ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

ঢাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ

ঢাবি প্রতিনিধি |

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সংগীত বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন অধ্যাপক লীনা তাপসী খান (মুহসীনা আক্তার খানম) তার পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। নজরুল গবেষকদের বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে তিনি হুবহু কপি নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু কোন প্রকার গ্রন্থ-ঋণ স্বীকার করেননি। অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এজন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন নজরুল গবেষক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অধ্যাপক লীনা তাপসী খান জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের অধীনে পিএইচডি করেন। তার পিএইচডি গবেষণা ‘নজরুল সংগীতে রাগের ব্যবহার’ নামে বই আকারে বের হয়েছে। তবে, গ্রন্থের বিষয় নজরুল সংগীতে রাগের ব্যবহার হলেও সুরে রাগ ব্যবহারের বিশ্লেষণ নেই। তাই এটিকে অনেকেই অনুসন্ধান না বলে ‘একাধিক গ্রন্থের কোলাজ’ বলেছেন।

বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নজরুল গবেষক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় গত আগস্টে লীনা তাপসী খানের গ্রন্থ’টি সম্পর্কে একটি সমালোচনা লিখে তা বাংলা একাডেমির উপ-পরিচালক ড. তপন বাগচীর কাছে রেখে যান। সেখানে তিনি লিখেন- ২০১৪ সালের মে মাসে ‘সংগীত গবেষক নজরুল-প্রথম পর্ব’ গ্রন্থটি নজরুল ইনস্টিটিউট থেকে প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটির ‘নজরুল সৃষ্ট রাগ ও বন্দিশ’ অংশটি এর আগেই ২০০০ সালের জুলাই মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ২০০৮ সালের আগস্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত নজরুল রচনাবলী জন্মশতবর্ষ সংস্করনের অষ্টম খ-ের পরিশিষ্ট অংশে স্থান লাভ করে। ড. রফিকুল ইসলাম খান জানান, বন্দীদের পরিবর্তে বাংলা রাগ প্রধান যুক্ত করে দিলে ইনস্টিটিউট প্রকাশ করবে। সে অনুযায়ী, আমি নব তাল সংযোজন করে প্রকাশের জন্য তা নজরুল ইনস্টিটিউটে জমা দেই। নিয়মানুযায়ী, এ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য দুজন অনুমোদক প্রয়োজন। এর মধ্যে একটি অনুমোদন পাওয়া গেলেও আর একটি পাওয়া যায়নি। এর কয়েক বছর পর ২০১৪ সালে বইটি প্রকাশ পায়। কিন্তু এর মধ্যেই লীনা তাপসী খানের বইটি প্রকাশিত হয়ে যায়। বইটিতে নবসৃষ্ট তাল সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু এ সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তার বইয়ে অনেক ভুল তথ্য রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে আমার পূর্বে আর কেউ আলোচনা করে নি।

এদিকে, এসব বিষয়ে খোঁজ নিতে ক্যাম্পাসে কর্মরত এক সাংবাদিক লীনা তাপসী খানের কাছে গেলে তিনি রূঢ় আচরণ করেন। তিনি সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করেন এবং সে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল অধ্যাপক লীনা তাপসী খানের (মুহসীনা আক্তার খানম) মুঠোফোনে সাংবাদিক পরিচয়ে কল দেয়া হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি না। এ কথা বলেই তিনি কল কেটে দেন।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সংবাদকে বলেন, পিএইচডি গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি বড় ধরনের অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক যদি চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়ে পিএইচডি করেন, তবে তিনি খুবই গর্হিত অন্যায় করেছেন। আমাদের সমাজে অপরাধ প্রবণতা দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানেও (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে) দুর্নীতি চলে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে যদি চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়ে পিএইচডি করতে হয়, তাহলে বলব, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্যতাই তার নেই। তিনি নৈতিক এবং পেশাগত দিক থেকে অযোগ্য। চৌর্যবৃত্তির আশ্রয় নিয়ে থাকলে তার পিএইচডি বাতিল হয়ে যাবে বলে জানান এ শিক্ষাবিদ।

এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ সংবাদকে বলেন, তিনি যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করতে হবে। যারা বইটি প্রকাশ করেছেন, তাদেরও বিষয়টি খেয়াল রাখার দরকার ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিষয়টিকে আমলে না নেয়, সেক্ষেত্রে আমাদের এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার সুযোগ আছে।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সংবাদকে বলেন, নৈতিকতার সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকতে হবে আমাদের। আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

 

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ - dainik shiksha এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ দাখিলে পাস ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ - dainik shiksha দাখিলে পাস ৮২ দশমিক ৫১ শতাংশ এসএসসি ভোকেশনালে পাস ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ - dainik shiksha এসএসসি ভোকেশনালে পাস ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশ ১০৪টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি - dainik shiksha ১০৪টি প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ জুনের মধ্যে - dainik shiksha এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন ৭ জুনের মধ্যে এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী - dainik shiksha এখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না : প্রধানমন্ত্রী দাখিলের ফল জানবেন যেভাবে - dainik shiksha দাখিলের ফল জানবেন যেভাবে ৬ জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব - dainik shiksha ৬ জুন থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তাব এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানবেন যেভাবে - dainik shiksha এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল জানবেন যেভাবে এসএসসি-দাখিল ভোকেশনালের ফল জানবেন যেভাবে - dainik shiksha এসএসসি-দাখিল ভোকেশনালের ফল জানবেন যেভাবে নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে ৯ নির্দেশ - dainik shiksha নন-এমপিও শিক্ষকদের তালিকা তৈরিতে ৯ নির্দেশ কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha কলেজে ভর্তি : দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত - dainik shiksha বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল ১৫ জুন পর্যন্ত ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা - dainik shiksha ঘরে বসেই পরীক্ষা নেয়ার চিন্তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে - dainik shiksha শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ১৫ জুন পর্যন্ত, ৩১ মে থেকে অফিস-আদালত খুলছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website