ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুটপাত পর্যন্ত আন্দোলন - সমিতি সংবাদ - Dainikshiksha

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুটপাত পর্যন্ত আন্দোলন

শ্যামল সরকার ও নিজামুল হক |

সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসলেই পুঞ্জীভূত দাবি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন অনেকে। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পক্ষগুলো যখন ভোটের লড়াইয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঠিক তখনই বিভিন্ন পক্ষ বিশেষ করে পেশাজীবী সংগঠনগুলো দাবি আদায়ে মাঠে নেমে পড়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কমবেশি ৮/৯ মাস সময় হাতে থাকতে এসব সংগঠন মাঠে নেমেছে দাবি আদায়ের জন্য। এ যেন দাবি আদায়ের মৌসুম শুরু হয়েছে। দাবি নিয়ে মাঠের আন্দোলনে ফুটপাতের হকার থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও সামিল হচ্ছে। অবশ্য দাবি আদায়ের এ সময় বেছে নেওয়ায় উপকারও হচ্ছে কোনো কোনো পক্ষের। কর্তৃপক্ষের আশ্বাস নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠ থেকে বাড়ি ফিরেছেন কয়েকটি পক্ষ।

এখন মানববন্ধন বা স্মারকলিপি পেশ, বিক্ষোভ ইত্যাদি ধরনের অপেক্ষাকৃত নরম প্রকৃতির কর্মসূচি বাদ দিয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনশন তারপর আমরণ অনশন এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের কৌশলেও বেশ পরিবর্তন করা হয়েছে। অতীতে সাধারণভাবে আন্দোলন হতো সরকার বিরোধী স্লোগানের মাধ্যমে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে নানা বিশেষণে ভূষিত করে লেখা প্লাকার্ড ফেস্টুন নিয়ে আন্দোলনকারীদের আমরণ অনশনে শয্যা নিতে। স্লোগানও চলছে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধুর নামে।

ননএমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলন: নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ৩০ ডিসেম্বর থেকে এমপিওভুক্তির দাবিতে অনশন শুরু করেন । পরে শিক্ষাসচিব, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিবের আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করে বাড়ি ফিরে যান।

সারাদেশে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫ হাজার ২৪২টি। এগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৭৫ হাজার থেকে ৮০ হাজার। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়। এরপর থেকে এমপিওভুক্তি বন্ধ রয়েছে। সরকারি দলের এমপিদের অনেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি চান। কিন্তু অপরিকল্পিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠায় এবং বছরের পর বছর রাজনৈতিক কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করায় শিক্ষা বাজেটের ওপর চাপ পড়ছে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের আন্দোলন: ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থানের ৮দিন পর আমরণ অনশন শুরু করেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকরা। পরে শিক্ষামন্ত্রী এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক প্রতিনিধিদলের এক বৈঠকে অনশন প্রত্যাহার করেন শিক্ষকরা।

বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি: জাতীয়করণের দাবিতে বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি অনশন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষকরা জানান, ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় একযোগে জাতীয়করণে বেশ কিছু বিদ্যালয় বাদ পড়ে যায়। জেলা ও উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ করা চার হাজার ১৫৯টি স্কুলের তালিকা করা হয়। ওই সব স্কুলে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক বিনা বেতনে চাকরি করছেন।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জাতীয়করণ দাবি: এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন ১৫ জানুয়ারি থেকে। একই সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটও পালন করেছেন তারা। গতকাল সরকারি আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অনশন প্রত্যাহার করেন তারা।

তবে আরেকটি পক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি জাতীয়করণের দাবিতে ১৪ মার্চ ঢাকায় শিক্ষক মহাসমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এছাড়া ১১ মার্চ সারাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবিরাম ধর্মঘট এবং ১২ মার্চ সব জেলায় শিক্ষক কর্মচারী সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করবেন তারা।

কলেজ শিক্ষকদের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার আন্দোলন থেকে আপাতত ঘরে ফিরেছেন সরকারি শিক্ষকরা। তবে শিগগির তারা মাঠে নামছেন বলে জানা গেছে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে বেতন, সুযোগ-সুবিধা ও মর্যাদার দিক থেকে বড় ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। সহকারী শিক্ষকদের আগের পদ প্রধান শিক্ষক হলেও তিন ধাপে পার্থক্য তৈরি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের দশম বেতন গ্রেড বাস্তবায়ন হলে আরও এক ধাপ বেড়ে যাবে। এ কারণে প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা এক জোট হয়ে রাজধানীর শহীদ মিনারে আন্দোলন শুরু করেন। পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে তারা ঘরে ফিরে যান।

সাত কলেজের আন্দোলনে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: রাজধানীর ৭ কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বাতিল করার দাবিতে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, এসব শিক্ষার্থীদের পেছনে সময় ব্যয় করার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষার্থীদের প্রতি সময় কম দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে এই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। এ নিয়ে ঢাবির সার্বিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্তই বলা যায়। শিক্ষকরাও ভিসির বাসভবনে শিক্ষার্থীদের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ।

এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়নকারী ছাত্রলীগ নেতাদের শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনে গত ২৩ জানুয়ারি উপাচার্যকে ঘেরাও কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে ধর্মঘট পালন করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। ধর্মঘটকালে ঢাবির কলা ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে দেশ ব্যাপী আন্দোলন চলছে। রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি চলছে।

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ দলের মেয়র আইভি রহমানের সিদ্ধান্তে সেখানকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে একই দলের দুই পক্ষের অন্তর্কলহ রাজপথে প্রকাশ হয়। হকারদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষকে বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই উচ্ছেদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হকার আর আওয়ামী লীগের একাংশ উচ্ছেদকারীদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত হয়। এ নিয়ে দলটির হাইকমান্ড বিব্রত। এই ঘটনার রেশ না কাটতেই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র আগামী ১ ফেরুয়ারি থেকে ঢাকার ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। এ নিয়ে হকারদের মধ্যে চাপা ভয় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচনের আগে ভাগে এতসব অজনপ্রিয় পদক্ষেপ জরুরি কি না।

সারাদেশের ৩৫ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন গ্রামীণ জনপদে। চাকরি রাজস্ব খাতে নেওয়া না হলে তারা আগামী ১ ফেরুয়ারি অনশন শুরু করবেন।

 

সৌজন্যে: ইত্তেফাক

সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর - dainik shiksha সরকারিকরণের দাবিতে শিক্ষক সমাবেশ ৫ অক্টোবর অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু - dainik shiksha অনলাইনে এমপিও আবেদন শুরু ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে - dainik shiksha ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও বৈশাখী ভাতার ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ - dainik shiksha দাখিল আলিম পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর - dainik shiksha এমপিও কমিটির সভা ২৪ সেপ্টেম্বর দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website