চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও আমাদের প্রস্তুতি - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও আমাদের প্রস্তুতি

প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেন |

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস্, জিনোম এডিটিং, জৈবপ্রযুক্তি, ব্লকচেইন প্রযুক্তি, থ্রিডি প্রিন্টিং, ইন্টারনেট অব থিংস্ (আইওটি), উন্নতমানের জিন-প্রযুক্তি, গ্রিন এনার্জি, মেশিন-লার্নিং ইন্টেলিজেন্স, বিগ ডাটা এনালাইসিস, বায়োটেকনোলজি, অটোমেশন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পূর্ণরূপে মানবসম্পদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে শিল্প ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অভূতপূর্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাই চতুর্থ শিল্পবিপ্লব নামে খ্যাত। পৃথিবীতে এ পর্যন্ত তিনটি শিল্পবিপ্লব মানুষের জীবনযাত্রার মান বদলে দিয়েছে। ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম শিল্পবিপ্লবটি হয়েছিল পানি ও বাষ্পীয় ইঞ্জিনের নানামুখী ব্যবহারের কৌশল আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। কয়লার খনি ও ইস্পাত-শিল্পের যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে শিল্পায়ন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, ফলশ্রুতিতে মানুষের জীবনযাত্রায় আসে বিচিত্র পরিবর্তন। ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে বিদ্যুৎ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লব।

বৈদ্যুতিক বাতি এনে দেয় এক নতুন আলোকিত বিশ্ব। শারীরিক শ্রমের দিন কমতে শুরু করলে শিল্প-উৎপাদনে আসে আমূল পরিবর্তন, পাল্টে যেতে থাকে জীবনের চালচিত্র। দ্বিতীয় শিল্পবিপ্লবের ঠিক ১০০ বছরের মাথায় ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে আবিষ্কৃত হয় ইন্টারনেট এবং শুরু হয় তথ্য-প্রযুক্তির সহজ ও দ্রুত বিনিময়, ফলে সারা বিশ্বের উন্নয়ন ও জীবনমান কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পারমাণবিক জ্বালানি, ইলেকট্রনিক্স, ট্রানজিস্ট্রর, কম্পিউটার, মাইক্রোপ্রসেসর, টেলিযোগাযোগ, জৈবপ্রযুক্তির উত্থান, উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অতিমাত্রায় স্বয়ংক্রিয়তা, কম্পিউটারের বহুমুখী ব্যবহার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিশ্বব্রহ্মাকে এনে দেয় মানুষের হাতের মুঠোয়, শুরু হয় তৃতীয় শিল্পবিপ্লব। বর্তমান শতাব্দীর এই সময়ে এসে ডিজিটাল বিপ্লব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সামগ্রিক ব্যবস্থা কতটুকু প্রস্তুত, সেটাই আজকের আলোচ্য বিষয়।

একবিংশ শতাব্দীতে এসে মেকানিক্যাল ও ইলেট্রিক্যাল জগৎ ছেড়ে যাত্রা শুরু হয় ভার্চুয়াল জগতের। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এ ভার্চুয়াল জগতেরই বিস্তৃৃত পরিসর, যা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবকে নিয়ে চলছে নানা ধরনের বিশ্লেষণ। আমরা চাই বা না চাই, এতদিন পর্যন্ত আমাদের জীবন-ধারা, কাজকর্ম, চিন্তা-চেতনা যেভাবে চলেছে সেটা বদলে যেতে শুরু করেছে। এখন আমরা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। পূর্ববর্তী শিল্পবিপ্লবের ভিত্তির ওপর শুরু হওয়া ডিজিটাল বিপ্লবের সবকিছুরই পরিবর্তন হচ্ছে গাণিতিক হারে। বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি খাতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে যার ফলে পাল্টে যাচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার কৌশল পর্যন্ত।

