খুলনার আট স্কুলের উপকরণ কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ - স্কুল - Dainikshiksha

খুলনার আট স্কুলের উপকরণ কেনায় দুর্নীতির অভিযোগ

খুলনা প্রতিনিধি |

খুলনায় ‘শিখবে প্রতিটি শিশু’ (ইসিএল) স্ট্রেংদেনিং মডেল পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আটটি বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সাজানোর উপকরণ ও শিখনসামগ্রী কেনায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সরকারি প্রাক্কলিত মূল্য ঠিক রেখে নিম্নমানের পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এটি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির (পিইডিপি-৩) আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইসিএল প্রকল্পে শ্রেণিকক্ষ সাজানোর জন্য সারা দেশে ৫৪টি স্কুল নির্বাচন করা হয়। এর মধ্যে খুলনা সদরের আটটি স্কুলে বরাদ্দ দেওয়া হয় মোট চার লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

স্কুলগুলো হলো হ্যানে রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া ইনফ্যান্ট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেহমানে আলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব বয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলবাড়ী বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যোগীপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসব বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ১৬টি উপকরণ কেনা ও সজ্জার জন্য ৫৭ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সদস্যসচিব করে পাঁচ সদস্যের ক্রয় কমিটির মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য অধিদপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

সাধারণ শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের অভিযোগ, তালিকা ঠিক রেখে নিম্নমানের উপকরণ কিনে ভুয়া ভাউচার, ক্যাশমেমোর মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্কুলের বিপরীতে একই প্রতিষ্ঠানের ভাউচার ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া আলাদা আলাদা স্কুল হলেও ভাউচার একই ব্যক্তির হাতে লেখা। আবার পণ্যমূল্যও একই। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী খুলনা সদরের আটটি স্কুলের ভ্যাটের চালান লিখেছেন।

উপকরণ কেনায় অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। নগরীর নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেনা মালামাল যাচাই-বাছাই করে নিম্নমানের বলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুলতানা সামচিকে অভিযুক্ত করেন শিক্ষক-অভিভাবক কমিটির সভাপতি পলাশ। ফলে তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হয়। তবে শিক্ষক সুলতানা সামচি ওই কাজে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেহমানে আলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তখনকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বি এম শফিউর রহমান কর্মসূচির সব মাল কিনে স্কুলগুলোতে পাঠান। আর প্রধান শিক্ষকরা থানা শিক্ষা অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী ভাউচার/ক্যাশমেমোসহ বিল জমা দেন।

হ্যানে রেলওয়ে স্কুলের তখনকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রভাস চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘জুন ক্লোজিংয়ের সময় আমরা ওই বরাদ্দের বিষয়ে জেনেছিলাম। শিক্ষা অফিসই ইসিএলের পণ্য সরবরাহ করেছে।’

ফুলবাড়ী বিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘থানা শিক্ষা অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা ইসিএলের পণ্য কিনেছি।’

নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-অভিভাবক কমিটির সহসভাপতি ফাইজুল ইসলাম পলাশ বলেন, ‘ইসিএলের পণ্য নিম্নমানের হওয়ায় আমরা সেটি স্কুলে ব্যবহার করতে দিইনি। সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ বরাদ্দ দিলেও কয়েকজন শিক্ষা কর্মকর্তার কারণে তা নষ্ট হচ্ছে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষক বি এম শফিউর রহমান বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। টিইও অফিসের নির্দেশে কমিটির মাধ্যমে ইসিএল পণ্যসামগ্রী কেনা হয়েছে।’

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার স্কুলগুলো পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইসিএল পণ্যসামগ্রী কেনা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় দ্রুত মামলা করা হবে। প্রতিটি স্কুলে একই জিনিস দেওয়া হয়েছে। বিল-ভাউচারেও গরমিল রয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে দুদকের অভিযান - dainik shiksha মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলে দুদকের অভিযান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের নির্দেশ এইচএসসির অনলাইন ফরম পূরণ শুরু ১৩ ডিসেম্বর - dainik shiksha এইচএসসির অনলাইন ফরম পূরণ শুরু ১৩ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি পালনে নির্দেশনা - dainik shiksha বিজয় দিবসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচি পালনে নির্দেশনা স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ - dainik shiksha স্টুডেন্টস কেবিনেট নির্বাচনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ ভিকারুননিসার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত - dainik shiksha ভিকারুননিসার ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখার কলেজ ও মাধ্যমিকের অনুমোদন নেই - dainik shiksha ভিকারুননিসার বসুন্ধরা শাখার কলেজ ও মাধ্যমিকের অনুমোদন নেই এসএসসির ফরম পূরণের সময় ফের বাড়ল - dainik shiksha এসএসসির ফরম পূরণের সময় ফের বাড়ল ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ মাদরাসা শিক্ষকদের নভেম্বর মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে - dainik shiksha ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ মাদরাসা শিক্ষকদের নভেম্বর মাসের এমপিওর চেক ব্যাংকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে ট্রিপল ই জটিলতা - dainik shiksha শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে ট্রিপল ই জটিলতা সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলকের পরিপত্র জারি - dainik shiksha সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলকের পরিপত্র জারি ডাচ-বাংলার উদাসীনতায় পরীক্ষকদের সম্মানীর টাকা প্রতারকদের হাতে - dainik shiksha ডাচ-বাংলার উদাসীনতায় পরীক্ষকদের সম্মানীর টাকা প্রতারকদের হাতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website