জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় - মতামত - দৈনিকশিক্ষা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

‘মর্মান্তিক ও বেদনাহত’ একটি দিন জাতির জন্য। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেয়ার কথা ছিল। দুর্ভাগ্য বাঙালী জাতির, ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্তরা সে সুযোগ জাতির পিতাকে দিতে দেয়নি। তার আগেই নৃশংসভাবে ধরাধাম থেকে তাঁর সমগ্র পরিবার ও আত্মীয়স্বজনকে বিদায় নিতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য আবদুল মতিন চৌধুরী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রস্তুত করেছিলেন। কষ্ট লাগে- যারা মাঝে বিশ্বাসঘাতকতা করে আওয়ামী লীগ কিংবা বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য থাকা সত্ত্বেও বিএনপি-জামায়াতীদের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলেছিল, তারা এখন আবার ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য প্রশংসার ফল্গুধারায় ভাসাচ্ছেন। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) জনকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত উপসম্পাদকীয়তে এ তথ্য জানা। 

উপসম্পাদকীয়তে আরও জানা যায়, একটা কথা বলা হয় : ‘ওয়ানস এ ট্রেইটর, অলওয়েজ এ ট্রেইটর।’ বঙ্গবন্ধুর বন্দনা ১৪ আগস্ট, ১৯৭৫ পর্যন্ত যারা করেছে, ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫-এর মর্মান্তিক ঘটনার পর ক’জন প্রতিবাদ করেছে। আজ অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, বিশ্বাসঘাতকরা বড় বড় পদ ধারণ করে আছে। তারা অনেক ক্ষেত্রেই বন্দনায় বেশি সময়ক্ষেপণ করেছেন। তাতে তাদের মনে শুভ-অশুভের দ্বন্দ্ব ক্রমান্বয়ে জোরদার হচ্ছে। এ জন্যই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলতে বাধ্য হয়েছেন যে, যারা তাদের বাসায় মায়ের হাতের রান্না খাবার গ্রহণ করেছেন, তারাও এ বর্বরতম হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। মফস্বলে থেকেও যে আগুনের ছোঁয়ায় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকা-ের পর আমার মরহুম বাবা মোবাশ্বের আলী আমার হৃদয় জ্বালিয়েছিলেন, জানি না ঢাকায় থেকে ক’জন প্রতিবাদ করেছিল। ইংরেজী প্রবাদটি আমার হৃদয়ে গেঁথে দিয়েছিলেন আমার পিতা : ‘সামওয়ান উইল ওয়ার্ক, বাট এনাদার উইল গেট দি বেনিফিট।’ অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় অনেকেই ভোল পাল্টিয়ে বর্তমানে সুখের সাগরে আছে। ব্যক্তিগতভাবে প্রায় বত্রিশ বছর ধরে ব্যবহারিক অর্থনীতি চর্চা ও শিক্ষকতা করলেও এখন অনেক কিছু মনে হয়- যা হয়ত বর্তমান সরকারের পক্ষে যায় না। যারা বিভিন্ন সরকারের সময়ে মধু খেয়েছে, তারা এখন পেঁয়াজের খোসার মতো একত্রিত হচ্ছে। এতে সরকার প্রধানের উন্নয়নের গতি বাড়াতে তারা কোন প্রভাব রাখছে কিনা, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমি গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি ভোল পাল্টানোদের অনেকেই উচ্চ পর্যায়ে বর্তমান সরকারের আশীর্বাদ নিয়ে অধিষ্ঠান করলেও তলে তলে আগের বিশ্বাস ও চেতনায় এখনও অঙ্গীকারাবদ্ধ আছে। এদের ব্যাপারে সচেতন হওয়া বাঞ্ছনীয়।