শিল্পবিপ্লবগুলো বদলে দিয়েছে বিশ্বের অর্থনীতির রূপরেখা এবং বর্তমান বিশ্ব টিকে আছে শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির ওপর। ডিজিটাল বিপ্লবের প্রভাবের চিত্রটি বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বর্তমানে এক দিনে বিশ্বে ২০ হাজার ৭০০ কোটি ই-মেইল পাঠানো হয়, ৪২০ কোটি বিষয় গুগলের মাধ্যমে খুঁজে নেয় মানুষ, যা এক দশক আগেও ছিল অকল্পনীয়। ডিজিটালাইজেশন আমাদের কাজের সব ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তন এনে দিয়েছে। আগামী দশকে আমরা এমন সব পরিবর্তনের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি, যা এর আগে ৫০ বছরেও সম্ভব হয়নি। আমরা একটি প্রযুক্তি-বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা পাল্টে দেবে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার চিরচেনা রূপ। 

আমাদের চারপাশের প্রতিষ্ঠানগুলো যখন নিজেদের মধ্যে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে, সেটাই হচ্ছে ইন্টারনেট অব থিংস্, যা ঘরের বাতি, সাউন্ড সিস্টেম, দরজাসহ অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করবে। যেমন- আপনাকে ফ্রিজ খুলতে হবে না, ফ্রিজ নিজেই ভিতরে কী আছে তা জেনে আপনাকে জানাবে বা নিজেই সরাসরি অনলাইনে অর্ডার দিয়ে কিনে ফেলতে পারবে। বাসার চুলাকে আপনি একবার শিখিয়ে দেবেন কখন কী খেতে পছন্দ করেন। ধরুন বৃষ্টির দিনে আপনার খিচুড়ি খেতে পছন্দ, আপনার চুলা সেটা মনে রাখবে এবং বাইরে বৃষ্টি পড়লেই সেদিন আপনার জন্য খিচুড়ি রান্না করে রাখবে। কেউ যদি নিয়মিত কোনো সুপারশপে যায়, পরেরবার তিনি ওখানে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বলে দিবে তিনি সাধারণত কত টাকার শপিং করেন, কোন কোন সামগ্রী কেনেন এবং সেসব পণ্যের বিশেষ ছাড় চলছে কি না! অথবা ডাক্তারের কাছে গেলে সব মেডিকেল হিস্ট্রি বলতে হবে না, পরিচয়পত্রে সেসব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। বাসার বাইরে একদমই না গিয়ে সারা বিশ্বের সব সুবিধা ভোগ করে জীবনযাপন করা যাবে।

তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের অবদান হচ্ছে অটোমেশন বা ডিজিটালাইজেশন। বর্তমানে রোবটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওয়ালটন কারখানায় ‘কম্প্রেসর অ্যাসেম্বলিং’, স্মার্ট ফ্রিজ আর স্মার্ট টিভি বানানো হচ্ছে। এসিআই ‘ফসলি’ নামে ডিজিটাল কৃষি-সেবা, ‘রূপালি’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘প্যাটার্ন অ্যানালাইসিস’ আর ‘আইওটি’ ব্যবহার করে মৎস্যচাষীদের দিচ্ছে অটোমাইজড পরামর্শ-সেবা। এপেক্স গ্রুপের টেক্সটাইল কারখানায় লেজার কাটিং প্রযুক্তিতেও চলে এসেছে অটোমাইজেশন। ‘বিকাশ' অনেকখানি বদলেদিয়েছে এ দেশের মোবাইল-ব্যাংকিং সিস্টেমকে। প্রান্তিক লোকজন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা ছাড়াই প্রতিদিন প্রায় হাজার কোটি টাকা লেনদেন করছে। রকেট, নগদ, আইপেও কাজ করছে এখন এই সেক্টরে।

আইসিডিডিআরবি টেলি-অফথালমোলজি প্রযুক্তি দিয়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ভিত্তিক ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি শনাক্তের একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি চালু  করেছে। সফলভাবে মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকানোর জন্য আইওটি ডিভাইসের মাধ্যমে স্মার্ট ট্র্যাকিং ব্যবহার করছে। অলীক, ইন্টেলিজেন্স মেশিন, এআই, ব্রেইনস্টেশনসহ আরও কিছু উদ্যোগ স্বল্প পরিসরে শুরু করছে আইওটি, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বিগডেটা অ্যানালাইসিস করে মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখছে। 
 
চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো ঢেলে সাজাতে হবে। শিল্প-কারখানায় কী ধরনের জ্ঞান ও দক্ষতা লাগবে, সে বিষয়ে আমাদের কারিকুলামে তেমন কোনো নির্দেশনা নেই। প্রাথমিক পাঠ্যক্রম থেকেই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সাশ্রয়ী মূল্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবস্থা এবং সরকারি অফিসের নথিপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে তৈরি করে সংরক্ষণ ও বিতরণ করতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের মানবসম্পদকেও যথাযথভাবে প্রস্তুত করতে হবে। তবে আশার কথা, অষ্টম প বার্ষিক পরিকল্পণায় সরকারের পক্ষ থেকে ‘ন্যাশনাল আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স স্ট্র্যাটেজি’ হাতে নিয়েছে।

ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তির কারণে কম্পিটারের হার্ডডিস্কের ওপর চাপ পড়বে না। যাবতীয় অপারেটিং সিস্টেমের কাজ চলে যাচ্ছে হার্ডডিস্কের বাইরে। কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ক্লাউড সার্ভার ডাউন হওয়ার সুযোগ নেই। ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের কাজগুলো যেকোনো স্থানে বসেই মোবাইলের মাধ্যমে কন্ট্রোল করা যায় এবং সফটওয়্যারগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি কথা শুনে চিনতে পারা, নতুন জিনিস শেখানো, পরিকল্পনা করা এবং সমস্যার সমাধান করার কাজগুলো করতে পারে। এই সুবিধাগুলোই যখন বিভিন্ন বস্তুতে যোগ করা হয় তখনই সেটা হয় আইওটি। এখন প্রায় সব স্মার্টফোনই গ্রাহকের অভ্যাস এবং প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়ে এআই ব্যবহার করে কাস্টোমাইজ করা হয়। এ পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে অনেকের পেশা হারিয়ে যেতে পারে বা সৃষ্টি হতে পারে নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র। স্বয়ংক্রিয়করণ প্রযুক্তির কারণে ২০৩০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ বিশ্বে ৮০ কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারে। স্বভাবতই আমাদের মতো শ্রমনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো বিপদে পড়বে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে অদক্ষ-অর্ধদক্ষ শ্রম-শক্তির ওপর। সময়ান্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে মানুষের দ্বারা সম্পন্ন অনেক কাজ রোবট ও যন্ত্রপাতি দিয়ে করা হবে। দেশের শিল্পখাতে, বিশেষত কিছু পোশাক কারখানায় রোবট-যন্ত্রপাতি তথা উচ্চমাত্রার স্বয়ংক্রিয়তা প্রবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে।

জাতীয় পর্যায়ে একটি কৌশলগত নির্দেশনার মাধ্যমে আগামীতে আমাদের করণীয় নির্ধারণ এবং উল্লিখিত শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। কারিগরি শিক্ষার ওপর অত্যধিক গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে গতি আনা গেলে অন্তত নতুন প্রজন্মকে একুশ শতক ও তৎপরবর্তী শ্রমবাজার-উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে কর্ম-শ্রত্যাশী মানুষদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষতা বাড়িয়ে বিদেশের শ্রমবাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এতে একদিকে দেশের বৈদেশিক আয় বাড়বে অন্যদিকে তাদের কর্মচ্যুতির আশঙ্কাও কমবে। 

প্রযুক্তিবিপ্লব সেবাখাতগুলোকে একদিকে মানুষের নাগালে নিয়ে আসবে, অন্যদিকে বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের সহজলভ্যতা সন্ত্রাসের ঝুঁকি বাড়াবে। নিরাপত্তা ঝুঁকির এ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবই যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করবে, সেই আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ ফাইবার অপটিকস্ লাইনে বিলিয়ন বিলিয়ন সংযোগ তৈরি হবে, ফলে অটোমেশনের কারণে চাকরির ঝুঁকি বাড়বে। কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি হ্রাস, উৎপাদন-শিল্পে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন, বিশেষায়িত পেশার চাহিদা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রযুক্তিগত সমস্যায় উৎপাদনে ব্যাঘাত, ইন্টারনেট ও অন্যান্য প্রযুক্তির মধ্যে অব্যাহত পরিবর্তন ইত্যাদি দেখা দিবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনমান উন্নত করবে, পণ্য সরবরাহ প্রক্রিয়াতে আসবে ব্যাপক পরিবর্তন। 

