ঝুলছে শিক্ষা আইন: নয় বছরেও আলোর মুখ দেখেনি - কলেজ - দৈনিকশিক্ষা

ঝুলছে শিক্ষা আইন: নয় বছরেও আলোর মুখ দেখেনি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

জাতীয় নীতি বাস্তবায়নের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে জরুরী সেই শিক্ষা আইন প্রণয়নের কাজ ঝুলে আছে প্রায় ৯ বছর ধরে। অথচ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের নীতিতেই স্পষ্ট করে বলা হয়েছে শিক্ষা আইন প্রণয়নের কথা। ’১১ সালে শিক্ষা আইনের একটি খসড়া প্রস্তুত হলেও এখন পর্যন্ত আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বরং নোট গাইড, কখন কোচিং সেন্টারসহ শিক্ষা বাণিজ্যে যুক্ত বিশেষ গোষ্ঠীর দাপটে পিছু হটে মন্ত্রণালয় দুর্বল আইন প্রণয়নের পথেই হেঁটেছে সব সময়। নোট গাইড ও কোচিং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আপোস করেই যেন দফায় দফায় ঘষামাজা হয়েছে আইনে। এবার আবার আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে চতুর্থবারের মতো মন্ত্রিপরিষদে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সভা বসছে। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিভাষ বাড়ৈ।

শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার মধ্যেই শিক্ষা আইনের সঙ্কটে উদ্বিগ্ন জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্যসহ বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক-অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের প্রায় সর্বস্তরের কর্মকর্তাই নিষিদ্ধ নোট-গাইড ও কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরতে চান, চান অবৈধ শিক্ষা বাণিজ্য স্থায়ী বন্ধ করতে। প্রথম খসড়ায় নোট-গাইড নিষিদ্ধ ও কোচিং বাণিজ্য বন্ধের ‘বিধি-বিধান’ থাকায় প্রত্যাশিত আইন বাধার মুখে পড়েছে অভিযোগ করে শিক্ষাবিদরা বলছেন, আইন ঠেকাতে নোট-গাইড ব্যবসায়ী ও কোচিং বাণিজ্যে জড়িত সিন্ডিকেট একজোট হয়ে কাজ করছে। এই চক্র যেকোন মূল্যে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন থেকে নিজেদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ধারা-উপধারাগুলো বাদ রাখতে চায়। কিছুৃ আমলাও বছরের পর বছর ধরে এদের হয়ে কাজ করেছেন।

জাতীয় শিক্ষানীতি ’১০ এ নীতি বাস্তবায়নের জন্যই ‘শিক্ষা আইন’ প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে এই আইনের মাধ্যমে নোট-গাইড বই ও কোচিং সেন্টারসহ সব ধরনের অবৈধ শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধের কথা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শিক্ষা আইনের খসড়া এখন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। শিক্ষা সংক্রান্ত যত রকম আইন-কানুন ও বিধি-বিধান রয়েছে সেগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পর্যালোচনা করে খসড়া প্রস্তুত করা হচ্ছে। দশটি শিক্ষা বোর্ড, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা পৃথক পৃথক অধ্যাদেশ ধারায় পরিচালিত হচ্ছে।

বিদ্যমান আইন-কানুন ও বিধি-বিধানের সঙ্গে সমন্বয় করে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দু’জন কনসালটেন্টকে (পরামর্শক) (সাবেক অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ ও সাবেক সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল) নিয়োগ দিয়েছে। এরপর খসড়া আইনটি অনুমোদনের জন্য ফের মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

’১০ সালে শিক্ষা নীতি প্রণয়নের পর ’১১ সালে শিক্ষা আইন নিয়ে কাজ শুরু করে মন্ত্রণালয়। শিক্ষা আইনের প্রথম খসড়া তৈরি করা হয়েছিল ’১২ সালে। পরে নানা বিষয় সংযোজন-বিয়োজন করে জনমত যাচাইয়ের জন্য ২০১৩ সালে খসড়া প্রকাশ করা হয় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। এরপর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় এ পর্যন্ত তিনবার খসড়া অদল বদল করেছে। এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শুরু হয় নোট-গাইড ব্যবসায়ীদের তদ্বির, দেয়া হয় আন্দোলনের হুমকি। কোচিং ব্যবসায়ীরাও সক্রিয় হয়। শিক্ষা আইনকে দুর্বল করে অবাধ বাণিজ্য করার আশায় প্রতিবাদ কর্মসূচীও চালিয়ে যেতে থাকে।

শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সভার আয়োজন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ জাবেদ আহমেদ এতে সভাপতিত্ব করবেন। অতিরিক্ত সচিব মোঃ জাবেদ আহমেদ এ বিষয়ে বলেন, আইনের খসড়া পরিমার্জন করা হচ্ছে। পরিমার্জনের বিষয়ে পরামর্শ দিতে দু’জন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পরামর্শকরা সভায় আইনের খসড়া পরিবর্তনের বিষয়ে তাদের চিন্তা ভাবনা অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সামনে তুলে ধরবেন।

চলতি বছরেই শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে বলে গত ১০ এপ্রিল জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি। শিক্ষামন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, দেশে শিক্ষা সংক্রান্ত অনেক আইন রয়েছে। এর কোনটির সঙ্গে যেন শিক্ষা আইন সাংঘর্ষিক না হয়। আইন করলাম, আর তা বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলো, তাহলে কার্যকর করা কঠিন হবে। এ কারণে পরামর্শকদের সহায়তা নিয়ে সমস্ত আইনের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক না হয়, সেটি আমরা দেখছি। আশা করছি, মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী পর্যায়ে এ বছরের শেষ নাগাদ পৌঁছে দিতে পারব।

তবে শিক্ষা আইনের খসড়্ াপ্রণয়নের ৯ বছরের মাথায় এসে হঠাৎ কনসালটেন্ট নিয়োগ দিয়ে পরামর্শ নেয়ার ঘটনা নিয়ে এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে দীর্ঘ সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে থেকে শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন ও শিক্ষা আইন প্রণয়নের কাজে শতভাগ ব্যর্থতার পরিচয় দেয়া একজন কর্মকর্তাকে কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া নিয়েও। মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে বিএনপিপন্থী এ কর্মকর্তার নানা কাজে বারবার বিব্রত হয়েছে মন্ত্রণালয়। এমনকি যাদের কারণে বাধার মুখে পড়েছে শিক্ষা আইন সেই নোট-গাইড ও কোচিং ব্যবসায়ীরাও আইন প্রণয়নের কাজে ওই কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, তার সঙ্গে থেকেছেন সব সময়। এখন তাকেই আবার কেন এখানে ডেকে এনে যুক্ত করা হচ্ছে এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাই।

জানা গেছে, নোট-গাইড ও কোচিং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আঁতাত করে শিক্ষা প্রশাসনের একটি চক্র নতুন নতুন অজুহাত তৈরি করে শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়া সব সময়ই বাধাগ্রস্ত করছে। নানা রকম গোঁজামিল দিয়ে উদ্দেশ্যপূর্ণ খসড়া তৈরি করছেন। এতে বারবার আইনের খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অংশীজনের কাছে শুধুমাত্র হাতবদলই হয়েছে ফল হয়েছে শূন্য।

গোঁজামিল দিয়ে খসড়া তৈরির কারণে সর্বশেষ ’১৭ সালের সেপ্টেম্বরে খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হলে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবার মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়। শিক্ষা আইনের খসড়ায় ব্যাপক অসামঞ্জস্য, বৈপরিত্যও বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকায় আবারও এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফেরত পাঠায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ফলে গত সরকারের আমলে শিক্ষা আইন আলোর মুখই আর দেখেনি।

মূলত খসড়া প্রণয়নে দূরদর্শিতার অভাব, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিদ্যমান বিভিন্ন আইনের ধারা বিবেচনায় না নেয়া, শিক্ষাবিদদের মতামত উপেক্ষা ও খসড়া প্রণয়নকারীদের গাফিলতিতেই ৮ বছরের বেশি সময়েও শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি খসড়া প্রণয়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এড়িয়ে যাওয়ায় খসড়ায় অপরিপক্বতা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ‘বাংলাদেশ বাধ্যতামূলক প্রাথমিক আইন, ’৯০ থাকলেও এই আইনের কিছু ধারা শিক্ষা আইনে রাখা বা না রাখা নিয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন অভিমত রয়েছে।

শিক্ষা আইনের খসড়ার ২৪ ধারার ১নং উপধারায় বলা হয়েছে, এ আইন জারির পর সব ধরনের কোচিং নিষিদ্ধ হবে। যে কোন প্রকার কোচিং সেন্টার পরিচালনা ও কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা শাস্তিযোগ্য হবে। ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষক কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না। তিন নম্বর উপধারায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের লিখিত সম্মতি নিয়ে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

এক নম্বর উপধারা লংঘনে অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদ- অথবা ছয় মাসের কারাদ- কিংবা উভয় দ-ে দ-িত করা যাবে। দুই নম্বর উপধারা লংঘন করলে সরকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং বেসরকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও এমপিও বাতিল এবং চাকরিচ্যুত করা হবে।

শিক্ষা আইনের খসড়া অনুযায়ী, কোন ধরনের নোট বা গাইড বই মুদ্রণ, বাঁধাই, প্রকাশ ও বাজারজাত করা দ-ণীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। নোট-গাইড ক্রয় বা পাঠে কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাধ্য করলে বা উৎসাহ দিলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিধান লংঘনে অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদ- বা এক বছর কারাদ- কিংবা উভয় দ-ে দ-িত করা যাবে।

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং অপ্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত, অন্যত্র স্থানান্তর বা বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান টিউশন ফিসহ অন্যান্য ফি আরোপ করতে পারবে না। নকলে সহায়তা বা প্রশ্ন ফাঁসে সহায়তা করলে পেতে হবে শাস্তি। শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করলে বেতন বন্ধ বা চাকরি যাবে শিক্ষকের।

এছাড়া প্রস্তাবিত শিক্ষা আইন অনুযায়ী, নিবন্ধিত সংস্থা ও ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিষয়াদি পৃথক ব্যাংক হিসাবে চলবে। কোন অবস্থায়ই এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের অর্থ ট্রাস্ট বা সংস্থার হিসাবে যাবে না। এতে স্থানান্তরিত অর্থ উদ্ধার এবং এ বিধান লংঘনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অনধিক পাঁখ টাকা অর্থদ- বা এক বছর কারাদ- কিংবা উভয় দ-ে দ-িত করা যাবে। কিন্তু খসড়া শিক্ষা আইনে এই বিষয়টি উল্লেখ থাকায় ফাউন্ডেশনের অধীনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন বেড়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি আইনে স্পষ্ট করা হয়নি।

অন্যদিকে শিক্ষা আইন নিয়ে হতাশায় ভুগছেন এর অন্যতম অংশীদার শিক্ষকরাও। বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়নের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাশার হাওলাদার বলছিলেন, শিক্ষা আইন যেন শুধু শিক্ষকদের শাসন করার জন্য না হয়। দেখলাম খসড়া শিক্ষা আইন আবারও পরিমার্জন করতে যাচ্ছে সরকার। এর আগে ’১১ সালে শুরু হয়েছিল শিক্ষা আইনের খসড়া তৈরি। পরপর তিনবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে পরিমার্জনের জন্য ফিরে আসে। সর্বশেষ ’১৭ সালে পাঠানো খসড়াটি ’১৮ সালে ফেরত আসে। আজ প্রায় নয় বছর ধরে চেষ্টা করে শিক্ষা আইন চূড়ান্ত করতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নতুন করে মন্ত্রণালয়ের সভা আহ্বান বিষয়ে এই শিক্ষক নেতা বলেন, সভায় অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি থাকবেন। ভাল ভাল কথা হবেÑ এর আগেও জ্ঞানীগুণীরা ছিলেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি। বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। আমার পরামর্শ হলো, ওই কমিটিতে আইন বিশেষজ্ঞ ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ’১০ প্রণয়ন কমিটির সদস্য প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহম্মেদ বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন। কেন যে এটি হলো না তা আমাদের বোধ্যগম্য নয়। এটি হওয়া খুব জরুরী ছিল কিন্তু আমরা হতাশ।

এক প্রশ্নের জবাবে ২০১০ সালে গঠিত শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটির এ প্রবীণ সদস্য হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এত বছর হয়ে গেল। আমাদের দিয়ে এত এত দেশের শিক্ষা আইন আমাদের দিয়ে সংগ্রহ করা হলো। আমরা কাজ করলাম। কিন্তু এত বছরেও আইন হলো না। কষ্ট লাগে। দুঃখ লাগে। শিক্ষা নীতি শিক্ষার উন্নয়ন হলো আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু সে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হলো না। কার্যকর হলো। সরকারী কর্মকর্তাদের দিয়ে রাজনৈতিক সরকার তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এটাই বাস্তবতা।

শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শেখ ইকরামূল কবির বলছিলেন, নীতিতেই বলা আছে শিক্ষা আইনের কথা। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো নিরসন করা এবং শিক্ষার সব বিষয়কে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার জন্যই শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার এটি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, পড়ছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায়। এটি না করতে পারলেও শিক্ষা নীতি বাস্তবায়ন হবে না। অনেক সময় চলে গেছে। শিক্ষায় আমাদের অনেক অর্জন আছে। তবে এটা না করতে পারলে আমাদের শিক্ষা নীতি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে না। শিক্ষার বিষয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী খুবই সজাগ। নতুন মন্ত্রী এসেছেন, তিনি নিশ্চই এ বিষয়ে নজর দেবেন আশা করি।

নতুন করে মন্ত্রণালয়ের সভা আহ্বানের কথা উল্লেখ করে এ শিক্ষক নেতা বলেন, সভায় অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরা থাকবেন সেখানে। ভাল কথা, এর আগেও জ্ঞানীগুণীরা ছিলেন, কিন্তু পারেননি। সে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে। আমার পরামর্শ হলো, ওই কমিটিতে আইন বিশেষজ্ঞ ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করা শিক্ষা বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

এত বছরেও আইন না হওয়া আর এখন হঠাৎ করে কনসালটেন্ট নিয়োগ দেয়ার ঘটনায় শিক্ষাবিদরাও হতবাগ। শিক্ষানীতি ও আইন নিয়ে সব সময় সজাগ গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলছিলেন, এত বছর হয়ে গেল। এতবার সংশোধন হলো। সর্বশেষ খসড়া ওয়েবসাইটে দিয়ে দেশের গণ্যমান্য সকলের মতামত নেয়া হলো। তাহলে এখন কেন আবার কনসালটেন্ট নিয়োগের চিন্তা আসল? তাহলে এরা কি দেশের গণ্যমান্য, শিক্ষাবিদ, শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের চেয়েও জ্ঞানী হয়ে গেলেন? নাকি এর পেছনে অন্য কোন চক্র কলকাঠি নাড়ছে। এর পেছনে অদৃশ্য কোন কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, কোচিং বাণিজ্যে ৩২ হাজার কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য হয়। এখানে এই অবৈধ শিক্ষা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের তৎপরতা আছে বলেই আমার সন্দেহ। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা দরকার।

‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ প্রণয়ন কমিটির সদস্য প্রবীণ শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহম্মেদ বলেছেন, আমরা চেয়েছিলাম একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন। কেন যে এটি হলো না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এটি হওয়া খুব জরুরী ছিল; কিন্তু আমরা হতাশ।

এক প্রশ্নের জবাবে ২০১০ সালে গঠিত শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটির এ প্রবীণ সদস্য হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এত বছর হয়ে গেল। আমাদের দিয়ে এত এত দেশের শিক্ষা আইন আমাদের দিয়ে সংগ্রহ করা হলো। আমরা কাজ করলাম। কিন্তু এত বছরেও আইন হলো না। কষ্ট লাগে। দুঃখ লাগে। শিক্ষানীতি শিক্ষার উন্নয়ন হলো আওয়ামী লীগের একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু সে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হলো না। কার্যকর হলো। সরকারী কর্মকর্তাদের দিয়ে রাজনৈতিক সরকার তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে পারছে না। এটাই বাস্তবতা।

শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) সাবেক মহাপরিচালক শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. শেখ ইকরামূল কবির বলছিলেন, নীতিতেই বলা আছে শিক্ষা আইনের কথা। বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো নিরসন করা এবং শিক্ষার সকল বিষয়কে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার জন্যই শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার এটি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ছে। এটি না করতে পারলেও শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হবে না। অনেক সময় চলে গেছে। শিক্ষায় আমাদের অনেক অর্জন আছে। তবে এটা না করতে পারলে আমাদের শিক্ষানীতি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হবে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ শিক্ষার বিষয়ে খুবই সজাগ। নতুন মন্ত্রী এসেছেন, তিনি নিশ্চয়ই এ বিষয়ে নজর দেবেন।

ঢাবির ক ও চ ইউনিটের ফল প্রকাশ - dainik shiksha ঢাবির ক ও চ ইউনিটের ফল প্রকাশ যে কারণে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী জবি ভিসি মীজান - dainik shiksha যে কারণে যুবলীগের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী জবি ভিসি মীজান বাউবির ছাত্রত্ব বাতিল এমপি বুবলীর, চার সদস্যের কমিটি - dainik shiksha বাউবির ছাত্রত্ব বাতিল এমপি বুবলীর, চার সদস্যের কমিটি ঢাবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষে আহত ৩ - dainik shiksha ঢাবিতে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের সংঘর্ষে আহত ৩ ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ওপর দায় চাপালেন এমপি বুবলী - dainik shiksha ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ওপর দায় চাপালেন এমপি বুবলী ছাত্রী হেনস্তা ঠেকাতে পুরুষ শিক্ষক বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত - dainik shiksha ছাত্রী হেনস্তা ঠেকাতে পুরুষ শিক্ষক বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ - dainik shiksha শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষিকাদের যৌন হয়রানির অভিযোগ কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? - dainik shiksha কী আছে শিক্ষক গোকুল দাশের লাইব্রেরিতে, কেন বিক্রির বিজ্ঞাপন? ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত - dainik shiksha ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রস্তুত ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website