ঢাবিতে অবৈধ দোকান, প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

ঢাবিতে অবৈধ দোকান, প্রতিদিন লাখ টাকার চাঁদাবাজি

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রশাসনের অনুমোদিত দোকান রয়েছে ১৪টি। এর বাইরে অনুমোদন ছাড়াই ছাত্রনেতা এবং প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েক জন অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় রয়েছে শতাধিক দোকান। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন প্রায় লাখ টাকার চাঁদাবাজি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোর সামনে, কলাভবন, লাইব্রেরি, টিএসসি, মলচত্বর, কার্জন হল, শহিদ মিনারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এসব অবৈধ দোকান রয়েছে। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই যত্রতত্র বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে এসব দোকান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দোকানগুলোকে বেশ কয়েকবার উঠিয়ে দেওয়া হলেও ছাত্রনেতাদের সহায়তায় আবার পূর্বের জায়গায় ফিরে আসে দোকান। রোববার (১ ডিসেম্বর) ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

এসব অবৈধ দোকান প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানী বলেছেন, কোনো প্রকার অনুমোদন ছাড়াই এসব দোকান বসানো হয়েছে। বারবার চেষ্টা করেও এসব দোকান আমরা বন্ধ করতে পারিনি। যত্রতত্র এসব দোকান বসানোর কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশও বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে এসব দোকান যাতে না থাকে সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, রোকেয়া হলের সামনের দোকানগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন রোকেয়া হল ছাত্রলীগের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার। এসব দোকান থেকে প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা নেন তিনি। শামসুন্নাহার হলের সামনের দোকানগুলো থেকে টাকা নেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি জিয়াসমিন শান্তা ও নিপো ইসলাম তন্বী। এগুলোর প্রতিটি থেকে ১০ হাজার টাকা করে নেন তারা। টিএসসির দোকানগুলোর নিয়ন্ত্রণ করে প্রক্টর অফিসের সেকশান অফিসার মো. রেজাউল করিম। শহিদ মিনারের সামনের দোকানগুলো নিয়ন্ত্রণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বেশ কয়েক জন নেতাকর্মী। এদিকে এস এম হল ও জহুরুল হলের সামনে দোকানগুলো থেকে চাঁদা নেন এস এম হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। পলাশীর দোকানগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের।

তাছাড়া প্রতিদিন সকালে এফ রহমান হলের সামনে কাঁচা বাজারের দোকান বসানোর অভিযোগ রয়েছে হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে নেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, ‘দোকানগুলো প্রথমে নীলক্ষেত আবাসিক এলাকার দিকে ছিল। পরে পুলিশ তাদের তুলে দিলে হাফিজ ভাইয়ের সহায়তায় এখানে দোকান বসায় তারা।’ এদিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে রয়েছে বেশ কয়েকটি দোকান। এসব দোকানের কয়েকটি ছাত্রলীগের ইয়াজ আল রিয়াদ নিয়ন্ত্রণ করেন। প্রক্টরিয়াল টিম দোকানটি বেশ কয়েকবার তুলে দিতে চাইলেও পারেনি।

তবে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তারা জড়িত নয়। তবে গরিব মানুষের সহায়তার জন্য মাঝে মাঝে তারা ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকটি দোকান দিয়ে থাকেন। সরেজমিন দেখা যায়, ক্যাম্পাসের উত্তর পাড়া হিসেবে পরিচিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বিজয় একাত্তর হল, কবি জসীমউদ্দীন হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, সূর্যসেন হল, মহসিন হল, স্যার এফ রহমান হল, সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ও এস এম হলকে কেন্দ্র করে দোকান রয়েছে প্রায় ৩০টিরও অধিক। অথচ এসব হলের শিক্ষার্থীদের জন্য হলের নিজস্ব পর্যাপ্ত দোকান রয়েছে। বিজয় একাত্তর হলের সামনের দোকানিরা জানায়, হলের সামনের দোকান থেকে চাঁদা দাবি করে বিজয় একাত্তর হল ছাত্র সংসদের জিএস নাজমুল হাসান নিশান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, সর্বশেষ ২০১৭ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ভ্রাম্যমাণ দোকান বরাদ্দ কমিটি ১৪টি দোকানের অনুমোদন দিয়েছিল। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো দোকান অনুমোদিত নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও অবৈধভাবে চলছে ১৪টির বাইরে অন্যসব দোকান। অনুমোদিত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে নীলক্ষেত আবাসিক এলাকার দুটি, কলাভবনের পশ্চিম পাশে ফটোকপি ও খাবারের দোকান আটটি, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, হাকিম চত্বর ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ চত্বরের পাঁচটি দোকান। ডাচের পশ্চিম পাশে খাবারের দোকানটি সিটি করপোরেশনের অধীনে রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, যত্রতত্র দোকান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ থাকছে না। এসব ভ্রাম্যমাণ দোকানের কোনো নিয়মনীতি না থাকায় ক্যাম্পাসের অপরিচ্ছন্ন হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এসব সমস্যার সমাধান করছে না কোনোভাবে।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ক্যাম্পাসের দোকান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে। দোকান থেকে চাঁদা তোলা ছাত্রলীগের কারো কাজ হতে পারে না। ছাত্রলীগের যেসব নেতাকর্মী এসব অবৈধ দোকানের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সনদ বিক্রিতে অভিযুক্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ - dainik shiksha সনদ বিক্রিতে অভিযুক্ত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখার বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে তৈরি করা মার্কেট অপসারণের নির্দেশ - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেয়াল ঘেঁষে তৈরি করা মার্কেট অপসারণের নির্দেশ নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা - dainik shiksha নীতিমালা সংশোধন কমিটির দ্বিতীয় সভায় এমপিওভুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনা এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সভা ১৫ ডিসেম্বর - dainik shiksha এমপিও পুনর্বিবেচনা কমিটির সভা ১৫ ডিসেম্বর সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত - dainik shiksha সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের দায়ে ৩ শিক্ষক বরখাস্ত এইচএসসি-আলিমের ফরম পূরণ শুরু - dainik shiksha এইচএসসি-আলিমের ফরম পূরণ শুরু জেএসসি-জেডিসির ফল ৩১ ডিসেম্বর - dainik shiksha জেএসসি-জেডিসির ফল ৩১ ডিসেম্বর লিফলেট ছড়িয়ে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তির গ্যারান্টি! - dainik shiksha লিফলেট ছড়িয়ে সরকারি স্কুল শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য, ভর্তির গ্যারান্টি! এমপিওভুক্তিতে কর্তৃত্ব কমলো ডিডিদের, বাড়লো শিক্ষা ক্যাডারের - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে কর্তৃত্ব কমলো ডিডিদের, বাড়লো শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা এমপিদের চিঠিতে এমপিও কেলেঙ্কারি - dainik shiksha শিক্ষামন্ত্রীকে লেখা এমপিদের চিঠিতে এমপিও কেলেঙ্কারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা - dainik shiksha ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের স্কুলের ছুটির তালিকা প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল বছরের শেষ দিনে - dainik shiksha প্রাথমিক-ইবতেদায়ি সমাপনীর ফল বছরের শেষ দিনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় - dainik shiksha দৈনিকশিক্ষার ফেসবুক লাইভ দেখতে আমাদের সাথে থাকুন প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮ টায় শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার আসল ফেসবুক পেজে লাইক দিন please click here to view dainikshiksha website