শ্রদ্ধাঞ্জলির পর্ব শুরু হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম দিয়ে। শুরুতে বলা হয়েছে, ‘জাতির জনক, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাহেবের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুভাগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’। যখন কুচক্রী ডালিম-হুদা-রশিদসহ অন্যরা ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট তারস্বরে রেডিওতে মহানায়ককে হত্যার পর অবলীলায় আত্মস্বীকৃত খুনী হচ্ছিল, তখন সংবর্ধনা কমিটির সঙ্গে জড়িত ক’জন প্রতিবাদ করেছিলেন? একটি বিয়োগান্তক অধ্যায়ের সূচনা সেদিন বাঙালীদের জীবনে ঘটে গিয়েছিল। অথচ সেটি কি সেদিন তারা প্রতিবাদের আকারে করতে পেরেছিলেন?

উক্ত শ্রদ্ধাঞ্জলির প্রথম স্তবকে লিখিত ছিল : ‘মাননীয় চ্যান্সেলর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় চ্যান্সেলর হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আপনার এই প্রথম শুভাগমনে আমরা আনন্দিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ বছরে আপনিই প্রথম চ্যান্সেলর যিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে এসেছেন, সে জন্য আমরা বিশেষভাবে গৌরাবান্বিত। আপনাকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান ঐতিহ্য, ছাত্র গণসংগ্রামে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান আপনার জানা আছে। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ অন্য সব সংগ্রামে যেসব শিক্ষক, কর্মচারী ও ছাত্র আত্মাহুতি দিয়েছেন, আজকের এই মহতী অনুষ্ঠানে তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আপনার পূর্বাপর কৃপা দৃষ্টির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ স্তবকটির প্রতিটি শব্দ সত্য। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। ১৯৪৮ সাল থেকে যে ভাষার আন্দোলন শুরু হয়, স্বাধিকার আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা, স্বাধীনতা সংগ্রাম সর্বক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোসহীনভাবে লড়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিটি প্রজন্মের ছাত্র সমাজ আন্দোলন করেছে। যুগে যুগে বিভিন্ন পর্যায়ে দেশের মানুষের মনে বোধোদয়ের সূচনা করেছে। অগ্নিস্ফুলিঙ্গকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তারা বঙ্গবন্ধুকে কাছ থেকে দেখেছেন বলেইÑ ত্যাগী আদর্শে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার মডেল অনুসারে জুনিয়র ও মিড লেভেলে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশকে মুক্ত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। কেন জানি মনে হয়, একটি কায়েমি গোষ্ঠী শিক্ষকদের মান-মর্যাদায় কালিমা লেপনে সুচতুরভাবে ব্যস্ত। মুষ্টিমেয় অন্যায়কারী এবং বিভ্রান্তকারীর জন্য সমগ্র শিক্ষক সমাজ খারাপ হতে পারেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহ্য আছে, তা ধরে রাখার দায়ও কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল কর্মকান্ডে নেতৃত্বে দিয়ে আসছে। তবে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সময়ে কেবল একটি প্রোগ্রামে মাস্টার্স করলে চলে না, বরং একাধিক মাস্টার্সের প্রয়োজন হয়। সে বিবেচনায় কিন্তু একাধিক মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ দেয়া বাঞ্ছনীয়। এ বাঞ্ছনীয় কাজটির জন্য অনেকেই পাস করতে করতে বিভিন্ন ডিগ্রী করে থাকে। ১৯৮৬ সালে আমাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করার পরও আরও চারটি মাস্টার্স করতে হয়েছে। আসলে মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একাধিক মাস্টার্সের প্রয়োজন কর্পোরেট বডিতে হয়। এখন মূল পাঠদান ঠিক রেখে একাধিক মাস্টার্স বন্ধ করে দিলে মনে হয় বাইরে থেকে লোকবল আনতে চাইবে কর্পোরেট হাউসগুলো। আসলে শিক্ষা অবশ্যই ব্যবসা নয়। কিন্তু সান্ধ্যকালীন শিক্ষায় যে কিছু মানুষ হলেও মান উন্নত হচ্ছে- সেটি কি অস্বীকার করা যায়? আমাদের শিক্ষাকে জনকল্যাণমুখী করতে হবে। আমাদের তো মনে হয়, স্নাতক পর্যায়ে এ কোর্সগুলো বাধ্যতামূলক করা উচিত : বাংলাদেশের জন্মকথা; রোবোটিক্স, আইসিটি ও ইলেক্ট্রনিক ব্যাংকিং, ইন্টারনেট অব থিংকিং, ডিজিটাল ইকোনমি এবং উদ্যোক্তা অর্থনীতি। ইংরেজী হোক, বাংলা হোক, বিবিএ হোক কিংবা গণিত হোক উপরোক্ত কোর্সগুলো স্ব-স্ব কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্কভাবে পাঠ্যক্রম তৈরি করতে হবে। আসলে সমস্যা হচ্ছে দু’-একজনের জন্য ভাল কর্মকা-কে অন্যরা কলঙ্কিত করতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু তার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, স্বতন্ত্রতা নিয়ে স্বমহিমায় উজ্জ্বল। দু-একজনের জন্য কেন দোষের ভাগিদার হবে? আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য স্বমহিমায় উজ্জ্বল। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কেউ যদি রাঙ্গামাটি, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা করে তাহলে কি চলবে? বরং স্বাতন্ত্র্য নিয়ে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। অবশ্যই যারা ভুল করবে, অন্যায় করবে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।


