please click here to view dainikshiksha website

গন্তব্যহীন ভোকেশনাল শিক্ষা

প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস | মে ১৯, ২০১৭ - ৮:১২ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

আমাদের দেশের সাধারণ শাখার শিক্ষার্থীরা এস.এস.সি, এইচ.এস.সি, ডিগ্রি ও মাস্টার্স ও মাদ্রাসা শাখার শিক্ষার্থীরা দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল বিষয়ে অধ্যয়ন করতে পারে। কিন্তু ভোকেশনাল শাখার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই এস.এস.সি ভোকেশনাল কোর্স সম্পন্ন করার পর পরবর্তীতে আর ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহন করতে পারে না। যদিও কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট সংখ্যক ট্রেডে জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচ.এস.সি ভোকেশনাল কোর্সে অধ্যয়ন করে থাকেন। আর এখানেই তাদের ভোকেশনাল শিক্ষায় শিক্ষা জীবন শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কোন শিক্ষার্থীই আর ভোকেশনাল শিক্ষায় উচ্চ শিক্ষিত হতে পারেনা, আর এটাই হলো গন্তব্যহীন ভোকেশনাল শিক্ষা।

বর্তমানে ২৫০০ এস.এস.সি ও দাখিল ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানে এইচ.এস.সি ভোকেশনাল কোর্স পরিচালিত হয়ে থাকে অর্থাৎ এস.এস.সি ভোকেশনাল কোর্স করার পর মাত্র শতকরা ৩ ভাগ শিক্ষার্থী এইচ.এস.সি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমে শিক্ষার সুযোগ পায়। তাই এস.এস.সি পর্যায়ে ভোকেশনাল শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ১টি করে প্রতিষ্ঠান চালু করা প্র্েয়াজন। একই সাথে দেশে সকল মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি বিদ্যালয়সমূহে এস.এস.সি ভোকেশনাল কোর্স চালু করা যেতে পারে। এস,এস,সি ভোকেশনাল পাশ করা  শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বর্তমানে জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থিত এস.এস.সি ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে এইচ.এস.সি ভোকেশনাল কোর্স চালু করা যেতে পারে, ফলে অনেক শিক্ষার্থীর এইচ.এস.সি ভোকেশনাল শিক্ষা গ্রহন করতে সম্ভব হবে।

এইচ.এস.সি ভোকেশনাল কোর্স পাশ করা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাচেলর অব আর্টস (বি.এ), ব্যাচেলর অব সায়েন্স (বি.এস.সি), ব্যাচেলর অব কমার্স (বি.কম) ও ব্যাচেলর অব সোস্যাল সায়েন্স (বি.এস.এস) এর ন্যায় ৩ বছর মেয়াদী পাশ কোর্সে ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি) এবং তারপর ভোকেশনাল শিক্ষায় আরও উচ্চ শিক্ষার জন্য ২ বছর মেয়াদী মাস্টার্স অব ভোকেশনাল (এম.ভি) কোর্স চালু করা প্রয়োজন। এই কোর্সসমূহ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে চালু করা যেতে পারে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি কলেজসমূহে এই বি.ভি ও এম.ভি কোর্স চালু করা যেতে পারে। ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি) শিক্ষাক্রমে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ব্যতিত শুধুমাত্র বাংলা, ইংরেজি ও স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস কোর্স পড়ানো যেতে পারে।