এক দেশ থেকে অন্য দেশে পণ্য পাঠানোর খরচ কমবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বিশ্বের অসম ও দারিদ্র্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছাবে, অনেক কাজ রোবট ও যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্পন্ন হবে, শ্রমবাজারে অদক্ষ শ্রমিকদের চাহিদা কমিয়ে দিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সমস্যায় ফেলবে, ডিজিটাল প্রযুক্তির আবিষ্কারক ও বিনিয়োগকারী দেশগুলো যতটা লাভবান হবে, অন্য দেশগুলো সেটা থেকে বিরত হবে। তাই আমাদের এখন থেকেই জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শিল্পগুলোর বিকাশ জোরদারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সার্বিক উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরো বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে।

এআই, আইওটি, বিগডাটা এনালাইসিস, ব্লকচেইন এসব প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে  ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, পণ্য সরবরাহ, চিকিৎসা, শিল্প-কারখানা, ব্যাংকিং, কৃষি, শিক্ষাসহ নানাক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হবে। সত্যিকার অর্থে এখনো আমরা তৃতীয় শিল্পবিপ্লবের সুফলই সবার কাছে পৌঁছাতে পারিনি। চতুর্থ বিপ্লব মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রস্তুতি ক্লাসে পিছিয়ে পড়া ছাত্রের মতোই।

বাংলাদেশ বিশ্বের আধুনিক সব তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরেও ই-গভর্নেন্স, সার্ভিস ডেলিভারি, পাবলিক পলিসি এ্যান্ড ইমপ্লিমেনটেশন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিকেন্দ্রীকরণ, নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও প্রশাসনিক নীতি কৌশল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের ক্লাউড সার্ভার, আইওটি, এআই ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী যে উন্নয়ন ঘটছে তা একটি কমন প্ল্যাটফর্মে আনতে হবে, যাতে প্রযুক্তি কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা কোম্পানির একক দখলদারিত্বে পরিণত না হয়। 

সরকারের দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে বাংলাদেশ আজ মোস্ট ইমার্জিং ইকোনমি অব দ্য ওয়ার্ল্ড। বাংলাদেশ এখন দুটি সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে সংযুক্ত, তৃতীয় সাবমেরিন কেবলের সঙ্গে কানেক্টিভিটির কাজ চলছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় যোগাযোগ মাধ্যম আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নিজস্ব স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। এতে প্রতি বছরে প্রায় ১৪ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হচ্ছে। স্বাধীনতার পর একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে গড়ে তোলা এবং পরবর্তী প্রজন্মকে ‘গ্লোবাল ভিলেজে’র সঙ্গে যুক্ত করার প্রত্যয় নিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ভিশন ২০২১, ২০৩০, ২০৪১ ঘোষণা করেছেন। শতবর্ষব্যাপী ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অত্যাধুনিক হাইটেক পার্ক নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বকে জানান দিচ্ছে যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশও প্রস্তুত। আমাদের হাইটেক পার্কগুলো হবে আগামীর সিলিকন ভ্যালি।

বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ, আইএমএফসহ সবার প্রতিবেদনেই লক্ষ্য করা গেছে আগামী বিশ্বের নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে প্রায় সকল ইউনিয়ন পরিষদকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রধান সেবাসমূহ বিশেষ করে ভূমি নামজারি, জন্ম নিবন্ধন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকুরিতে নিয়োগ, পরীক্ষার ফলাফল ইত্যাদি সেবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সহজ ও সাশ্রয়ী করে নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে আরও কর্মক্ষম, আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, আরও ন্যায়সঙ্গত, আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধতর বাংলাদেশ। বিশ্বের বহু দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন শক্তিশালী। মাথাপিছু আয় বেড়ে ১৯০৯ ডলারে পৌঁছেছে। কমেছে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের প্রকোপ, উন্নত হয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান।

