জাতীয়করণের গেজেটভুক্ত আড়াই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই - স্কুল - Dainikshiksha

জাতীয়করণের গেজেটভুক্ত আড়াই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি |

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উত্তর চর মনোহর বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তৃতীয় ধাপে জাতীয়করণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের নামে অদৌ কোনো জমির অস্তিত্ব নেই। যদিও জাতীয়করণের অন্যতম শর্ত হচ্ছে- প্রতিষ্ঠানের নামে ন্যুনতম ৩৩ শতাংশ জমি থাকতে হবে। দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে বিদ্যালয় জাতীয়করণের সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি নজরে আসার পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধ থেকে বিরত আছেন এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা চেয়ে চিঠি লিখেছেন।

একই উপজেলার চর আইচা ৯নং ওয়ার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য কর্মরত শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেছেন। রিট পিটিশনের জবাব দিতে গিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের নথিপত্র কিংবা বাস্তবে এই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্বই খুঁজে পাচ্ছে না উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন। উপজেলা শিক্ষা অফিসের নথিপত্র ও বাস্তবে অস্তিত্বহীন এমন ১২৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৫৮টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা নিয়ে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসন বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। দেশব্যাপী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর এবতেদায়ি মাদরাসা ও জাতীয়করণ করা হবে- এমন আওয়াজ তুলে কাগজে-কলমে স্কুল-মাদরাসা তৈরি করে একশ্রেণির দালাল চক্র বেকার তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে উপজেলা শিক্ষা অফিস পর্যন্ত স্তরে স্তরে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হাত ধরেই নতুন নতুন স্কুল-মাদরাসা গড়ে তোলার মধ্যদিয়ে দুর্নীতি অনিয়মের এমন জাল বিস্তৃত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

জানা গেছে, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশব্যাপী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণার আওতায় তিন ধাপে চরফ্যাশন উপজেলার ১৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এখানে পুরনো জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল ৭১টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ ঘোষণার পরপর এখানে হু-হু করে কাগজে-কলমে নতুন নতুন বিদ্যালয়ের জন্ম হতে শুরু করে। নতুন নতুন বিদ্যালয় জন্মের সুযোগ নিয়ে উপজেলার ১২৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনও জাতীয়করণের দৌড়ে শামিল আছে। এতে চলতি বছরই জন্ম হয়েছে কমপক্ষে ২৬টি স্কুল। যেগুলো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ডিআরভুক্তির জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের নামে ডিআর জমাও দিয়েছে। যদিও এসব প্রতিষ্ঠান বাস্তবে অস্তিত্বহীন এবং কাগজ-কলমে বিদ্যমান বলে অভিযোগ আছে। 

চরফ্যাশন উপজেলা শিক্ষা অফিসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষার ডিআর তৈরি করার কাজ শুরু করলে নতুন করে ২৬টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার অস্তিত্ব প্রকাশ্যে আসে। বাস্তবে কিংবা অফিসিয়াল নথিপত্রে কোনো অস্তিত্ব না থাকলেও একটি বিশেষ চক্র এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে ডিআর তৈরিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে দেশব্যাপী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরপর চরফ্যাশনে হঠাৎ করে ৯৮টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯৭টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাসহ মোট ১৯৫টি প্রতিষ্ঠান বাস্তবে না থাকলেও কাগজে-কলমে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেয়। নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রশাসনের দুর্নীতিপরায়ণ একটি চক্র মোটা অঙ্কের উপরির বিনিময়ে ভুয়া-ভুতুড়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে নিজ নিজ নামে ডিআরভুক্তির সুযোগ দিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। 

অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র হালদার জানান, নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান গড়ার সুযোগ নেই। নতুন প্রতিষ্ঠানের নিজ নামে ডিআরভুক্তিরও কোনো সুযোগ নেই। নতুন প্রতিষ্ঠানের নামে ডিআরভুক্তির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে উপজেলা শিক্ষা অফিসগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তারপরও নতুন প্রতিষ্ঠানের ডিআরভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায়-দায়িত্ব উপজেলা শিক্ষা অফিসের দায়িত্বশীলদের নিতে হবে। কারণ ডিআরভুক্তির কাজটি শুধু উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকেই হয়ে থাকে।

 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তৃষিত কুমার চৌধুরী জানান, চরফ্যাশন উপজেলায় স্কুল-মাদরাসা মিলিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আড়াইশ'র বেশি হবে। এ সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয়ের অনেক কারণ আছে। বিগত বছরে এসবের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ নামে ডিআরভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তিনি সম্প্রতি এখানে যোগদান করার পর এসব ভুলত্রুটি চোখে পড়েছে। বিদ্যমান আইনকে উপেক্ষা করে কীভাবে এমন অসম্ভব কাজটা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এসব ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে বের হয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে।

 

নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ - dainik shiksha নতুন স্কেলে কল্যাণের টাকা পেতে আবার আবেদন, শিক্ষকদের ক্ষোভ তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস মূল্যায়নে কমিটি গঠন - dainik shiksha তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস মূল্যায়নে কমিটি গঠন ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না - dainik shiksha ঘুষ লেনদেন ছাড়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি হয় না দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে - dainik shiksha দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও পেতে পারে সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য - dainik shiksha সাড়ে তিন লাখ সরকারি পদ শূন্য প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই - dainik shiksha প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী মাসেই সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি - dainik shiksha সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে - dainik shiksha একাদশে ভর্তির আবেদন ১২ মে থেকে ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০১৯ খ্র্রিস্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website