চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা - মতামত - Dainikshiksha

চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা

ড. সুলতান মাহমুদ রানা |

গত ২৭ জুন সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে দ্রুত এই সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়স ৩০ বছর। ২০১১ সালে সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর পর প্রবেশের বয়সও বাড়ানোর দাবি ওঠে চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। 

সংসদীয় কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ ও অবসরের বয়সসীমা বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কিছু যুক্তিকে বিবেচনায় নিয়েছে। কমিটির সদস্যরা বলেন, উন্নত দেশগুলো তাদের জনগণকে মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো সীমারেখা নির্দিষ্ট করেনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৪০ বছর, শ্রীলংকায় ৪৫ বছর, ইন্দোনেশিয়ায় ৩৫ বছর, ইতালিতে ৩৫ বছর, ফ্রান্সে ৪০ বছর। এমন একটি জোরালো যুক্তিতে হলেও বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ থেকে ৩৫ করার যৌক্তিকতা রয়েছে বলে কমিটির সদস্যরা মনে করেন।

বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের তুলনায় বেকারের সংখ্যা অনেক বেশি। কর্মসংস্থানে সুযোগ সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। প্রতিবছর হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভ করে চাকরির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত হন। খুব কম সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা লাভের পরপরই কর্মস্থলে প্রবেশ করতে পারেন। নানাবিধ কারণে বেশিরভাগই সহসা সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকৃত চাকরিপ্রত্যাশী সর্বোচ্চ বয়সসীমা অতিক্রম করায় একটি কিংবা সর্বোচ্চ দুটি বিসিএস পরীক্ষার বেশি অংশগ্রহণ করতে পারেন না। অন্যান্য সরকারি চাকরির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা ৩০ বছর হওয়ায় উপযুক্ত কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী। এমনকি বেশিরভাগ বহুজাতিক কোম্পানি ও করপোরেট অফিসগুলোতেও এখন প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩০ বছর। 

গড় আয়ু যখন ৪৫ ছিল, তখন চাকরিতে প্রবেশের বয়স ছিল ২৭; যখন ৫০ ছাড়াল, তখন প্রবেশের বয়স ৩০ হলো। দেশের মানুষের গড় আয়ুস্কাল বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার ২০১১ সালের ২৬ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছরে উন্নীত করে। মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে ৬০ বছর এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৫ বছর করা হয়। এছাড়াও বিচারপতিদের ৬৫ থেকে ৬৭ বছর এবং বৈজ্ঞানিকদের ৫৯ থেকে ৬৭ বছর করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা আগের মতো রয়ে গেছে। বয়সসীমা অবসরের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি হলেও প্রবেশের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পায়নি। 

বর্তমানে গড় আয়ু ৭১ বছরের বেশি হওয়া সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানো হচ্ছে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, প্রতিবন্ধী কোটা ও উপজাতীয় প্রার্থীর চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি জুডিসিয়াল এবং ডাক্তার ৩২ বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন। নার্স ৩৬ এবং বিভাগীয় প্রার্থীরা ৪০ বছর পর্যন্ত চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন।

যেহেতু অষ্টম পে স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরির বয়স ৫ বছর এবং তদূর্ধ্বদের নির্ধারিত হারে পেনশন সুবিধা পাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফলে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের প্রবণতাও কিছুটা বাড়বে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে এবং বেকারত্ব কমবে। কাজেই যেসব যুক্তিতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ এবং অবসরের বয়সসীমা ৬৫ করার সুপারিশ করেছে, সেগুলো আমলে নিয়ে দ্রুত কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দেশের বেকারদের একটি বড় অংশের মনে হাসি ফোটানো যেতে পারে।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সূত্র: সমকাল

ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় ঠেকাতে ১০ কমিটি - dainik shiksha ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় ঠেকাতে ১০ কমিটি এমপিওভুক্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের ১১২৪ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন স্কুল-কলেজের ১১২৪ শিক্ষক নভেম্বরের এমপিওতেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওতেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ - dainik shiksha মিলাদুন্নবী উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ওয়াজ মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর - dainik shiksha ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধের নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ট্রাফিক সার্কুলেশন প্ল্যান তৈরির নির্দেশ এমপিওভুক্ত হচ্ছেন মাদরাসার ২০৭ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন মাদরাসার ২০৭ শিক্ষক বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ ২৮৮ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত - dainik shiksha ২৮৮ তৃতীয় শিক্ষককে এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website