শিক্ষা ও চিকিৎসায় অন্তর্ভুক্তি বেড়েছে, শিক্ষার হার ৭৪ভাগ, গড় আয়ু বেড়ে ৭৩ বছর হয়েছে। ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করব, ওই সময়ের মধ্যে আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। বাংলাদেশ এখন ডিমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট সুবিধা পেয়েছে। বর্তমান জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬০ ভাগই তরুণ-তরুণী। এই সুযোগ একটি জাতির জীবনে একবারই আসে। এই তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক, যুগোপযোগী শিক্ষায় দক্ষ করে গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। এ উপলব্ধি থেকে সরকারের আইসিটি বিভাগ দেশের তরুণ প্রজন্মের আত্মকর্মসংস্থান অবারিত করতে দেশব্যাপী লার্নিং-অ্যান্ড-আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পসহ বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। নারীরা যাতে পিছিয়ে না থাকে সেজন্য ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ কর্মসূচি এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে ফলপ্রসূ করতে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প নেই। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে। তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোর জন্য রোবটিকস্, বিগডাটা অ্যানালিটিকস কিংবা ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে। এজন্য দেশজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে ১২৯টির মতো বিশেষায়িত ল্যাব। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ে দক্ষ হতে হবে বিধায় তাদেরকে ইন্টার পার্সোনাল ও অ্যানালিটিক্যাল স্কিল বাড়াতে হবে। কারণ ওই সময়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই যথেষ্ট নয়। বাংলাদেশ আজ প্রযুক্তিখাতে বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছে। কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা, বিজ্ঞানচর্চা এবং  তথ্য ও প্রযুক্তিশিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যে বায়ো-টেকনোলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপলায়িড সায়েন্স এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।  যে কারণে বাংলাদেশ খাদ্য-উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশ, মৎস-উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ, সবজি-উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাংসসহ অন্যান্য উৎপাদনেও এগিয়ে যাচ্ছে, এ উন্নয়নগুলো সবই বিজ্ঞান ও গবেষণার অবদান।

ডিজিটাল বাংলাদেশকে টেকসই করতে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং উচ্চতর প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ন্যানোটেকনোলজি, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি, ইন্সট্রাকশনাল টেকনোলজি, রোবোটিকস্, ক্লাউড কম্পিউটিং, আইটি, ভিএলএস আই, হার্ডওয়ার নেভিগেশন, ই-কমার্স, গ্রিন টেকনোলজি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজমেন্ট, আইটি ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান, গবেষণা ও জ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ফোরজি ইন্টারনেট প্রযুক্তি, যা যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এআই, রোবটিকস্ প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও উদ্ভাবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করতে হবে। এজন্য জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সরকারের আইসিটি ইন এডুকেশন মাস্টার প্ল্যান ও ই-লার্নিং কার্যক্রমের আওতায় ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। ঘরে থাকা শিক্ষিত নারীদেরকেও ব্যাপক হারে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করা জরুরি। কারণ মায়েরাই তাঁদের সন্তানদের একুশ শতকের মানবসম্পদে পরিনত করতে পারবেন, যা নারীর ক্ষমতায়নকে আরও জোরালো করবে।

প্রতিটি বিপ্লবের সাথেই এসেছে নতুন নতুন প্রযুক্তি। আর প্রযুক্তির সাথে গণমাধ্যমের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ যোগাযোগ প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তথ্য গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে গণমাধ্যম। কোনো ব্যক্তি কোনো সংবাদ পড়ার বা দেখার বা শোনার পর ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমু বা ভাইবারের মাধ্যমে তা সহজেই ছড়িয়ে দিতে পারছেন। এতে তৈরি হচ্ছে মতামত, মতদ্বৈততা, বিতর্ক। তাই গণমাধ্যমকে মূল ধারার মাধ্যম হিসেবে টিকে থাকতে গ্রহণ করতে হচ্ছে নতুন নতুন কর্মপদ্ধতি এবং প্রচারে আনতে হচ্ছে পরিবর্তন। দর্শক, শ্রোতা বা পাঠকের মানস-জগৎ অনুযায়ী বার্তা দিতে পারলেই গণমাধ্যম গণমানুষের গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