ওই মানপত্রের দ্বিতীয় স্তবকে ছিল ‘মাননীয় চ্যান্সেলর আজ আপনার আহ্বানে সমস্ত দেশে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিপ্লবের শুভ কর্ম উদ্দীপনা। এই যুগান্তকারী দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচী গ্রহণের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম বিপ্লবের মতো, এবারও আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে দ্বিতীয় বিপ্লবের সকল কর্মসূচীকে সফল ও সার্থক করে তুলবে।’ দুর্ভাগ্যজনক যে, দ্বিতীয় বিপ্লবের ওপর তেমন গবেষণা কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়নি। ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন স্যারের দ্বিতীয় বিপ্লবের ওপর একটি তাৎপর্যম-িত লেখা আমাদের চোখে দেরিতে হলেও পড়েছে, যেটি একটি অনবদ্য বিশ্লেষণ। স্যারের লেখাটি আগে দেখলে বাকশালের ওপর লেখাটিতে আরও চিন্তা-ভাবনার যোগসূত্র স্থাপন করতে পারতাম।

পরবর্তী স্তবকে উল্লেখ ছিল : ‘...স্বাধীনতার আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ছাত্রছাত্রী ছিল। স্বাধীনতার পর শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৫ হাজার।’ আজ সেখানে চল্লিশ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাওয়া উচিত। যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিদেশের মতো তাদেরও এ্যালমা মেটারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা দরকার। স্মরণ করছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য স্যার পি জে হার্টোগের বক্তব্য, যা তিনি দ্বিতীয় সমাবর্তনে উল্লেখ করছিলেন যে, কোন মানুষ প্রাথমিক বিষয়ে উচ্চমানের শিক্ষক হতে পারেন যদিও তিনি কোন নতুন জ্ঞানের সংযোগ ঘটাতে অক্ষম হন। কিন্তু উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রে সমালোচনামূলক শিক্ষার সঙ্গে কল্পনা শক্তির বিকাশ ঘটাতে না পারলে কেউ ভাল শিক্ষক হতে পারেন না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় তখনই সত্যিকার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হতে পারে যখন শিক্ষকরা জ্ঞানের প্রসারমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাস্তবের সঙ্গে মিশেল ঘটাতে পারঙ্গম হতে পারে বলে হার্টোগে বলেছিলেন। আজ ২০২০ সালে দাঁড়িয়ে তাঁর বক্তব্যকেই সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। দেশ স্বাধীন হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে স্বাতন্ত্র্যবোধ, চিন্তা-চেতনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও সেরা। আন্তর্জাতিক পরিম-লে অবশ্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসমূহ সরবরাহ করা দরকার- যাতে র‌্যাংকিং বৃদ্ধি পায়।

