কোটা সংস্কারের পরও কি দুঃখ ঘুচবে হাজারো বেকারের? - মতামত - Dainikshiksha

কোটা সংস্কারের পরও কি দুঃখ ঘুচবে হাজারো বেকারের?

মোবাশ্বের আহমেদ |

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ একসময় দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। অভাব, ক্ষুধা, দরিদ্র্র্র্র্র্রতা ছিল এদেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী। ইংরেজরা শাসন করেছে,  পাকিস্তানিরা শোষণ করেছে। ফলে দীর্ঘদিন এই দরিদ্রতার করালগ্রাস থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি এদেশের আপামর জনগণ। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন-সার্বভৌম একটি রাষ্ট্র। পূর্বের তুলনায় অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে এদেশের মানুষ। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় নিজের নাম লিখাতে সক্ষম হয়েছে। 

কারণ, এখন আর ব্রিটিশরা শাসন করে না, ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে না পাকিস্তানিরা। সবদিক থেকে  সবকিছু ঠিকঠাক  থাকলেও এদেশে উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বেকারত্বের হার, বেড়েছে মানুষ, বাড়েনি মানবসম্পদ। আমাদের সবচাইতে বড় ব্যর্থতা এই জায়গায়। আমরা মানুষ বাড়িয়েছি কিন্তু মানবসম্পদ বাড়াতে পারিনি।  

প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করতে এদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের যেমন অবদান রয়েছে তার জন্য তারা আমাদের কাছে চির স্মরণীয়। স্বীকৃতিস্বরুপ  বঙ্গবন্ধু তাদের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০% কোটার  ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। কারণ অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবার তত্কালীন সময়ে নিজেদের সহায়-সম্বল হারিয়ে সর্বশ্বান্ত হয়েছিলেন। তাদের ত্যাগ কোনোভাবেই উপেক্ষার বিষয় নয়। মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে কিছু বলার মত দুঃসাহস আমাদের থাকা উচিত নয়। কিন্তু বাংলাদেশে যে কোটা পদ্ধতি চালু রয়েছে তা সংস্কার অর্থাত্ সহনীয় মাত্রায় রাখার জন্য সাধারণ ছাত্ররা আন্দোলন করেছে এবং সেটি সহনীয় মাত্রায় রাখা উচিত। যাতে করে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী বঞ্চিত না হয়। কিন্তু তাতে কি দুঃখ ঘুচবে এদেশের হাজার হাজার বেকারের।

কোটা সংস্কার করা হলেও বেকারের সংখ্যা কমবে না। কারণ, কোটায় যারা চাকরি পেত তারা তখন বেকার হয়ে পড়বে। তাই কোটা সংস্কার যতটা জরুরি ঠিক ততটাই জরুরি বেকারত্ব দূরীকরণ। কোটা সংস্কারের চেয়ে পূর্বে চাই বেকারত্ব সংস্কার। যখন সারাদেশে কোনো শিক্ষিত ছেলেমেয়ে বেকার থাকবে না, তখন কাকে কত পারসেন্ট কোটা দিলেন সেদিকে কেউ তাকাবে না। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত যে পড়াশুনা করে উচ্চতর ডিগ্রি নিলে শুধু চাকরিই করতে হবে।

  আর শুধু সরকারি চাকরি দিয়ে বেকারত্ব দূর করা অসম্ভব। এজন্য প্রয়োজন নতুন নতুন তরুণ উদ্যোক্তা তৈরি করা। আমাদের দেশে তরুণ উদ্যোক্তারা সমর্থন ও সহযোগিতার অভাবে হতাশ হয়। তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় জামানত দেবার সামর্থ্য না থাকায় বিত্তহীন সত্ অথচ যোগ্যতাসম্পন্ন উদ্যোক্তারা ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ পায় না। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো কম লাভজনক প্রকল্পে বিনিয়োগ করে। তারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বহুসংখ্যক বিনিয়োগের পরিবর্তে বৃহত্ আকারে স্বল্পসংখ্যক বিনিয়োগে অধিক আগ্রহী।

ঋণ পেলেও তরুণ উদ্যোক্তারা সেই ঋণ নিয়ে কতটুকু সফল হলো সে খবর কেউ রাখে না। কোটা সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে এখনই। এজন্য শুধুমাত্র সরকারি চাকরির আশায় না থেকে আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মসূচি হাতে নিতে হবে তরুণদেরকেই। তাহলে ভবিষ্যতে আমাদেরকে আর কোনো কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে হবে না বা কোটা সংস্কার আন্দোলন দেখতে হবে না।

 লেখক:শিক্ষার্থী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার অপেক্ষায় চাকরিতে প্রবেশের বয়স: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ১৮১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু - dainik shiksha ১৮১ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু শিক্ষকতা ছেড়ে উপজেলা নির্বাচনে শিক্ষক - dainik shiksha শিক্ষকতা ছেড়ে উপজেলা নির্বাচনে শিক্ষক প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয় - dainik shiksha প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সুপারিশপ্রাপ্তদের করণীয় স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি - dainik shiksha স্টুডেন্টস কাউন্সিল নির্বাচন ২০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ - dainik shiksha প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১৫ মার্চ ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website