তিন রেজিস্ট্রারের বিশ্ববিদ্যালয়! - বিশ্ববিদ্যালয় - দৈনিকশিক্ষা

তিন রেজিস্ট্রারের বিশ্ববিদ্যালয়!

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

তাঁরা তিনজন। সবাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। তাঁদের একজন প্রকৌশলী, অন্য দুজন কর্মকর্তা। তবে অধ্যাপক পদে সদ্য নিয়োগ পাওয়া এক শিক্ষক বিদেশে চিকিৎসা ছুটি নেওয়ায় রেজিস্ট্রার পদে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। রেজিস্ট্রারের একটি পদে কাগজে তিনজন দায়িত্ব পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক এই তালগোল পাকিয়ে গেছেন। ছুটিতে থেকেও তিনিই রেজিস্ট্রার পদে দুজনকে দায়িত্ব দিয়ে চিঠি ইস্যু করেন। একজনকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত এবং অন্যজনকে চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১২ মে) দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়, প্রতিবেদনটি  লিখেছেন রফিকুল ইসলাম।

 প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, রেজিস্ট্রার পদে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীন এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা অবস্থায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হক এই দুজনকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেন। তাঁদের মধ্যে মুরশীদ আবেদীনকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত এবং হুমায়ুন কবিরকে চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হাসিনুর রহমান ছুটিতে যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিধি অনুযায়ী সহকারী রেজিস্ট্রার খান সানজিয়া সুলতানাকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দিয়েছেন।

যেভাবে বিশৃঙ্খলা শুরু : এ বছরের ২৬ মার্চ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। আন্দোলনের মধ্যেই ১০ এপ্রিল রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হাসিনুর রহমান উপাচার্যের পক্ষে ছুটি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হাবিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত ৪৬ দিন উপাচার্যের ছুটি মঞ্জুর করেন। যদিও ২৭ মে পর্যন্ত উপাচার্যের মেয়াদ রয়েছে। উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানকে উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তিন রেজিস্ট্রারের বিশ্ববিদ্যালয় : উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই ১০ এপ্রিল রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হাসিনুর রহমান উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা ট্রেজারারের কাছে এ বছরের ৫ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চিকিৎসার জন্য বহির্বাংলাদেশ ছুটি মঞ্জুরের আবেদন করেন। হাসিনুরের সেই ছুটির আবেদন ৫ মে উপাচার্যের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী ৬ মে উপাচার্য তাঁর ছুটি মঞ্জুর করে সহকারী রেজিস্ট্রার খান সানজিয়া সুলতানাকে রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেন। তিনি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এদিকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই ১০ এপ্রিল রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা হাসিনুর রহমানের ছুটি ওই দিনই উপাচার্য ইমামুল হক মঞ্জুর করেন। হাসিনুরের আবেদনের ডান পাশে উপাচার্য ইমামুল হক ছুটি মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীনকে। ১০ এপ্রিল উপাচার্যের স্বাক্ষরিত সেই চিঠি ৭ মে কাউন্সিল শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার নিত্যানন্দ পালের ই-মেইলে উপাচার্য পাঠান। এই চিঠি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য বিপাকে পড়েন।

এখানেই শেষ নয়। উপাচার্য ইমামুল হক ছুটিতে থাকাকালে ১৭ এপ্রিল পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের উপপরিচালক হুমায়ুন কবিরকে রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে অর্থ ও হিসাব বিভাগের উপপরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুরকে পরিচালকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীনকে উপপ্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই পদে এস এম আবুল বাসার চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর চুক্তির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানকে উপপরিচালকের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্যের নির্দেশে ১৭ এপ্রিল তৎকালীন রেজিস্ট্রার হাসিনুর রহমান সেই আদেশে সই করেন। উপাচার্য ইমামুল হক এক দিনের জন্য ২৭ মে দায়িত্ব পাচ্ছেন। ওই দিনই তাঁর চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। শেষ কর্মদিবসে চলতি দায়িত্ব দেওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়টি সিন্ডিকেট অনুমোদন দিতে পারে। পাশাপাশি কমপক্ষে ২৪ জন দৈনিকভিত্তিক শ্রমিককে বিজ্ঞপ্তি কিংবা নিয়োগ বোর্ড গঠন ছাড়াই স্থায়ীভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়া ওই দিন চূড়ান্ত করতে পারে।