চতুর্থ স্তবকে বলা হয়েছিল, ‘...বাংলাদেশের ভবিষ্যত কি হবে, এদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা কিভাবে গড়ে উঠবে তা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বহুলাংশে নির্ণীত হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই।’ যথার্থ বক্তব্য ছিল। কেননা, এখনও দেশ পরিচালনার সঙ্গে সংযুক্ত সত্তর ভাগই কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে এমফিল করতে গিয়ে সুশীল স্যার, শামসুদ্দীন স্যার, মনোয়ার স্যার, ফরিদ স্যার, জহুরুল স্যার, আশরাফ স্যার, মমতাজ স্যার, নাজমা ম্যাডামের যে স্নেহ পেয়েছি, তা ব্যক্তিগত জীবনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পালন করে যাচ্ছে। যদিও স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন কিছু রাজাকার শিক্ষক ছিল আবার নব্য রাজাকারের কেউ কেউ এখান থেকেও উত্থিত হয়। ভাল-মন্দের মিশেলেই সমাজ ব্যবস্থা। এই সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে।

পঞ্চম স্তবকে বলা হয়েছিল, ‘... দ্বিতীয় বিপ্লব সার্থক হোক সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে এই কামনা করি। কারণ, এর কোন বিকল্প নেই। দ্বিতীয় বিপ্লব বাংলাদেশের শোষিত জনগণের মুক্তির পথ।’ অথচ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর প্রায় অনুচ্চারিত থেকে গেছে দ্বিতীয় বিপ্লবের কথা। কি পটভূমিতে, কেন সাধারণ ভাগ্যহত মানুষের ভাগ্য ফেরানোর সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন, সে বিষয়ে অন্তত একটি মৌলিক গবেষণা হতে পারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বৈশ্বিক পটভূমিতে অর্থনীতির আচার-আচরণে পরিবর্তন এসেছে। ধীরে ধীরে আচরণগত অর্থনীতিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মূলধারার অর্থনীতির বদলে মানুষের আচার-আচরণের ওপর নির্ভর করে বলে আচরণগত অর্থনীতির জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। বস্তুত আচরণগত অর্থনীতি ব্যক্তি এবং সংস্থার অর্থনৈতিক কর্মকা-, সিদ্ধান্তের ওপর মনস্তাত্ত্বি¡ক, জ্ঞানীয় সংবেদনশীল, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কারণগুলোর প্রভাব ও প্রায়োগিক কৌশল ও অযৌক্তিক বাধা দূর করার পথনির্দেশ করে থাকে। সরকার বর্তমানে দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে কাজ করছে। জ্ঞানের সাধনা ও বিকাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্য গতিময়তা ও গবেষণা জনকল্যাণের পথে আরও যুক্তিযুক্ত হোক। বঙ্গবন্ধু সেদিন যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতেন, তবে যারা মিথ্যা গুজবে সে সময়ে দেশ ভরিয়ে দিচ্ছিল, যারা চক্রান্ত করছিল, দ্বিতীয় বিপ্লবকে নিয়ে মানুষের মাঝে অযথা ভয় ঢুকিয়ে দিচ্ছিল, যারা চাটুকারিতা করছিল, অন্যদিকে খাল কেটে কুমির আনছিল-তাদের পক্ষে হঠকারী ও বর্বরতম নৃশংসতা ঘটানো সম্ভব হতো না কিছুতেই। সে অবস্থায় বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য গিরিগিটির মতো রং পাল্টানোদের হাত থেকে সাবধান থাকা দরকার।

 

লেখক : ড. মুহম্মদ মাহবুব আলী, ম্যাক্রোঁ ও ফিন্যান্সিয়াল ইকোনমিস্ট

জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের - dainik shiksha জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি - dainik shiksha জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website