়সসীমা: মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার তীব্র বিরোধীতায় আইডিইবি এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৭৩ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হলেন আরও ৭৩ শিক্ষক বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক - dainik shiksha বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল কনটেন্ট দিচ্ছে টিউটর্সইঙ্ক শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে - dainik shiksha শিক্ষকদের ফ্রি অনলাইন প্রশিক্ষণ চলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website