ডাবল শিফটের স্কুল শিক্ষা মারাত্মক ব্যাহত : এক শ’৫৫ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক সঙ্কট - স্কুল - দৈনিকশিক্ষা

ডাবল শিফটের স্কুল শিক্ষা মারাত্মক ব্যাহত : এক শ’৫৫ প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষক সঙ্কট

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

ভয়াবহ শিক্ষক সঙ্কটের কারণে এমনিতেই দেশের সরকারী হাইস্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে মারাত্মকভাবে। শিক্ষক সঙ্কটের কারণে যেখানে নিয়মিত শিক্ষাদানই কঠিন হয়ে পড়েছে সেখানে সেই শিক্ষক দিয়েই চলছে দুই শিফটের শিক্ষা! যেখানে এক শিফট চালানোর শিক্ষক নেই সেখানে বছরের পর বছর ধরে দুই শিফট চালাতে গিয়ে সঙ্কটের মুখে পড়েছে ডবল শিফট থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিছুটা বেশি শিক্ষক থাকায় রাজধানী ঢাকার স্কুলগুলো কোনমতে চললেও সঙ্কটের মুখে আছে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ডবল শিফটের স্কুলগুলো। ৮/১০ শিক্ষক দিয়ে কোনমতে চলছে ডবল শিফট। সোমবার (১৩ জানুয়ারি) জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদনটি লিখেছেন বিভাষ বাড়ৈ ।

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কথা বলে এমন সঙ্কটের চিত্রই পাওয়া গেছে। জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মচারীর প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টির উদ্যোগ না নিয়ে নতুন নতুন সরকারী হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা ও ডবল শিফট চালুর কারণেই এমন সঙ্কটের মুখে পড়েছে সারাদেশের ডবল শিফ্টের দেড় শতাধিক সরকারী হাই স্কুল। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে গড়ে প্রায় অর্ধেক শ্রেণী কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষক না থাকায় বাকি অর্ধেক শ্রেণী কার্যক্রম ঠিকমতো চলছে না। এছাড়া কর্মচারী স্বল্পতা, অবকাঠামো সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন সরকারী প্রয়োজনে দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার কারণেও একাডেমিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ছে। এজন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণী শিক্ষকের বাসায় কোচিংয়ে ভর্তি, প্রাইভেট টিউটর রাখা ও বাণিজ্য নির্ভর কোচিং সেন্টারের দ্বারস্থ হচ্ছে। দেশের ১৫৫টি ডবল শিফট্রে হাই স্কুলেই প্রায় একই ধরনের সঙ্কট বিরাজ করছে বলে বলছেন শিক্ষকরা।

মাউশি অধিদফতর জানায়, জাতীয়করণের প্রক্রিয়াধীন ছাড়া বর্তমানে সারাদেশে সরকারী হাই স্কুল রয়েছে ৩৪৩টি। এর মধ্যে ডবল শিফ্ট চালু রয়েছে ১৫৫টি স্কুলে, যার ২১টি রাজধানীতে, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতা খুব বেশি নেই। আর ৩৪৩টি প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষকের মোট পদ রয়েছে দশ হাজার ২৪৪টি। এর মধ্যে শিক্ষক আছেন প্রায় সাড়ে আট হাজার। আর শূন্য রয়েছে প্রায় দেড় হাজার পদ, যার বেশিরভাগই উপজেলা পর্যায়ের স্কুলের।

মাউশি অধিদফতরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশের সরকারী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক/শিক্ষিকার ২২৬টি পদ শূন্য রয়েছে। আর জেলা শিক্ষা অফিসারের পদ ২৪টি, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসারের ১২টি, সহকারী প্রধান শিক্ষকের ১১৫টি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের ৩৩৫টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সরকারী হাইস্কুল ও কলেজে বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী, পিয়ন, এমএলএসএস-এর পাঁচ হাজার ৫৬৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

জানতে চাইলে মাউশি অধিদফতরের ঢাকা অঞ্চলের উপ-পরিচালক সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বলছিলেন, দুই শিফটের প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোটামুটি শিক্ষক থাকলেও প্রাপ্যতা হচ্ছে ৫০টি পদ। তবে মহানগরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোন ডবল শিফটের স্কুলেই ৫০ শিক্ষক নেই। সব প্রতিষ্ঠানের কম-বেশি শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। এই সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধির কারণে এখন পিএসসির মাধ্যমে দিতে হচ্ছে। এখন একটি নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন আছে। অন্তত দেড় হাজার শিক্ষক নিয়োগ হবে। এটা হলে কিছুটা হলেও সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন এ কর্মকর্তা।

