কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব: মন্ত্রিপরিষদ সচিব - বিবিধ - Dainikshiksha

কোটা উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করব: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সরকারি চাকরির কোটা ‘যতটা সম্ভব’ তুলে দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করবে কোটা পর্যালোচনা গঠিত কমিটি।

আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য বর্তমানে থাকা ৩০ শতাংশ কোটার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কাছে ‘মতামত’ চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কোটা পর্যালোচনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির নেতৃত্বে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

সোমবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের সামনে কোটার কমিটির কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কমিটির সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছেন তারা।

“আমরা মাসখানেক কাজ করলাম, (সুপারিশ) প্রায় চূড়ান্ত। আমাদের কমিটির মোটামুটি সুপারিশ হল কোটা অলমোস্ট উঠিয়ে দেওয়া, মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া।

“তবে সুপ্রিম কোর্টের একটা রায় আছে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা প্রতিপালন ও সংরক্ষণ করতে হবে এবং যদি খালি থাকে খালি রাখতে হবে।”

সচিব বলেন, “আমাদের সিদ্ধান্ত- যতদূর সম্ভব কোটা বাদ দিয়ে মেরিটি চলে যাওয়া। সময় এসেছে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় যাব, এটা কমিটির প্রাথমিক অগ্রগতি।”

মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষণ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ ‘পুরোপুরি বুঝতে না পারায়’ এ বিষয়ে আদালতের মতামত চাওয়া হবে জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, “সরকার কোর্টের কাছে মতামত চাইবে যদি কোর্ট এটাকেও ইয়ে করে … দেয় তাহলে কোটা থাকবে না। আর কোর্ট যদি বলে ওই অংশটুকু সংরক্ষিত রাখতে হবে, তাহলে ওই অংশটুকু বাদ দিয়ে বাকি সবটা উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।”

মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় নয়, পর্যবেক্ষণ রয়েছে- এমনটা জানানো পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “কোর্টের পর্যালোচনাও নির্বাহী বিভাগের জন্য বাইন্ডিং হয়ে যায়।”

কোটা তুলে দিলে অনগ্রসরদের কী হবে- এমন প্রশ্নে শফিউল বলেন, “আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখিছি উনারা অগ্রসর হয়ে গেছেন।”

বর্তমানে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে ৫৬ শতাংশ পদ বিভিন্ন কোটার জন্য সংরক্ষিত; এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারী ১০ শতাংশ, জেলা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধী ১ শতাংশ।

কোটার পরিমাণ ১০ শতাংশে কমিয়ে আনার দাবিতে কয়েক মাস আগে জোরাল আন্দোলন গড়ে তোলে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’, যা ঢাকার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল সংসদে বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতিই আর রাখা হবে না।

তবে পরে সংসদে তিনি বলেন, কোটা পদ্ধতি থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ রাখতে হাই কোর্টের রায় আছে।

এদিকে নতুন করে আন্দোলন দানা বাঁধার প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের নেতৃত্বে গত ২২ জুলাই একটি কমিটি করে সরকার।

ওই কমিটিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি), অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবদের কমিটির সদস্য করা হয়।

কোটা পর্যালোচনা কমিটি গত ৮ জুলাই তাদের প্রথম সভা করে কর্মপন্থা নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে কোটা সংক্রান্ত দেশি-বিদেশি সব ধরনের তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়।

শুরুতে কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও গত ১৯ জুলাই এই কমিটির মেয়াদ আরও ৯০ কার্যদিবস বাড়ানো হয়।

নির্বাচনীতে অনুত্তীর্ণরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না - dainik shiksha নির্বাচনীতে অনুত্তীর্ণরা পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না শূন্যপদের চাহিদা পাঠানোর সময় ফের বাড়ল - dainik shiksha শূন্যপদের চাহিদা পাঠানোর সময় ফের বাড়ল জেএসসির জেলাভিত্তিক কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ - dainik shiksha জেএসসির জেলাভিত্তিক কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ সরকারিকরণ দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন (ভিডিও) - dainik shiksha সরকারিকরণ দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন (ভিডিও) কারিগরির সংশোধিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha কারিগরির সংশোধিত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা প্রকাশ ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি নির্বাচনের আগেই স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা - dainik shiksha নির্বাচনের আগেই স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর - dainik shiksha সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া  - dainik shiksha please click here to view dainikshiksha website