গবেষণায় চুরি : জাবি শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

গবেষণায় চুরি : জাবি শিক্ষকদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জাবি প্রতিনিধি |

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের দু'পক্ষের শিক্ষক ও তাদের সহ-লেখকদের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে উপাচার্য বরাবর পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল হক ও সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেজ সংকটে পড়েছেন তারা। এ অবস্থায় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ অভিযোগপত্র তুলে নিতে তোড়জোড় চালাচ্ছে।

রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ১ সেপ্টেম্বর লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষক মুহাম্মদ আশরাফুল হক একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রূপালী আক্তারের বিরুদ্ধে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির বিষয়ে উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। গত ২২ জুলাই মুহাম্মদ আশরাফুল হককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন বর্তমান বিভাগের সভাপতি জেবউননেছাপন্থি। জানা যায়, বিভাগের শিক্ষক সায়েদুর রহমানের সঙ্গে বর্তমান বিভাগীয় সভাপতির তিক্ত সম্পর্ক থাকায় আশরাফুল হককে দিয়ে সায়েদুর রহমানের

বিরুদ্ধে গবেষণা প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ করান বিভাগীয় সভাপতি জেবউননেছা।

আশরাফুল হকের করা লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ছায়েদুর রহমান ও রূপালী আক্তারের যৌথভাবে লেখা 'এনভায়রনমেন্টাল গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন বাংলাদেশ : এ পলিসি রিভিউ' শীর্ষক গবেষণাপ্রবন্ধটি 'জাহাঙ্গীরনগর জার্নাল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাডিজ'-এর ৩ নম্বর সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত গবেষণাপ্রবন্ধটি টার্নিনিন সফওয়্যারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্রবন্ধের '৫৭ শতাংশ' লেখায় চৌর্যবৃত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব লেখায় 'হুবহু কপি', সাইটেশনের নিয়ম অমান্য করে কোটেশন ও প্যারাফ্রেস ব্যবহার না করার প্রমাণ মিলেছে।

অন্যদিকে, গত ৫ সেপ্টেম্বর লোকপ্রশাসন বিভাগের সভাপতি জেবউননেছা, সহযোগী অধ্যাপক হরেকৃষ্ণ কুণ্ড ও সহ-লেখকদের প্রকাশিত সাতটি প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ করেন একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর আরও নয়টি প্রবন্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ করেন তিনি। উপাচার্য বরাবর লিখিত এ অভিযোগে বলা হয়, প্রকাশিত এসব প্রবন্ধ টার্নিটিন সফটওয়্যার দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, যথাক্রমে ৩৫ থেকে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত চৌর্যবৃত্তির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ছায়েদুর রহমান বলেন, 'আমি যখন বিভাগের সভাপতি ছিলাম, তখন আশরাফুল হক অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন কাজ করতেন। সে সময় এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর যায়। ফলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অব্যাহতি পান। তার ধারণা, আমার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি গেছে। এ জন্য শত্রুতাবশত আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনেছে।'

বিভাগের অন্য শিক্ষকদের বিরুদ্ধে করা তার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির যে অভিযোগ আনা হলো, সেটি টার্নিনিন সফটওয়্যারের পরীক্ষার ভিত্তিতে। এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে যে কোনো গবেষণাপ্রবন্ধের 'নকল' ধরা পড়বে। কারণ, টার্নিনিন সফটওয়্যার রেফারেন্স দিলেও চৌর্যবৃত্তি হিসেবে ধরে। বিভাগের অন্য শিক্ষকরাও যে একইভাবে গবেষণাপ্রবন্ধ লেখেন সেটি প্রমাণ করার জন্য এসব অভিযোগ দিয়েছি।'

এ বিষয়ে বিভাগের বর্তমান সভাপতি জেবউননেছা বলেন, 'আমার সাবেক সহকর্মী আশরাফুল হক তার চাকরি চলে যাওয়ার পর আমার আরেক সহকর্মীর বিরুদ্ধে রাগের বশে অভিযোগ করেন। পরে নিজেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং অভিযোগ তুলে নিয়েছেন। বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে।'

এদিকে উভয়পক্ষের শিক্ষকারা উপাচার্যপন্থি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম তাদের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে। উপাচার্যপন্থি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এসব অভিযোগ নিয়ে সমঝোতা করে দিতে উপাচার্য তার বাসভবনে ছায়েদুর রহমান ও জেবউননেছাকে নিয়ে বসেছেন।

সমঝোতা চেষ্টার অভিযোগের ব্যাপারে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, 'হ্যাঁ, এটা সত্য যে, আমি দু'পক্ষকেই বুঝিয়েছি অল্পবিস্তর অভিযোগ থাকলে তোমরা অভিযোগ থেকে সরে আসো। আমাদের সবাইকে ডেকে বসে বা তোমরা নিজেরাই পরস্পর কথা বলে এটা সমাধান করো।' তারা অভিযোগ থেকে সরে এলে বা সমঝোতা করলে জালিয়াতি হয়নি এমনটা প্রমাণ হয় না, সে ক্ষেত্রে তাদের বিচার হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, 'আসলেই এ জন্য সময় প্রয়োজন। এটা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। তা দেখার জন্য কমিটি করে দিতে হবে। তখন তারাই দেখবেন এখানে জালিয়াতি আছে কি-না। যদি বড় কিছু থেকে থাকে তাহলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।

এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন - dainik shiksha এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন গুগল ম্যাপে টয়লেটের লোকেশনে আববার হত্যায় অভিযুক্তদের নাম - dainik shiksha গুগল ম্যাপে টয়লেটের লোকেশনে আববার হত্যায় অভিযুক্তদের নাম মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ - dainik shiksha মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? - dainik shiksha কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website