এক প্রশ্নের জবাবে সাখায়েত হোসেন বিশ্বাস বলেন, ডবল শিফটের চেয়েও বড় বেশি শিক্ষক সঙ্কটে ভুগছে জেলা-উপজেলায় ডবল শিফটের বাইরে থাকা সরকারী হাইস্কুলগুলো। শিক্ষকদের ডবল শিফটের স্কুলে চলে যাওয়ার প্রবণতার কারণেন বেশি সমস্যায় পড়েছে জেলা ও উপজেলার এক শিফটের প্রতিষ্ঠানগুলো।

ঢাকা কলেজিয়েট হাই স্কুলের দু’জন শিক্ষক বলছিলেন, শুধু ডবল শিফ্ট নয়, এক শিফ্টের স্কুলেও শিক্ষক সঙ্কট রয়েছে। কারণ গত সাত বছর ধরে হাইস্কুলে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না। কলেজিয়েট হাই স্কুল এক শিফ্টের, এখানেও চারটি পদ শূন্য।

ধানমন্ডি গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বাংলাদেশ সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু সাইদ ভূইয়া বলেছেন, খুব বিপদে আছি। ২০০৬ সালে যখন এই ডবল শিফট চালু করা হয়েছিল তখন কোন পদ সৃষ্টি না করেই চালু করা হয়েছিল। সেই থেকে জোড়াতালি দিয়েই চলছে। তার মধ্যে আবার আমাদের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে আছে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর। সেখানেও নেই পদ। ডেপুটেশনে শিক্ষক দিলেও থাকেন না। আমার্দে স্কুলে যেমন একাদশ ও দ্বাদশে মাত্র তিনজন শিক্ষক আছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সম্প্রতি বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। তবে মন্ত্রী মহোদয় অবস্থান জেনে বিব্রতই হয়েছেন। পদ সৃষ্টি ছাড়া এভাবে ডবল শিফট করাতেই সঙ্কট।

মাউশি’র তথ্যানুযায়ী, সদ্য জাতীয়করণের প্রক্রিয়াধীন প্রতিষ্ঠান ছাড়া বর্তমানে দেশে মোট সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৪৩টি। এরমধ্যে ৭০টি হাই স্কুলে আগে থেকেই ডবল শিফ্ট চালু ছিল। ২০০৯ সালে দেশের ৮৩টি সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডবল শিফ্ট চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়, যা ২০১০ সালে কার্যকর হয়। এ জন্য নতুন করে এক হাজার ৯৬৮ সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১১ সালে।

পরবর্তীতে এসব স্কুলে সরাসরি আর শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। বিসিএস পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ কিন্তু পদ স্বল্পতায় ক্যাডার পদে নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্য থেকে নন-ক্যাডার হিসেবে সরকারী হাই স্কুলগুলোতে সীমিত সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ পাচ্ছে, যা দিয়ে সঙ্কট মিটছে না। পর্যায়ক্রমে শিক্ষক স্বল্পতা তীব্র হচ্ছে। এ কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডবল শিফ্টের স্কুল ডামি শিক্ষক অর্থাৎ বাংলার শিক্ষক দিয়ে ইংরেজী, সমাজের শিক্ষক দিয়ে গণিত ও অন্যান্য বিষয় পাঠদান করা হচ্ছে।

স্কুলগুলোতে শিক্ষক সঙ্কটের পাশাপাশি কর্মচারী সঙ্কটও তীব্র হচ্ছে।

বেশিরভাগ স্কুলেই অফিস সহকারী ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নেই। এই সমস্যা সামাল দিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে স্কুল জরুরী কার্যক্রম চালাচ্ছে অনেক প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিন সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষক সঙ্কটে পড়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার রাজধানীসহ কোন কোন এলাকায় কিছু প্রতিষ্ঠানে পদের অতিরিক্ত শিক্ষক থাকলেও মফস্বলের স্কুলগুলোতে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেই। অন্যদিকে আইসিটি বিষয়ে শিক্ষকের কোন পদই নেই। ফলে মানসম্মত শিক্ষা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের - dainik shiksha জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী - dainik shiksha স্কুল খুললে সীমিত পরিসরে পিইসি, অটোপাস নয় : গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি - dainik shiksha জাতীয়করণ: ফের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত সেলিম ভুইঁয়া, কর্মসূচির হুমকি একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে - dainik shiksha একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করবেন যেভাবে please click here to view dainikshiksha website