খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা - স্কুল - দৈনিকশিক্ষা

খসে পড়ছে পলেস্তারা, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি |

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে আসছে মরিচা পড়া রড। বিভিন্ন সময় পলেস্তরা খসে পড়ে আহত হয়েছে একাধিক শিক্ষার্থীও। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় এই ভবনের তিনটি কক্ষে বর্তমানে ঝুঁকি নিয়েই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছেন শিক্ষকরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম ধাপে জাতীয়করণকৃত হয়। ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বিদ্যালয়টি পাকা ভবনে উন্নীত হয়। এই সময়ে নির্মিত ভবনটির কাজ নিম্নমানের হওয়ার কারণে বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিণত হয়েছে। ভবনের সবকটি কক্ষের স্থানে স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে মরিচা ধরা রড বেরিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় ঝুঁকি নিয়েই সেখানে চলছে পাঠদান। স্কুল ভবনের এমন ঝুঁকির মধ্যে প্রতিদিন পাঁচ জন শিক্ষক ২৫২ শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছে। ইতোপূর্বে বিদ্যালয়ে পাঠদানের সময়ে ছাদের পলেস্তরা খসে বিভিন্ন সময় তিন শিক্ষার্থীও আহত হয়েছে।

সরেজমিনে কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, তিনটি অপরিসর শ্রেণিকক্ষ ও একটি অফিস কক্ষের স্কুল ভবনটি জীর্ণ দশা ধারণ করেছে। পুরো ভবনটির দেয়াল জুড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ছাদ ও বিমের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে গেছে। বিকল্প ভবন না থাকায় নিরুপায় হয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে রেখে নিয়মিত পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রেরও চরম সংকট, পুরোনো নড়বড়ে বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল নিয়েই চলছে কার্যক্রম।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবুল হাসান জানায়, ‘আমাদের শ্রেণিতে ৪৫ ছাত্রছাত্রী আছে। তবে সবার বসার জায়গা হয় না। পর্যাপ্ত ডেস্ক-বেঞ্চের অভাব রয়েছে। গরমের দিনে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়।’

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রুমা সিনহা ও মিনতী কৈরী বলেন, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে অত্যন্ত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আমরা পাঠদান করছি। তা ছাড়া শ্রেণিকক্ষ সংকটে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাঠদানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এই বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ১৬ জন, প্রথম শ্রেণিতে ৪৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪৮ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৪৮ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৫১ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল খালেক বলেন, এই বিদ্যালয়ে পাঁচ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ২৫২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে এই বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ করে। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে এলজিইডি থেকে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এরপরও বিকল্প শ্রেণিকক্ষ না থাকায় মৃত্যুভয় নিয়েই পাঠদান করাতে হচ্ছে। নতুন স্কুল ভবন অত্যন্ত জরুরি।

কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা জয় কুমার হাজরা বলেন, কাটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবনের টেন্ডার হয়েছে। কার্যাদেশও সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই ঠিকাদার কাজ শুরু করবে।

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল দেখুন - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ফল দেখুন মাদরাসা শিক্ষকদের নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম স্থগিত - dainik shiksha মাদরাসা শিক্ষকদের নতুন এমপিওভুক্তির কার্যক্রম স্থগিত প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য : প্রধানমন্ত্রীই একমাত্র ভরসা - dainik shiksha প্রাথমিকের বেতন বৈষম্য : প্রধানমন্ত্রীই একমাত্র ভরসা বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা ১৪ অক্টোবর - dainik shiksha বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা ১৪ অক্টোবর এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ - dainik shiksha এইচএসসি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে - dainik shiksha কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কবে ভর্তি পরীক্ষা, এক নজরে শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website