কেন চলতি দায়িত্বে : উপাচার্য তাঁর মেয়াদের শেষ সময়ে এসে কেন তাঁর অনুগত কর্মকর্তাদের ওপরের পদে চলতি দায়িত্বে দিচ্ছেন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, কর্মকর্তারা যাতে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ না দেন এ জন্য তাঁদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ যাঁরা এই দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরা এই পদে আসতে কয়েক বছর কাজ করতে হবে। তা ছাড়া চলতি দায়িত্বে থাকা পদগুলো ব্লক থাকে। ওই পদে নতুন করে নিয়োগও দেওয়া যায় না। তাই উপাচার্য তাঁর পছন্দের কর্মকর্তাদের চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। আন্দোলনের সময় দায়িত্ব দেওয়ায় তাঁরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা জানান, বরিশালে অবস্থানরত সিন্ডিকেট সদস্যরা ঢাকায় সভায় অংশ নেবেন না। কিন্তু পাঁচ সদস্যের উপস্থিতিতে সিন্ডিকেটের কোরাম হয়। উপাচার্যের খুব কাছের পাঁচ সদস্য ঢাকায় রয়েছেন। তাঁরা শেষ সময়ে উপাচার্যের অবৈধ কাজের বৈধতা দেবেন। তাই ২৭ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা ঢাকার লিয়াজোঁ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের আদেশের কপি ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে উপাচার্যের কক্ষে রয়েছে। কিন্তু ওই কক্ষের চাবি রয়েছে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের কাছে। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে সিন্ডিকেটের সভা করার জন্য উপাচার্য ইমামুল হক মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন।

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক হুমায়ুন কবির বলেন, ‘উপাচার্য আমাকে রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। রবিবার রেজিস্ট্রার পদে যোগদানপত্র জমা দেব।’

পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মুরশীদ আবেদীন বলেন, ‘আমাকে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই ধরনের কোনো কাগজ হাতে পাইনি। তবে শুনেছি আমাকে উপাচার্য উপপ্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দিয়েছেন। সেই কাগজও আমি হাতে পাইনি। পেলে ওই পদে যোগদান করব।’

উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান বলেন, ছুটিতে থাকা উপাচার্য রেজিস্ট্রার পদে দুজনকে দায়িত্ব দিয়েছেন। ১৭ এপ্রিল রেজিস্ট্রার পদে চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন হুমায়ুন কবির। কিন্তু গতকাল শনিবার তিনি ওই পদে যোগ দিতে এসেছিলেন। অফিস বন্ধ থাকায় তাঁর যোগদানের কাগজ রাখা হয়নি। একই পদে উপাচার্য ১০ এপ্রিল অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছেন মুরশীদ আবেদীনকে। সেই আদেশ উপাচার্য ৭ মে অফিসে পাঠিয়েছেন। একই পদে দুজনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও বর্তমানে রেজিস্ট্রার পদে খান সানজিয়া সুলতানা দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে।

১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল দেখুন - dainik shiksha ১৫তম শিক্ষক নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষার ফল দেখুন শিক্ষামন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করলেন শিক্ষকরা, অনশন ভঙ্গ (ভিডিও) - dainik shiksha শিক্ষামন্ত্রীর পা ছুঁয়ে সালাম করলেন শিক্ষকরা, অনশন ভঙ্গ (ভিডিও) আসছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ - dainik shiksha আসছে তৃতীয় চক্রে শিক্ষক নিয়োগ এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন কাল - dainik shiksha এমপিওভুক্ত হচ্ছে ২৭৬৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করবেন কাল মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা - dainik shiksha মহাসমাবেশে যোগ দিতে পারছেন না প্রাথমিক শিক্ষকরা এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের মানববন্ধন - dainik shiksha এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বেতন বঞ্চিত শিক্ষকদের মানববন্ধন ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত - dainik shiksha ডিগ্রি ১ম বর্ষ পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন - dainik shiksha শিক্ষার এক্সক্লুসিভ ভিডিও দেখতে দৈনিক শিক্ষার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website