please click here to view dainikshiksha website

কুমিল্লা বোর্ডের ফল বিপর্যয়ে দায়ী ‘অভিভাবকদের অসচেতনতা’

কুমিল্লা প্রতিনিধি | আগস্ট ১৭, ২০১৭ - ৪:৫৫ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

শিক্ষার্থীদের ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে অভিভাবকদের অসচেতনতাকেই দায়ী করেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেক।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগষ্ট) দুপুরে ফেনী পাইলট হাইস্কুল মিলনায়তনে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ফেনী জেলার সব নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষকদের সঙ্গে মত-বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আবদুল খালেক বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের পরে বোর্ড থেকে স্কুল-কলেজগুলোর শিক্ষকদের কাছে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয় কি কারণে এ বিপর্যয়। অধিকাংশ স্কুল প্রধান শিক্ষকরাই অভিভাবকদের সচেতনতার বিষয়টিকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, অভিভাবকদের সচেতন করে তুলতে প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিভাবক সমাবেশ করার জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় যেসব শিক্ষার্থীরা কৃতকার্য হতে পারবে না- তাদের কোনোভাবেই সেন্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। এটি করতে পারলে পাসের হার আরো বাড়বে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলে নম্বর পত্র প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোর্ডের কাছে জমা রাখতে হবে।

ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায় শতকরা প্রায় ৬০ শতাংশ অকৃতকার্য হয় ইংরেজীতে। এ বিষয়েও স্কুলের শিক্ষকদের আরো মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মত-বিনিময় সভায় শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও চাওয়া-পাওয়ার বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল খালেক।

ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হোসনে আরা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কুমিল্লা’র বিদ্যালয় পরিদর্শক ইলিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, জেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত নাথ।

এছাড়ও বক্তব্য রাখেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও শিক্ষক নেতারা।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ২টি

  1. মু আমজাদ হোসেন, সহঃ অধ্যাপক, ইংরেজি, কফিল উদ্দিন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, লক্ষ্মীপুর । says:

    বেসরকারি হাই স্কুলের দু’একজন প্রধান শিক্ষক ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে জেনেছি, মফস্বলের স্কুলগুলোতে আজ আর কোন আদু ভাই নেই । ক্লাস সিক্স সেভেনে বার্ষিক পরীক্ষায় কয়েক বিষয়ে ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীকেও বিভিন্ন মহলের চাপে প্রধান শিক্ষক প্রমোশন দিতে বাধ্য থাকেন । জেএসসি কিংবা এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার গ্রহনযোগ্য রেখে কিংবা বাড়িয়ে পরিচালনা পর্ষদের সন্তুষ্টি বিধান, এবং এমপিও চলমান রাখার উদ্দেশ্যে পরীক্ষার হলে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিভিন্নভাবে ‘সাহায্য’ করে পাশ করাতে বাধ্য থাকেন । ছাত্র-ছাত্রীরাও যেন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে দিন কে দিন অধ্যয়নের প্রতি অমনযোগি হয়ে উঠছে ।

    অসচেতন অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের হাতে স্মার্ট ফোন তুলে দেয়াতে পড়ালেখায় চরম অমনযোগিতা সহ প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার হলে নকল করার প্রবণতা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে প্রবল হয়েছে ।

    টেস্ট পরীক্ষায় কয়েক বিষয়ে ফেল করলেও এই বোর্ডে খুব নগন্যসংখ্যক স্কুল কলেজ রয়েছে যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহনের অনুমতি দেয়া হয় না । এ ব্যাপারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা নানামুখী চাপের কাছে অসহায় থাকেন ।

    সর্বশেষ ফ্যাক্টর হচ্ছে ছাত্র-রাজনীতি । ভুক্তভোগি মাত্রই এ কথা স্বীকার করবেন যে অধিকাংশ কলেজে এই ছাত্র-রাজনীতির বিষাক্ত ছোঁয়ায় শিক্ষার পরিবেশ ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ।

  2. মোঃ সাইফুল ইসলাম,সহকারি শিক্ষক says:

    সহমত..!তবে অকৃতকার্যদের যেন না সুযোগ দেয়া হয়,এই মর্মে বোর্ড কর্তৃক প্রত্যেকটি স্কুলকে করা নির্দেশ দিলে মনে হয় ফলপ্রসু হত।

আপনার মন্তব্য দিন