ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা - স্কুল - Dainikshiksha

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি |

অন্ধকার, স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ। মেঝেতে উঁচু-নিচু গর্ত, ছাদের প্লাষ্টার খসে রড বের হয়ে মরিচা পড়ে সরু হয়ে গেছে। জানালা-দরজা ভাঙা। পিলার ও  দেওয়ালে বড় বড় ফাটল, বৃষ্টি হলে ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ে। এহেন পরিত্যক্ত একটি স্কুলভবনে এখনও চলছে পাঠদান, স্কুলের নতুন ভবন থাকলেও তাতে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এক এক রুমে দুটি করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। এমনই দুরবস্থার চিত্র দেখা গেল মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ৩৫ নং গুয়াখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে।

১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির ৪ কক্ষ বিশিষ্ট ভবনটি কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছেন প্রায় ১০ বছর আগে। মূল ভবনের পাশে দুই কক্ষের একটি ভবন তৈরি হয়েছে প্রায় ৫ বছর আগে। কিন্তু বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের দুটি কক্ষে ৬টি ক্লাসের ২৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর স্থান সংকুলান  কোনোভাবেই সম্ভব হয় না। তাই শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে স্কুলের পুরনো পরিত্যক্ত ভবনটিতেই এখনও ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়েরই জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিভিন্ন সময়ে পরিত্যক্ত ভবনের ছাদের প্লাষ্টার খসে পড়ে এ পর্যন্ত ১২ জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে। বর্তমানে ভয়ে অনেক ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।

আবার বৃষ্টির সময় ছাদ চুঁয়ে পানি পড়ার কারণে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। তখন ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। অধিকাংশ সময় দুই কক্ষ বিশিষ্ট নতুন ভবনটিতে একরুমের ভেতর দুই ক্লাস নেওয়া হয়। ৪২ জন ছাত্র-ছাত্রীর ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এক একটি রুমে দুই ক্লাসের ৯০ থেকে ১০০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে বসে। এরকম পরিবেশে তাদেরকে ভালোভাবে পাঠদান করতে পারেন না শিক্ষকরা।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আতিকুল ইসলাম জানান, এতজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে ক্লাস করায় কোলাহলই হয় বেশি, তখন তাদের ভালোভাবে পড়ানোই মুশকিল হয়ে যায়। বিদ্যালয়টির পড়াশুনার মান আগে ভালো থাকলেও বর্তমানে ভবন সমস্যার কারণে ফলাফল খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে জানালেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সামসুজ্জামান পনির। তিনি আরো জানান, বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের জন্য প্রায় ৭/৮ বছর যাবত্ যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন জানিয়ে আসছি। ভবনের দুরবস্থার চিত্র বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তে এসেও এর সত্যতা পেয়েছেন। তারপরও রহস্যজনক কারণে নতুন ভবন হচ্ছে না।

অথচ উপজেলার অনেক বিদ্যালয় আছে যেখানে এই বিদ্যালয়ের চেয়ে ছাত্র-ছাত্রী কম এবং ভবনের প্রয়োজন নেই সেখানেও নতুন নতুন ভবন তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমানুল্লাহ মাষ্টার জানান, শুধু ছাত্র-ছাত্রীই নয়, ৭ জন শিক্ষকের বসার ও অফিসের কাজকর্মের জন্যও কোনো রুম নেই।

এ ব্যাপারে সিরাজদিখান উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টির জন্য একটি নতুন ভবন অত্যন্ত জরুরি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। অর্থ বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু করা হবে।

নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে - dainik shiksha নভেম্বরের এমপিওর সাথেই ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেয়া হতে পারে এমপিও বাতিল হচ্ছে ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর - dainik shiksha এমপিও বাতিল হচ্ছে ১২ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওভুক্ত হচ্ছেন কারিগরির ২২৮ শিক্ষক - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছেন কারিগরির ২২৮ শিক্ষক বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ - dainik shiksha বেসরকারি স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী - dainik shiksha স্ত্রীর মৃত্যুতে আজীবন পেনশন পাবেন স্বামী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website