করোনা ভাইরাস: চীন ছাড়তে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন - বিবিধ - দৈনিকশিক্ষা

করোনা ভাইরাস: চীন ছাড়তে ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আবেদন

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে আটকে পড়েছেন অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষক। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চীনে এখন পর্যন্ত ৪১ জন প্রাণ হারিয়েছে। উহান শহর থেকেই এই ভাইরাস ছড়ানো শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এ শহরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা এক প্রকার আটকা পড়েছেন।

উহানে আটকে পড়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।

রাকিবিল তূর্য (২৩) নামে একজন শিক্ষার্থী মেকানিক্যাল অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে হুবেই ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে পড়াশোনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি উহানে তাদের অবস্থা জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, সম্প্রতি চায়নাতে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত শহর উহানে আমি বাস করছি। এখানে আমরা প্রায় ৫০০ জনেরও অধিক বাংলাদেশি উহানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যায়নরত। উহান থেকে বহির্গামী সব বাস-ট্রেন এবং বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ জন মারা গেছে এবং ৬০০-এরও বেশি মানুষ এতে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা চাইলেও এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে পারছি না।

তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে আমাদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এমন নিউজ বাংলাদেশের মিডিয়াতে প্রচার করা হলেও এ খবর ভিত্তিহীন। আমাদের এখন পর্যন্ত কোনো প্রকার কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। আমরা সবাই এক কঠিন মুহূর্ত পার করছি। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে এ বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

চীনে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি সামলাতে গণপরিবহন বন্ধ করায় উহান ও পার্শ্ববর্তী হুয়াংগ্যাং শহরের অন্তত ২ কোটি বাসিন্দা কার্যত আটকা পড়েছে। উহানের সঙ্গে বিমান ও রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অ্যাম্বাসিতে হট লাইন খোলা হয়েছে: এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনে আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা হটলাইন নম্বরের (https://www.bdembassybeijing.org/contact-us/) মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। তার ভেরিফাইড ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে প্রতিমন্ত্রী লিখেন, বেইজিং এ আমাদের অ্যাম্বাসিতে হটলাইন খোলা হয়েছে (৮৬)-১৭৮০১১১৬০০৫। আমাদের কর্মকর্তা খায়রুল বাসার এবং আসিফ বাংলাদেশিদের করা ২৪৫ সদস্যের ডব ঈযধঃ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। বিশেষ করে উহান শহরে সরকার কাউকেই বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছে না, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। বিচলিত না হয়ে সরকারি নির্দেশ মেনে চলার জন্য সবাইকে বলা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ৪১, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ: চীনের করোনা ভাইরাস নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ। একদিনের মধ্যে সেখানে এ ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ২৬ থেকে বেড়ে গতকাল শনিবার এসে দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। মারা গেছেন একজন ডাক্তারও। তিনি উহান শহরে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এ খবর দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলেছে, বিশ্বজুড়ে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৩০০। বিশ্বজুড়ে যাতে এই মহামারি ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য সতর্কতা অবলম্বন করছে স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ। উহান শহরে হুবেই সিনহুয়া হাসপাতালে প্রথম এই ভাইরাস ধরা পড়ে। সেখানে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন ডাক্তার রিয়াং উডং (৬২)। চায়না গ্লোবাল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এক টুইটে বলেছে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন।

যে ৪১ জন মারা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে এই চিকিৎসক অন্তর্ভুক্ত কিনা তা স্পষ্ট নয়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃত ৪১ জনের মধ্যে ৩৯ জনই হুবেই প্রদেশের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের। শনিবার ন্যাশনাল হেলথ কমিশন বলেছে, এই ভাইরাসে চীনে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৮৭। এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, নেপাল, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায়।

শনিবার প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। বলা হয়েছে, সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০-এর কোটায় পা রাখা এক চীনা নাগরিক। তিনি ছিলেন চীনের উহানে। সেখান থেকে ১৯শে জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া গিয়েছেন। মেলবোর্ন হাসপাতালে তার অবস্থা স্থিতিশীল। সংবাদ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান মেডিকেল অফিসার ব্রেন্ডন মারফি বলেছেন, চীনের বাইরে যে পরিমাণ এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং উহান শহর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যে পরিমাণ মানুষ যান, তাতে আরো আক্রান্ত পাওয়া যেতে পারে। শনিবারই প্রথম একজনের দেহে এই ভাইরাস পাওয়া গেল। তবে প্রতিদিন অনেকের পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাতে নেতিবাচক ফল আসছে।

শুক্রবার রাতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের খবর আসে ইউরোপের প্রথম দেশ ফ্রান্স থেকে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলেছে, তারা পরীক্ষাধীন রেখেছে ৬৩ জন রোগীকে। তার মধ্যে দু’জনের দেহে এই ভাইরাস নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা চীনের উহান সফরে গিয়েছিলেন। এই ভাইরাস মানুষের দেহ থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় এ সপ্তাহে করোনা ভাইরাস নিয়ে চীনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে একে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ হিসেবে ঘোষণা করেনি তারা।

মৃত শিক্ষককেও বদলি করল মন্ত্রণালয় - dainik shiksha মৃত শিক্ষককেও বদলি করল মন্ত্রণালয় please click here to view dainikshiksha website