please click here to view dainikshiksha website

টিটিসিতে সাধারণ সরকারি কলেজ শিক্ষকদের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন অবৈধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | জানুয়ারি ১৩, ২০১৮ - ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
dainikshiksha print

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সাধারণ সরকারি কলেজ শিক্ষকদের অধ্যক্ষ পদে পদায়ন অবৈধ ঘোষণা করে  হাইকোর্টের দেয়া রায় আপীল বিভাগও বহাল রেখেছেন। প্রধান বিচারপতি এম এ ওয়াহাব মিয়ার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতির ফুলবেঞ্চে গতকাল ১১ জানুয়ারি শুনানী শেষে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

সরকারি টিটিসিসমূহ বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হলেও তা বিবেচনায় না রেখে ঢালাওভাবে সাধারণ কলেজের শিক্ষকদের পদায়নের ফলে শিক্ষার মান দিন দিন অবনতি এবং টিটিসিতে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা দেখা দেয়ার প্রেক্ষিতে রিট দায়ের করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিসিএস নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮১ অনুসরণ না করে সাধারণ কলেজের বিএড/এমএড ডিগ্রিবিহীন শিক্ষকদের সরকারি টিটিসিতে অধ্যক্ষ পদে পদায়ন করে আসছিলো। টিচার্স ট্রেনিং কলেজের উপযুক্ত শিক্ষকবৃন্দের ন্যায্য অধিকারকে উপেক্ষা করে পদায়ন ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করায় সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।

সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের পক্ষে রিটকারিদের অন্যতম প্রফেসর ড. শেখ মো. রেজাউল করিম দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি এ কে এম শহিদুল হক গত ১৪ই ডিসেম্বর এক আদেশে রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোতে সাধারণ কলেজের তিনজন অধ্যাপকের অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন স্থগিত করেন এবং কেন এ পদায়ন অবৈধ হবে না এই মর্মে সরকারের প্রতি চার সপ্তাহের রুল জারি করেন। এরপর পহেলা জানুয়ারি আপীল বিভাগের চেম্বার জজ মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এর আদালতে সরকার ও পদায়নপ্রাপ্ত অধ্যক্ষগণ ড. ওলীউল আলম, শেখ হারুনর রশীদ ও স্বপন চৌধুরী হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন।

রেজাউল করিম দৈনিকশিক্ষাডটকমকে বলেন, চেম্বার জজের আদালতে পর পর কয়েকদিন শুনানীর পর ৯ই জানুয়ারি তারিখে হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থিতাবস্থা আদেশ দিয়ে আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে শুনানীর জন্য পাঠান। প্রধান বিচারপতি এম এ ওয়াহাব মিয়ার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি ১১ই জানুয়ারি শুনানী শেষে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের আবেদনকারীদের পক্ষে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।

অপর এক রিটের প্রেক্ষিতে, হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে উক্ত তিনটি কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিচারপতি মোঃ আশফাকুল ইসলাম এবং বিচারপতি কে. এম কামরুল কাদের-এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খুলনা টিটিসি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারী করেছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:


পাঠকের মন্তব্যঃ ৭টি

  1. মোঃআশরাফুল আলম says:

    বহুদিন পরে সিদ্ধান্তটা হলো।আমি অনেক দিন ধরে ভাবছিলাম এই ব্যাপারটা।

  2. মুহাম্মদ রিদওয়ানুল বারী,সহকারী শিক্ষক,চট্টগ্রাম। says:

    বহুদিন পর এবার হয়ত টিটিসিগুলো আপন আলোয় উদ্ভাসিত হতে পারবে।অনেকটা গোশালার মত অবস্হা হতে টিটিসিগুলোর চেহারা পরিবর্তন হবে শীঘ্রই।
    খুব ভাল সংবাদ।
    অন্তত এ পদে হলেও প্রকৃত প্রশিক্ষণধারীগণ আসীন হবেন।আমাদের প্রত্যাশা হলো বিশেষায়িত সব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তগণ পদ অলংকৃত করবেন।

  3. Md. Ashraful Alam says:

    খুব ভাল সিদ্ধান্ত। আত্তীকৃতরা রাতারাতি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে যেতে পারে, এটা আর ও ভাল।

  4. এম,এ,মামুন says:

    বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রনালয় দ্বারা সবই
    সম্ভব এ মন্ত্রনালয় অাদালতের অাদেশও অমান্য করে। এখানে দূর্নীতির স্বর্গরাজ্য। অার কতদিন চলবে এই হযবরল অবস্থা?

  5. কেতকী says:

    যেকোন টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যক্ষ সহ সকল শিক্ষক বিএড/এমএড ছাড়া নিয়োগ , বদলী অবৈধ ঘোষণা করা হোক।

  6. রফিকুল ইসলাম বি,এসসি, ঘাটাইল, টাংগাইল says:

    সুবিচারক হলে সবারই ভাল।

  7. মাইনুল ইসলাম says:

    বিচারকের বিচার সঠিক হয়

আপনার মন্তব্য দিন