তুঘলকি কায়কারবার - মতামত - Dainikshiksha

তুঘলকি কায়কারবার

দৈনিকশিক্ষা ডেস্ক |

তুঘলকি কাণ্ড কারখানা চলছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জুড়ে। দেখে শুনে তাজ্জব হতে হয়। সরকারী চাকরির বিধিমালার কোন তোয়াক্কা করা হয় না। যেন খেয়াল খুশির রাজত্ব। শুধু তাই নয়, অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার এ এক রাজ্য বৈকি। অনৈতিক কর্মকা- এমনভাবে গেঁড়ে বসেছে যে, তা থেকে উদ্ধার পেতে স্বয়ং প্রধান বিচারপতিকেই এগিয়ে আসতে হয়েছে। অনিয়ম চিহ্নিত করতে দুর্নীতি দমন কমিশন নানাবিধ চেষ্টা চরিত্তির চালিয়ে যাচ্ছিল। সরকারী চাকরি করলেও বদলি যেন এদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

রাজধানীর সরকারী ২৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪৭৬ জন শিক্ষক দশ বছর থেকে টানা সাতাশ বছর পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। শুধু ঢাকাতেই এই অবস্থা। অন্যান্য বিভাগ ও জেলার অবস্থা এখনও নিরূপণ করা হয়নি। কেউ ঢাকায় যাবার জন্য, আবার কেউ প্রাইভেট কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ আয়ের জন্য ঢাকায় থাকছেন। সরকারী চাকরি করলেও বদলি যেন এদের ক্ষেত্রে বেমানান। সরকারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী ও একজন চাকরিজীবীকে তিন বছর পর পর বদলি করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এসবের কিছুই মানছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতেও একই পদে বছরের পর বছর চাকরি করছেন অনেক কর্মকর্তা। বছরের পর বছর রাজধানীর একই সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪৭৬ শিক্ষক চাকরি করলেও তাদের নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের নেই কোন ভাবনা চিন্তা। অথচ এই শিক্ষকদের একটা বড় অংশ কোচিং বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। অনেক শিক্ষক রয়েছেন, যারা শ্রেণীকক্ষে ঠিকমতো পড়ালেখা না করিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে উৎসাহিত করেন আর সে কারণে কোচিং বাণিজ্যের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তাদের উদ্বেগেও টনক নড়ে না কারও। শিক্ষামন্ত্রী একদা জোরেশোরে কোচিং বাণিজ্য বন্ধের জন্য হাঁকডাকও দিয়েছেন। কিন্তু বন্ধ আর হয়নি কোচিং। বরং তিনি হাল ছেড়ে দিয়েছেন নিয়তির কাছেই। তাই কোচিং অব্যাহত রয়েছে। আর সেই কারণে শিক্ষকও বদলি হয় না। কারণ এরা সবাই কোচিং ব্যবসায় এত অর্থ সম্পদ করায়ত্ত করেছেন যে, সে অর্থে বদলি ঠেকিয়ে রাখা সহজ সাধ্য হয়েছে বলা যায়।

কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করার প্রক্রিয়ার নাম কোচিং। আভিধানিক অর্থ এটিই। লক্ষ্য ব্যক্তিগত বা পেশাগত হতে পারে। প্রশিক্ষণ ও উপদেশনার মাধ্যমে এ সহায়তা দেয়া হয়। যিনি দেন তিনি ‘কোচ’। শব্দটি ক্রীড়াঙ্গনে বেশি প্রচলিত। তবে গত চার দশক ধরে শব্দটি শিক্ষাঙ্গনেও চালু রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক বা উপদেশককে কোচ বলা হয় না, তিনি শিক্ষকই। ১৮৩০ সালের দিকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করানোর জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া চালু করেছিলেন কিছু শিক্ষক। বিষয়টিকে তেমন সুনজরে দেখা হয়নি। তাই নিন্দার্থে ‘কোচিং’ শব্দটি চালু হয়। দেশে আশির দশকে শিক্ষণের বিশেষ প্রক্রিয়া বোঝায় শব্দটি ব্যাপকতা লাভ করে। এখন শুধু চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য নয়, ভর্তি-চাকরি প্রভৃতি ব্যাপারেও ‘কোচিং’ লাগে। স্কুল শিক্ষকদের অনেকে এটি বাধ্যতামূলক করে তুলেছেন। তাদের কাছে কোচিং না করলে স্কুলের পরীক্ষায় ভাল করার নিশ্চয়তা নেই। এরাই প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত হয়ে পড়ে। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর ২৪টি স্কুলের ৫১২ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে দুদক। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সুপারিশ অগ্রাহ্য করে আসছে। দুদক বলেছে, সারাদেশেই কোচিংয়ের নামে ভয়াবহ বাণিজ্য ও অনৈতিক কর্মকা- চলছে। অভিভাবকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে সৃষ্টি করেছে বৈষম্য।

কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকটি সরকারী বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি যে সব শিক্ষক তিন বছরের বেশি সময় ধরে আছেন, তাদের অন্যত্র বদলি করে দেয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, বদলি না হওয়ার জন্য তো মন্ত্রণালয়Ñ অধিদফতর দায়ী। স্কুলের প্রশাসনিক পদে এই যে এত কর্মকর্তা বছরের পর বছর রয়েছেন, তাদের বিষয়েও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। এমনও দেখা গেছে কোন কোন স্কুলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ইংরেজী ও গণিত শিক্ষক কর্মরত। অথচ মফস্বলে এসব শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। যা সমন্বয় না করার পেছনে রয়েছে কোচিং বাণিজ্য। দুদক যে দায়িত্ব পালন করেছে তা অভিনন্দনযোগ্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলা যায়। প্রধান বিচারপতির ঘোষণানুযায়ী এসব শিক্ষক এবং কর্মকর্তাকে দ্রুত বদলি করা উচিত। একই সঙ্গে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত অবিলম্বে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের এসব কুকর্ম বন্ধ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে, এমন প্রত্যাশা দেশবাসীরও।

 

সৌজন্যে: জনকণ্ঠ

এমপিওভুক্তিতে প্রতারণা: মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি - dainik shiksha এমপিওভুক্তিতে প্রতারণা: মন্ত্রণালয়ের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি অক্টোবরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা - dainik shiksha অক্টোবরে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নতুন এমপিওভুক্তি: প্রতিষ্ঠান সরেজমিন যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর - dainik shiksha নতুন এমপিওভুক্তি: প্রতিষ্ঠান সরেজমিন যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পদোন্নতি পেলেন ৪২০ সহকারী শিক্ষক - dainik shiksha পদোন্নতি পেলেন ৪২০ সহকারী শিক্ষক ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ - dainik shiksha ১ম ও ২য় শ্রেণির চাকরিতে কোটা না রাখার সুপারিশ দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষায় বিজ্ঞাপন পাঠান ইমেইলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া - dainik shiksha জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে খোলা সব ফেসবুক পেজই ভুয়া please click here to view dainikshiksha website