প্রতিটি শিল্পবিপ্লবই অতীত সময়ের তুলনায় ‘নজিরবিহীন’ উদ্ভাবন উপহার দিয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ফলাফলকে অনুকূলে নিয়ে আসতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সব রকম প্রস্তুতি শুরু করেছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সামাজিক খাতগুলো এরই মধ্যে নতুন অ্যাপ্রোচ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সুফলের সম্ভাবনা দেখতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে এ বিপ্লবের ফসল হিসেবে এসে গেছে মানবদেহে অঙ্গস্থাপন প্রযুক্তি, চশমায় মনিটর, থ্রিডি প্রিন্টিং, পরিধেয় ইন্টারনেট, আইওটি, বিগ ডাটা, ড্রাইভারবিহীন গাড়ি ও বিট কয়েন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে পরিবর্তন আসছে জ্যামিতিক হারে। টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান তৈরি ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের ছোঁয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-উৎপাদন ও যেকোনো ব্যবস্থাপনাকে মানুষ সব সময়ই একটা ক্রমাগত রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ মূলত কৃষিশ্রমিক, তৈরি পোশাক শিল্পশ্রমিক ও প্রবাসী শ্রমিক-এই তিন ধরনের স্বল্প দক্ষ মানবসম্পদ দ্বারা চালিত অর্থনীতির দেশ। আমাদের অবকাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, বৈদেশিক শ্রমবাজার ও সার্বিক কর্মসংস্থান- চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের অটোমেশনে পড়ে কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, এই উপলব্ধিগুলোই আজকের আলোচ্য বিষয়। আমাদের অদক্ষ, স্বল্পদক্ষ শ্রমবাজারকে রূপান্তরিত করে যুগোপযোগী ও কারিগরিভাবে দক্ষ করা, বর্তমানের অর্জনগুলোর  চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নির্ণয়, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের নতুন কর্মসংস্থান আবিষ্কার, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল তৈরি, অবকাঠামো তৈরির চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং কর্মসংস্থানমুখী টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা অতীব জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে এদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বুনিয়াদ শক্ত করে তুলবে ফলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রশাসনিক অবকাঠামো গতিশীল হবে ও দুর্নীতি কমে আসবে। এ বিষয়ে সম্মানিত পাঠকগণ আপনাদের অভিব্যক্তি জানাবেন আশা করি। 

লেখক : প্রফেসর ড. মো. লোকমান হোসেন, পরিচালক, নায়েম, ঢাকা।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ বেড়ে ১৪ নভেম্বর - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির মেয়াদ বেড়ে ১৪ নভেম্বর হাজী সেলিমের দখলে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো উদ্ধারের তাগিদ - dainik shiksha হাজী সেলিমের দখলে থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো উদ্ধারের তাগিদ আলিমের বাংলা ১ম পত্রের পরিমার্জিত সিলেবাস - dainik shiksha আলিমের বাংলা ১ম পত্রের পরিমার্জিত সিলেবাস দশ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন ভবন পাচ্ছে - dainik shiksha দশ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নতুন ভবন পাচ্ছে লক্ষাধিক শিক্ষকের অবৈধ সনদের বৈধতা দিলেন বিদায়ী প্রাথমিক সচিব - dainik shiksha লক্ষাধিক শিক্ষকের অবৈধ সনদের বৈধতা দিলেন বিদায়ী প্রাথমিক সচিব এমপিওবঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মতামত নেবে এনটিআরসিএ - dainik shiksha এমপিওবঞ্চিত প্রার্থীদের সুপারিশের আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মতামত নেবে এনটিআরসিএ প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের আবেদন করবেন যেভাবে নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি : প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষার পক্ষে - dainik shiksha নতুন শিক্ষাবর্ষে স্কুলে ভর্তি : প্রধান শিক্ষকরা পরীক্ষার পক্ষে please click here to view dainikshiksha website