যেহেতু ব্যাচেলর অব আর্টস (বি.এ) কোর্সে পদার্থ বা রসায়ন পড়ানো হয় না তাই ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি) কোর্সে পদার্থ, রসায়ন ও গনিত বিষয় না পড়িয়ে শুধু ট্রেড বিষয়ে পড়ানো যেতে পারে, উক্ত কোর্সের ২১টি বিষয়ের ২১০০ নম্বরের মধ্যে বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ১০০, স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস ১০০ ও সংশ্লিষ্ট ট্রেডে ১৮ বিষয়ে ১৮০০ নম্বর পড়ানো যেতে পারে। ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি) কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে এইচ.এস.সি ভোকেশনালসহ যে কোন বিভাগের এইচ.এস.সি ও আলিম পাশ করাদের জন্য উন্মুক্ত করা যেতে পারে। ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি) পাশ করাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ২ বছর মেয়াদী মাস্টার্স অব ভোকেশনাল (এম.ভি) কোর্স চালু করা প্রয়োজন যার প্রথম বছর প্রিলিমারি ও দ্বিতীয় বছর ফাইনালের প্রতি বছরের জন্য ৭টি বিষয় ৭০০ নম্বর ও বাস্তব প্রশিক্ষন ২০০ নম্বরসহ ৯০০ নম্বর করা যেতে পারে। উল্লেখিত কোর্স সমূহকে এনটিভিকিউএফ এর আওতায় প্রি-ভোক লেভেল-১ঃ ষষ্ঠ শ্রেণি, প্রি-ভোক লেভেল-২ঃ সপ্তম শ্রেণি, লেভেল-১ঃ অষ্টম শ্রেণি, লেভেল-২ঃ এস.এস.সি ভোকেশনালের নবম শ্রেণি, লেভেল-৩ঃ এস.এস.সি ভোকেশনালের দশম শ্রেণি, লেভেল-৪ঃ এইচ.এস.সি ভোকেশনাল, লেভেল-৫ঃ ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি), লেভেল-৬ঃ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ও মাস্টার্স অব ভোকেশনাল (এম.ভি) করা যেতে পারে।

এছাড়া ভোকেশনাল শিক্ষকদের শিক্ষা কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করা শিক্ষকদের জন্য ২বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল এডুকেশন কোর্স ও এইচ.এস.সি ভোকেশনাল পাশ করাদের জন্য ৪ বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল এডুকেশন কোর্স চালু করা যেতে পারে। ব্যাচেলার অব ভোকেশনাল এডুকেশন কোর্স পাশ করাদের জন্য ১ বছর মেয়াদী মাস্টার্স অব ভোকেশনাল এডুকেশন কোর্স চালু করা যেতে পারে। ভোকেশনাল শিক্ষার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে মাস্টার্স শ্রেণি পর্যন্ত সকল শিক্ষকের বেতন ভাতাদি ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পনè করার জন্য কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর হতে পৃথক করে ভোকেশনাল শিক্ষা অধিদপ্তর নামে নতুন অধিদপ্তর করে তাতে স্থানান্তর করা যেতে পারে। এছাড়া ভোকেশনাল শিক্ষার ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এইচ.এস.সি ভোকেশনাল শিক্ষাক্রম পর্যন্ত অর্থাৎ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ভোকেশনাল শিক্ষার সকল বোর্ড পরীক্ষার কার্যক্রম সঠিকভাবে সম্পনè করার জন্য বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে পৃথক করে বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষা বোর্ড নামে নতুন বোর্ড সৃষ্টি করে তাতে স্থানান্তর করা।

এইচ.এস.সি ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ডুয়েট এর ন্যায় পৃথক টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা প্রয়োজন যেখানে ব্যাচেলার অব ভোকেশনাল (বি.ভি), মাস্টার্স অব ভোকেশনাল (এম.ভি), ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল এডুকেশন, মাস্টার্স অব ভোকেশনাল এডুকেশন, বি.এস.সি ইন টেকনোলজি, বি.এস.সি ইন টেকনিক্যাল এডুকেশন কোর্স চালু করা যেতে পারে। এইচ.এস.সি ভোকেশনাল, ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল (বি.ভি), মাস্টার্স অব ভোকেশনাল (এম.ভি), কোর্সের জন্য শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এস.এস.সি ভোকেশনালে কর্মরত শিক্ষকদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়োগ করা যেতে পারে।

প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস

[ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয় ]

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন