please click here to view dainikshiksha website

টাকার অভাবে শিক্ষকরা অবসর-কল্যাণ ভাতা পাচ্ছেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক | মে ১৯, ২০১৭ - ৮:০৮ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা অবসর নেওয়ার পর বছরের পর বছর এককালীন অবসর ভাতা ও কল্যাণ সুবিধার অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। তাদের অবসরের পর এককালীন সুবিধা দেওয়ার জন্য গঠিত ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড’ এবং ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ নামক প্রতিষ্ঠান দুটি প্রয়োজনীয় টাকার অভাবে ধুঁকছে। প্রতি মাসে সারাদেশে গড়ে অবসর নেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী। চাহিদা মেটাতে দুই বোর্ডের লাগে মাসে গড়ে ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে  আয় মাত্র ১৮ কোটি টাকা।

সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন আছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যারা এমপিওভুক্ত তথা সরকারি তহবিলের বেতন পান, তারাই কেবল এককালীন অবসর ভাতা পাওয়ার উপযুক্ত। এদের সংখ্যা এখন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ।

অবসর ভাতা দিতে প্রতি মাসে প্রয়োজনের অর্ধেক ঘাটতি থাকায় যতজন শিক্ষক-কর্মচারী আবেদন করেন তাদের অর্ধেককে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা জমতেই থাকে। জমতে জমতে এখন আবেদনের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ২০১২ সালে করা আবেদনের পাঁচ বছর পরে এখন নিষ্পত্তি হচ্ছে। অবসরে যাওয়ার পর সাড়ে তিন থেকে চার বছর লাগছে টাকা পেতে। সারাজীবন

শিক্ষকতার চাকরি শেষে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের এটাই যৎসামান্য এককালীন আর্থিক প্রাপ্তি।

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু বলেন, অর্থ ঘাটতির কারণেই এমনটি হয়েছে। বর্তমানে তারা ২০১৪ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে আবেদন করা শিক্ষক-কর্মচারীদের আবেদন নিষ্পত্তি করছেন। তবে, শিগগিরই একটি তহবিল পাচ্ছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ১৭তম সভায় অবসর বোর্ড নিয়ে সাংসদরা বিশদ আলোচনা করেন। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বন্ধ্যত্ব ঘুচাতে সেখানে বিশেষভাবে সরকারি বরাদ্দ দরকার।

জানা গেছে, অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠার সময় সরকার থেকে দেওয়া ৮৯ কোটি টাকার অর্জিত মুনাফা শুধু অফিস পরিচালনা বাবদ খরচ করার অনুমোদন দেওয়া হয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক বেতনের ৪ শতাংশ হারে কর্তন থেকে আয় এখন ১৮ কোটি টাকা হলেও মাসিক জমাকৃত আবেদন নিষ্পত্তির জন্য লাগছে ৩৬ কোটি টাকা। এই ঘাটতি চলতে থাকা অবস্থায় ২০১৫ থেকে অষ্টম নতুন জাতীয় পে স্কেল অনুযায়ী বেতন বাড়ায় ঘাটতিও বেড়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের অনিষ্পন্ন আবেদন নিষ্পত্তির জন্য বর্তমান ঘাটতি বাবদ প্রয়োজনীয় টাকা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রতি মাসে মোট ৬০০ কোটি টাকা মুনাফার লক্ষ্যে (আনুমানিক ১০% হারে সুদ হিসেবে) সিড মানি বাবদ এককালীন বরাদ্দ অথবা অবসর সুবিধা আইন ৯(১) (ক) অনুযায়ী প্রতি বছর সরাসরি জাতীয় বাজেটে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বছর অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বহু বছর পর ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে বাজেটে বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবসর সুবিধা বোর্ড’-এর অনুকূলে ৫০০ কোটি টাকা এনডাওমেন্ট ফান্ড এবং ১০০ কোটি টাকা এককালীন অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ ফান্ডের অনুকূলে এককালীন ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দও দেয় সরকার। এতে কিছুটা সুরাহা হলেও নতুন বেতন স্কেল কার্যকর করায় অর্থ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আবারও ঘাটতির কবলে এ দুটি প্রতিষ্ঠান।

অবসর সুবিধা বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ আহমদ সাদী বলেন,  ২০১৩ সালের আবেদন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। ২০১৭ সালে এসে চার বছর আগের অর্থ দিতে আমাদেরও খুব খারাপ লাগে। শিক্ষকদের নিদারুণ কষ্ট হয়। তাই শিক্ষকদের বেতনের চাঁদার পরিমাণ ৪ শতাংশ থেকে শিগিগরিই ৬ শতাংশে উন্নীত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

এ দুটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষকদের বেতনের চাঁদার অংশ ২ শতাংশ বাড়িয়ে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এতে সমস্যা অনেকখানি মিটবে।

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, দুই প্রতিষ্ঠানের অর্থ পেতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়; কাগজে জটিলতা থাকলে টাকাও দিতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেক তৈরি হয়ে যাওয়ার পরও ঘুষ ছাড়া তা ইস্যু করা হয় না। ব্যানবেইসের লাইব্রেরি শাখার কয়েকজন ও অবসর বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা, পিয়ন, ড্রাইভারের সমন্বয়ে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

শরীফ সাদী বলেছেন, কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে, সিন্ডিকেট ভেঙ্গে চুমরার করে দেয়া হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


আপনার মন্তব্য দিন