please click here to view dainikshiksha website

ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি সরকারি কলেজে, নতুন কর্মসূচি আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ৫, ২০১৬ - ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ
dainikshiksha print

অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামোতে অধ্যাপকদের পদ ও বেতন স্কেল অবনমনের প্রতিবাদে এবং সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল সোমবার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন সরকারি কলেজের শিক্ষকরা।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ডাকে আজ মঙ্গলবারও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালিত হবে।

জানা যায়, সরকারি কলেজ, টিটি কলেজ, নায়েম, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ও সরকারি কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা গতকাল কর্মবিরতি পালন করেছেন।

শিক্ষকরা কলেজে উপস্থিত হলেও তাঁরা কোনো কাজ করেননি। এ কারণে গতকাল ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি কোনো সরকারি কলেজে।

এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা। কারণ আগামী ২০ জানুয়ারি তাদের চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কিছুক্ষণ কলেজে অপেক্ষা করে ফিরে গেছে। অনেককেই গল্পগুজব করে সময় কাটাতে দেখা গেছে।

দেশের ৩০৬টি সরকারি কলেজের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

২৪তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ফোরামের সভাপতি মো. এনামুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সংঙ্গে একাত্ম হয়ে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবী আদায় না হওয়া চলবে।

ঢাকা কলেজের ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক কুদ্দুস শিকদার গতকাল শিক্ষাডটকমকে বলেন, ‘সমিতির ডাকে আমরা এই কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কয়েকটি পরীক্ষা থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। কোনো ক্লাসই হয়নি। তবে সব শিক্ষকই কলেজে উপস্থিত ছিলেন।’

কলেজ শিক্ষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সহযোগী অধ্যাপকদের পদ পঞ্চম গ্রেড থেকে চতুর্থ গ্রেডে উন্নীত করতে হবে। সহযোগী অধ্যাপকদের পদোন্নতির পর অধ্যাপক পদে তৃতীয় গ্রেড দিতে হবে। আর নায়েম, মাউশি, এনসিটিবি, শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রধান ও অনার্স-মাস্টার্স কলেজের অধ্যক্ষের পদ প্রথম গ্রেডে উন্নীত করতে হবে।

শিক্ষা প্রশাসনের পরিচালক ও অনার্স-মাস্টার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ, শিক্ষা বোর্ডের সচিব ও এনসিটিবির সদস্য পদ দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করতে হবে।

অনার্স-মাস্টার্স কলেজে প্রতিটি বিভাগে অধ্যাপকের দুটি পদ সৃষ্টি এবং একজন সিনিয়র অধ্যাপককে দ্বিতীয় গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল বহাল, সুপার নিউমারারি পদ সৃষ্টি করে পদোন্নতি, অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মতো সমান সুবিধা দিতে হবে এবং অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের শিক্ষায় প্রেষণ বাতিল করতে হবে।

বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খন্দকার বলেন, ‘সারা দেশ থেকেই আমাদের কাছে খবর এসেছে, শিক্ষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। কোথাও ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।

তবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ব্যাঘাত ঘটুক সেটা আমরা চাই না। তার পরও মর্যাদার অবনমন হওয়ায় আমরা এই কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছি। দুই দিনের কর্মবিরতির পরও সরকার আমাদের দাবি মেনে না নিলে আগামী ২২ জানুয়ারি সাধারণ সভা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে এরপর আরো কঠিন কর্মসূচি আসতে পারে।’

নাটোর প্রতিনিধি জানান, নাটোরের চারটি সরকারি কলেজের শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির ব্যানারে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে নাটোরের নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজের শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করে কর্মবিরতি শুরু করেন। ফলে কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

এ ছাড়া নাটোর রানী ভবানী মহিলা কলেজ, আব্দুলপুর সরকারি কলেজ ও সিংড়া গোল-ই আফরোজ সরকারি কলেজেও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

ফরিদপুর সংবাদাতা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল ফরিদপুরের সরকারি কলেজগুলোর শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন।

ফরিদপুরের সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হাসিনা বানু জানান, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির আহ্বানে সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দিনের কর্মবিরতির কর্মসূচি রয়েছে। গতকাল কর্মসূচির প্রথম দিনে শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করায় কলেজে কোনো ক্লাস হয়নি।

সাতক্ষীরা, যশোর, সিলেট রংপুর থেকে সংবাদাতার একই খবর দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন