গণিত প্রশ্নে ভুল মুদ্রণেও ছিল ত্রুটি - পরীক্ষা - Dainikshiksha

গণিত প্রশ্নে ভুল মুদ্রণেও ছিল ত্রুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক |

সারাদেশে একযোগে চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রশ্নপত্রে থাকা ভুলের কারণে পরীক্ষার্থীদের গলদঘর্ম হতে হয়েছে। আবার ইংরেজি ভার্সনের প্রশ্নপত্রে মুদ্রণ ত্রুটির কারণেও পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হয়েছে। 

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দৈনিক শিক্ষার কাছে মুদ্রণ ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন। 

জানা যায়, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি ) সারাদেশে ছিল আবশ্যিক গণিত বিষয়ের পরীক্ষা। ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলে ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থীদের পুরাতন প্রশ্ন দেয়া হয়। প্রায় ৩০ মিনিটের মত পরীক্ষা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নতুন প্রশ্নপত্র দেয়া হয়। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ইংলিশ ভার্সনের পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, শনিবার তাদের সাধারণ গণিতের পরীক্ষা ছিল। নির্ধারিত সময়ে তারা কেন্দ্রে উপস্থিত হন। পরীক্ষার ৩০ মিনিট পর তারা দেখেন যে, ২০১৬ খ্রিস্টাব্দের সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তাদের দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানানো হলে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এসময় শিক্ষকরা পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন তাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে। কিন্তু পরে আর সে সময় দেওয়া হয়নি। এতে করে ঠিকমত উত্তর করতে পারেননি পরীক্ষার্থী।

ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেওয়া এক পরীক্ষার্থী বলেন, ১০০৬ নম্বর রুমে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। সেখানে তাদের পুরাতন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরে সেটা পরিবর্তন করে নতুন প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের নষ্ট হওয়া ৩০ মিনিটের জন্য অতিরিক্ত সময় আর দেওয়া হয়নি। ফলে তারা প্রশ্নপত্রে চাওয়া সবগুলো উত্তর দিতে পারেনি। এতে কয়েকজন পরীক্ষার্থী কান্না শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, পরীক্ষার পর তার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে, পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ায় সে কাঙ্ক্ষিত উত্তর দিতে পারেনি। তাদের রুমের সব পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দায়িত্বরত শিক্ষকরা নতুন প্রশ্নপত্র দিলে দেখা যায়, তাতে ৩, ৪ ও নম্বর প্রশ্নের বেশ কয়েকটি অংশ নেই। এরপর পরীক্ষার্থীদের ফটোকপি করা প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এতে করে প্রায় ৩০ মিনিটের মত সময় নষ্ট হয় তাদের। এ জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার কথা থাকলে তা আর দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে পরীক্ষা শুরুর পর রাজধানীর মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ইংরেজি ভার্সনের পরীক্ষার্থীরা দেখতে পায়, তাদের প্রশ্নপত্রের দ্বিতীয় পাতা পুরোপুরি ফাঁকা। সেখানে কোনো কিছুই ছাপা হয়নি। প্রশ্নপত্র মোট চার পাতার। দ্বিতীয় পাতায় এ মুদ্রণ বিভ্রাট ঘটেছে। পরীক্ষার্থীরা এ বিষয়ে কক্ষ পরিদর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা বাংলা ভার্সনের প্রশ্নপত্র এনে ওই পাতায় থাকা তিনটি প্রশ্ন ইংরেজিতে রূপান্তর করে মুখে মুখে পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেন। তাদের তিনটি প্রশ্ন লিখে নিতে বলা হয়। এতে পরীক্ষার্থীদের বেশ কিছুটা মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর শিক্ষার্থীদের মূল প্রশ্নের ফটোকপি এনে দেওয়া হয়, যেখানে প্রশ্নগুলো যথাযথভাবে ছাপা হয়েছে। মিরপুর আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মিরপুর বনফুল আদিবাসী গ্রীনহার্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়া আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছে।

এই কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. মাহবুবুল আলম বলেন, প্রশ্নে মুদ্রণ প্রমাদের বাইরেও জ্যামিতির একটি প্রশ্নই ছিল ভুল। সেটি সমাধান করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা গলদঘর্ম হয়েছে। প্রায় ২৫ মিনিট বা আধাঘণ্টার মতো সময় নষ্ট করার পর তারা বুঝতে পারে, প্রশ্নই ভুল। বাংলা ভার্সনের প্রশ্ন এনে শিক্ষকরাও দেখেন, প্রশ্নটি ভুল। এই ভুল প্রশ্ন আর মুদ্রণ ত্রুটির কারণে যে সময়টুকু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেই সময় পরীক্ষার্থীদের বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। যথাসময়ে তাদের খাতা নিয়ে নেওয়া হয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছেন বলে জানান এই অভিভাবক। তিনি জানান, পাশের মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে মনিপুর স্কুলের শিক্ষার্থীরা। সেখানেও একই ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্নপত্রের একাংশ ছাপা হয়নি বলে পরীক্ষার্থীরা জানিয়েছে। 

নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ - dainik shiksha নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস মূল্যায়নে কমিটি গঠন - dainik shiksha তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস মূল্যায়নে কমিটি গঠন ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না - dainik shiksha ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে - dainik shiksha দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য - dainik shiksha সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই - dainik shiksha প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website